অর্থনীতির বিশ্ব সম্মেলন বাংলাদেশের দশ ছাত্র
নাদিম মজিদ১৪ জানুয়ারী, ২০১৫ ইং
অর্থনীতির বিশ্ব সম্মেলন বাংলাদেশের দশ ছাত্র
সম্প্রতি ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সাউথ এশিয়ান ইকনোমিক্স স্টুডেন্ট মিট (সাসেম)’। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি নিয়ে তরুণ শিক্ষার্থীরা ভাবনা উঠে এসেছে এ সম্মেলনে। সম্মেলনের অভিজ্ঞতা শুনিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়া ঢাবি শিক্ষার্থী রুবাইয়া মোরশেদ।

প্রতিবছর দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের  অর্থনীতি বিভাগের সেরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় স্টুডেন্ট সামিট। সে ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে ভুটানের থিম্পুতে। আগামী প্রজন্মকে সুন্দর করে গড়তে পৃথিবীতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার জন্য প্রয়োজন মন-মানসিকতা। এ কাজের জন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞতা। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঝে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কাজ এ সম্মেলনে হয়ে থাকে।  এটি একটি প্রতিযোগিতামূলক সম্মেলন, যেখানে সার্কভুক্ত প্রতিটি দেশের ১০জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ভারত বড় দেশ হওয়ায় তাদের দেশ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয় এবং মালদ্বীপে বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় সে দেশ থেকে কোনো শিক্ষার্থী অংশ নেয় না। সম্মেলনে পেপার প্রেজেন্টেশন, কুইজ, প্যানেল ডিসকাশন, ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন ছিল।

এবারের সম্মেলনটি ছিল ১১শ। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা: সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ।’ এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পেপার এবং প্রস্তাবনাগুলো সাজানো ছিল। সব পেপারে উঠে এসেছে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের জন্য দেশসমূহের সমঝোতা এবং ঐক্যের অঙ্গীকার। আঞ্চলিক প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ, আগামী প্রজন্মকে সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে হলে দেশসমূহের মাঝে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সম্মেলনের ফাঁকে ফাঁকে আমরা থিম্পু এবং পারোতে বেড়াতে গিয়েছি। বুদ্ধ পয়েন্ট, তাকশায়, পারো রিভার,  তাকিং জুসহ বিভিন্ন জায়গার সৌন্দর্য অবলোকন করতে পেরেছি।

তাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্থাপত্যগুলো আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমরা যে সময়ে গিয়েছি, সে সময় বেশ শীত পড়ছে। রাতে তাপমাত্রা মাইনাস পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও গিয়েছিল। ফেরার পথে আমরা মাইনাস তিন ডিগ্রি সেলসিয়াসের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি। আমাদের ফ্লাইট ছিল সকাল সাড়ে সাতটায়। ভোর সাড়ে পাঁচটায় হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় তাপমাত্রা ছিল মাইনাস তিন ডিগ্রি। আমাদের গায়ে তিন স্তরের জামা-কাপড়, পায়ে বুটস, মাথায় মাফলার ছিল। তারপরও আমরা ঠকঠক কাঁপছিলাম।

সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে আমার সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অন্য যে সকল শিক্ষার্থী ছিল, তারা হলো আভিয়া নাহরিন, ফারিয়ানা রফিক, ফারজানা শিরিন, শায়লা মাহমুদ, সিরাজুম মনিরা ফারিন, কাজী গোলাম তাশফিক, নাহিয়ান বিন খালেদ, সাদত আনোয়ার সানি, মাহমুদ মোত্তাকি। 

সম্মেলনে ‘কস্ট অব ইকনোমিক নন কো-অপারেশন টু দি কনজিউমারস ইন সাউথ এশিয়া’ থিমে সিরাজুম মনিরা ফারিনের উপস্থাপন করা পেপার বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে। যা আমাদের সম্মেলনে অংশগ্রহণকে আরো আনন্দদায়ক করেছে। এ সম্মেলন আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। বিখ্যাত অর্থনীতিবিদদের কাছ থেকে অর্থনীতি বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখতে পেরেছি। সম্মেলন থেকে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল, অর্থনীতিকে আরো গভীরভাবে জানতে পেরেছি।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:২৩
যোহর১২:০৮
আসর৩:৫৭
মাগরিব৫:৩৫
এশা৬:৫২
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩০
পড়ুন