প্রি য় মু খ
অনন্যার অনন্য অর্জন
আল কেমি১৪ জানুয়ারী, ২০১৫ ইং
অনন্যার অনন্য অর্জন
 

মেয়ে তুমি চার দেয়ালে বন্দী। তোমার ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা, ভালো লাগা এখানে অর্থ রাখে না। ঘরের কর্তার কথায় তোমার ওঠা-বসা, কর্তার চাওয়াই তোমার চাওয়া। এক যুগ পেছনে তাকালে দেশের সমাজ ব্যবস্থা বলে, এমনই ছিল নারীদের অবস্থান। কিন্তু বর্তমান সমাজে সে অবস্থান থেকে অনেকাংশেই এগিয়ে নারী। পুরুষের থেকে কায়িক দিকে নারী জাতি পিছিয়ে থাকলেও নিজেদের মেধা আর শিক্ষা দিয়ে ঠিকই পাশে দাঁড়াতে সক্ষম তারা। মেধা শক্তি দিয়ে নিজের জায়গা করে নেওয়া এমন এক মুখের নাম মালিহা মাহফুজ অনন্যা। শিক্ষারত আছেন বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিতে। নিজের প্রতিভা আর ভালো রেজাল্ট দিয়ে ক্যাম্পাসে সবার প্রিয় হয়ে আছেন ‘অন্যা’ নামে।

বাবা মাহফুজ-উর-রহমান ছবি আঁকতেন, আবৃত্তি করেছেন বাংলাদেশ বেতারেও। আড়াই বছর বয়সে অন্যার বাবা মারা গেলেও রেখে যান নিজের অঙ্কন আর বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি। ছোটবেলা থেকে তাই বাবার এঁকে যাওয়া চিত্রকর্ম আর রেখে যাওয়া বাদ্যযন্ত্র দেখে গান গাওয়া আর ছবি আঁকতে উত্সাহিত হওয়া। গান করতেন বড় বোন অর্চির সঙ্গে। সেই সুবাদে আন্তঃস্কুল এবং উপজেলায় প্রথম হলেও কলেজে উঠে গানটা আর গাওয়া হয়নি। কিন্তু বরাবরের মতোই চলতে থাকে চিত্রাঙ্কন। ক্লাস থ্রি-ফোরের বাচ্চা মেয়ে অন্যার আলপনা আর বিভিন্ন কার্টুন চরিত্র অঙ্কন দেখে অনেকেই বলত চারুকলার কথা। সেই থেকে ছোট্ট মেয়ের মনে বীজ বপন হলো ডিজাইনার হওয়ার। পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম শ্রেণি পেরিয়ে বড় হতে থাকা অন্যার লক্ষ্য তখন একটাই— ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার হব না; হলে ফ্যাশন ডিজাইনারই হব।

স্কুল আর কলেজ গণ্ডি পেরিয়ে সময় এল পায়ের বলকে গোল পোস্টে পাঠানোর   প্রস্তুতি নেওয়ার। প্রস্তুতি এবার নিজের লক্ষ্য পূরণ করে চাকরিজীবী মা আসমা-উল-হোসনার জন্য কিছু করার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় সুযোগ এল পড়ার মৃিশল্প নিয়ে। মানুষের ছবি আঁকানোতে মা কিঞ্চিত্ দ্বিমত করলে সোজা বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনলজিতে ভর্তি। ফ্যাশন ডিজাইনার থেকেও স্বপ্ন এবার বড় হয়ে গেল অন্যার। স্বপ্ন নিজের ফ্যাশন হাউজ, নিজের ব্র্যান্ড, নিজের ম্যাগাজিন আর নিজের ফটোগ্রাফি সেকশন। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের খাতিরে উঠেপড়ে লাগা পড়ালেখা আর ফ্যাশন ঘাঁটাঘাঁটি নিয়ে। নিজের মেধা শক্তি, অদম্য চেষ্টা এবং শিক্ষকদের উত্সাহ আর সাহায্যে প্রত্যেক সেমিস্টারেই সেরাদের সেরা ফলাফল করে আসেন। পঞ্চম সেমিস্টার শেষে গড় সিজিপিএ-৩.৯৪, তিন সেমিস্টারে চারে চার থাকলেও অল্পের জন্য হয়নি দুটোতে। ভালো ফলাফলের সুবাদে এবার সুযোগ এল স্কলারশিপ নিয়ে ইন্ডিয়ার ন্যাশনাল ফ্যাশন ইনস্টিটিউটে পড়ার।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:২৩
যোহর১২:০৮
আসর৩:৫৭
মাগরিব৫:৩৫
এশা৬:৫২
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩০
পড়ুন