বিকেএসপি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
মোবাশ্বেরা জাহান১৪ জানুয়ারী, ২০১৫ ইং
বিকেএসপি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
চলতি মাসের ১২ জানুয়ারি ঢাকা বিভাগে প্রাথমিক বাছাই হয়।

 

রাজশাহী ও রংপুরে প্রাথমিক বাছাই হয় ১৩ জানুয়ারি।

 

চট্টগ্রাম ও সিলেটে হবে চলতি মাসের ১৪ তারিখে।

 

বরিশাল ও খুলনায় ১৫ তারিখ।

 

নিয়াজ আলম। পড়ছেন অষ্টম শ্রেণিতে। ক্রিকেট পাগল ছেলেটা। ভালো লাগে সাকিব আল হাসানের খেলা। গত বছর ভর্তি হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিতে। নিয়াজের স্বপ্ন একদিন খেলবেন জাতীয় দলে। এমন খেলাপাগলদের ইচ্ছে পূরণে কাজ করছে বিকেএসপি।

১৯৮৬ সাল থেকে চলছে দেশের ক্রীড়া শিক্ষার একমাত্র সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি। এখান থেকে উঠে এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিষেক টেস্টের অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়, বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, বর্তমান অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, নাসির হোসেন, আবদুর রাজ্জাক, সোহরাওয়ার্দী শুভ, নাঈম ইসলাম, নাজমুল হোসেন ও শাহাদাত হোসেনসহ অনেক খ্যাতিমান ক্রিকেটার। শুধু ক্রিকেট নয়, দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও এ প্রতিষ্ঠান রেখে চলেছে অনন্য অবদান। কমনওয়েলথ গেমসে শ্যুটিংয়ে স্বর্ণপদক জয়ী আসিফ হোসেন খান, খ্যাতিমান হকি খেলোয়াড় রাসেল মাহমুদ জিমি, জাতীয় ফুটবলার জাহিদ, এমিলি, বিকেএসপির সাবেক ছাত্র।

সম্পূর্ণ আবাসিক এ প্রতিষ্ঠানে সকাল ৭টা থেকে ৯টা আর বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলে খেলাধুলার প্রশিক্ষণ। সেই সঙ্গে নিয়ম করে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা।

প্রতিবছর বিকেএসপিতে মোট ১৭টি ইভেন্টে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। ইভেন্টগুলো হলো ক্রিকেট, হকি, বাস্কেটবল, ফুটবল, বক্সিং, অ্যাথলেটিকস, জিমন্যাস্টিকস, সাঁতার, টেনিস, শ্যুটিং, জুডো, আরচ্যারি, টেবিল টেনিস, ভলিবল, তায়কোয়ানডো, উশু ও কারাতে। এর মধ্যে আরচ্যারিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে কেবল মেয়েরা। আর ছেলে-মেয়ে উভয়েরই আবেদনের সুযোগ রয়েছে ক্রিকেট, অ্যাথলেটিকস, জিমন্যাস্টিকস, সাঁতার, টেনিস, শ্যুটিং ও জুডো এ সাতটি ইভেন্টে। বাকি ৯টি বিভাগে কেবল ছেলেরাই আবেদনের সুযোগ পাবে।

১৭টি খেলার মধ্যে ক্রিকেট, হকি, বাস্কেটবল, ফুটবল, অ্যাথলেটিকস, শ্যুটিং, জুডো, আরচ্যারিতে এবং ভলিবল বিভাগে কেবল সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়ারাই আবেদন করতে পারবে। বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, সাঁতার, টেনিসে আবেদন করতে পারবে চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে টেবিল টেনিস, তায়কোয়ানডো, উশু, কারাতে এ চারটি বিভাগে।

বিকেএসপিতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে তিনটি ধাপ অনুসরণ করা হয়। এগুলো হলো প্রাথমিক বাছাই, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ এবং চূড়ান্ত নির্বাচন। প্রাথমিক বাছাইয়ে অংশ নেয়ার জন্য প্রার্থীকে নির্ধারিত তারিখে সকাল ৮টার মধ্যে সাভারের আশুলিয়ার জিরানীতে অবস্থিত ঢাকা বিকেএসপিতে উপস্থিত হতে হয়। সেখানে বিকেএসপি অফিস থেকে নিবন্ধন ফরম সংগ্রহ করে তা পূরণ করতে হয়। তারপর বয়স নির্ধারণ ও শারীরিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য নেয়া হবে ডাক্তারি পরীক্ষা।

শারীরিক যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য নেয়া হবে ফিটনেস পরীক্ষা। তারপর অংশ নিতে হবে ব্যবহারিক পরীক্ষায়। মেডিক্যাল ও ফিটনেস টেস্টে উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই কেবল ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে। প্রাথমিক বাছাইয়ের দিন প্রার্থীকে সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি রঙিন ছবি আনতে হবে। এছাড়া সঙ্গে আনতে হবে ক্রীড়া সরঞ্জামাদি ও পোশাক। 

ব্যবহারিক পরীক্ষায় নিজ নিজ খেলায় খেলোয়াড়দের দক্ষতা দেখে বিকেএসপির নির্বাচকরা প্রাথমিকভাবে কিছু শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করবেন। তারপর বিকেএসপির প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে আয়োজন করা হবে পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শেষে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেয়া হয়। এর মধ্যে ৬০ নম্বর ব্যবহারিক এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা। ব্যবহারিক পরীক্ষায় খুঁটিনাটি বিভিন্ন বিষয় দেখেন প্রশিক্ষকরা। ক্রিকেটে ভর্তির ক্ষেত্রে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিনটি দিকই দেখা হয়। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং ক্রীড়া বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হয়। সর্বশেষ শ্রেণির সিলেবাস অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন করা হয়।

ব্যবহারিক এবং লিখিত পরীক্ষার সমন্বিত ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত নির্বাচন করা হয়। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ঢাকা বিকেএসপির পাশাপাশি দিনাজপুর বিকেএসপিতে ক্রিকেট, ফুটবল ও সাঁতার, খুলনা বিকেএসপিতে টেবিল টেনিস ও ফুটবল, বরিশাল বিকেএসপিতে ভলিবল, কারাতে এবং চট্টগ্রাম বিকেএসপিতে উশু ও তায়কোয়ানডো পরিচালিত হয়। ভর্তির সময় শিক্ষার্থীকে পাঁচ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়। এছাড়া নিজ খরচে সংশ্লিষ্ট খেলার সরঞ্জামাদি এবং পোশাক কিনতে হয়। বেতন দিতে হয় তিন মাস অন্তর, এটি নির্ধারিত হয় অভিভাবকের মোট বার্ষিক আয়ের ওপর। তবে মেধাবী অথচ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য আছে বেতন মওকুফের ব্যবস্থা। বিকেএসপিতে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষকরা। অভ্যন্তরীণ ক্লাব এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার সুযোগ তো আছেই। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- www.bksp-bd.org।

ছবি: রেজা চৌধুরী

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:২৩
যোহর১২:০৮
আসর৩:৫৭
মাগরিব৫:৩৫
এশা৬:৫২
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩০
পড়ুন