ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচ
বন্ধু তোমায় মনে পড়ে
১২ নভেম্বর, ২০১৪ ইং
বন্ধু তোমায় মনে পড়ে
 

‘দেখা হবে বন্ধু, কারণে আর অকারণে/দেখা হবে বন্ধু চাপা কোন অভিমানে/দেখা হবে বন্ধু সময়ের বৈরীতায়/দেখা হবে বন্ধু নিষ্ঠুর অপারগতায়।’ এ গানটি বাংলাদেশের এক শ্রেনির মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়। যে শ্রেনির মানুষগুলো এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে অগ্রগামী। পথ চলতে চলতে যাদের সাথে সন্ধি করা হয়েছিল সেই সব মানুষগুলোকে ছেড়ে যাওয়ার এক বিরহের বারতা এই গানে। যেখানে সমযের বাস্তবতা আর বন্ধুত্বের দাবির ভালবাসা জড়িত। যারা বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়ার জোগাড় নয় তারা এ কথার মর্মার্থ ১৬ আনার ভিতর ১৪ আনাই বুঝবে না। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বন্ধু বিরহের এ সময় পার করছেন।

‘বন্ধুত্ব কি, এর সংজ্ঞা দেয়া বড় দুষ্কর। বছরের পর বছর পার হয়ে যাবে তবে এর সংজ্ঞা মিলবে না। এটি অন্তরের গহীন থেকে নিঃশব্দে উপলব্ধির বিষয়। এটি কখনও ছিন্ন হয় না।’ বলছিলেন বিভাগের ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী ওবায়েদ উল্লাহ জাকি। তার ব্যাচ সম্প্রতি বিবিএ (স্নাতক)  এবং এমবিএ (স্নাতকোত্তর) শেষ করে একটি উচ্চগামী ধাপের দিকে অগ্রাসর হচ্ছে। তারা যে স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবর্তণ করেছিলেন, সেই স্বপ্নকে এখন ভিন্ন মাত্রায় রুপ দিতে তারা চলছেন এক বিবর্তনের পথে। যেখানে সময় ও জীবন একই ধারায় চলমান। এখানেই অনুভব হয় বন্ধুত্বে টান। মন ছেড়ে যেতে না চাইলেও সময়ের তাগিদে বন্ধুকে ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করে এখন এ শিক্ষা বাস্তাবে প্রতিফল ঘটাতে তারা কর্মকে বেছে নিবেন। আর কর্ম সবার এক ধরনের হবে না। বন্ধুদের ছাড়তে হচ্ছে, কি বলবেন এমন প্রশ্নে একই ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারজানা অক্তার বলেন, ‘না তো বন্ধুদের ছাড়ছি না। বন্ধুদের ছাড়া যায় না। কিছু সময় চোখের আড়াল হচ্ছি।’ তিনি ছাড়ার কথা মানতে নারাজ। তার কথার সাথে জাকিয় সুলতানা যোগ করলেন, ‘এ কয়েক বছরে কেমন যেন একটা বন্ধনের সৃষ্টি করেছি আমরা।’ কথা বলতে বলতে তার গলাটা একটু ভারি হয়ে এলো। এটা কি আবেগ, তবে হোক না। আবেগ দিয়ে জীবন চলে না। তবে আবেগ ছাড়া কি জীবন চলতে পারে?

কুমিল্লার বুকে বিশাল লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে শির উন্নত করে দাঁড়িয়ে আছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। পাহাড়ের মাথায়, উপত্যাকায় এর আধুনিক ভবনগুলো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। এখানে প্রকৃতির মায়া আর আধুনিকতা মিলিত হয়েছে। এর সাথে বিশালভাবে লেপ্টে আছে বন্ধুত্বে ভালবাসা। আশিস দেবনাথ বন্ধুত্বে কথা বলতে গিয়ে একটু স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘সবাই ভাল থাকুক, এটি কামনা করি। বাস্তবতা হয়ত আর তেমনভাবে কাছে আনবে না। আমরা চরমভাবে বাস্তবতার কাছে জিম্মি। ভবনের সিঁড়ি মাড়িয়ে অনুষদ ভবনে উঠার মত করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বপ্নও উঠেছে আকাশের দিকে। এখানে সব সময় চলে বন্ধুত্বের প্রনোচ্ছল জোয়ার। যে বন্ধুদের ছাড়ছে ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২য় ব্যাচ। এরপর বন্ধুদের সাথে দেখা হবে সময়ের বাস্তবতায় বিভিন্ন রুপে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি অনুষদের নীচে, কাঁঠাল তলা, কুষ্ণচূড়া তলা, আম তলা, তাল তলা, মিড পয়েন্ট প্রতিটি জায়গায় ছোট-বড় করে চলছে শিক্ষার্থীদের আড্ডা। বন্ধু ছাড়া এখন তাদের দিনের সকালও হয় না। অগ্রগামী এ ব্যাচের মতই তাদেরকেও এক সময় বন্ধুদের ছাড়তে হবে -এ কথা কি তাদের জানা। অজানা থাকাই ভাল কেননা তাহলে উচ্ছ্বাসটা মলিন হয়ে যাবে। সবাই ভাল থাকুক। ভাল থাকুক বন্ধুত্ব।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন