ভালো মানুষ গড়ে তোলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ
২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
ভালো মানুষ গড়ে তোলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ
শিক্ষার্থীদের

কথা চিন্তা করে দেশে একের পর এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হচ্ছে। দিনের পর দিন উন্মোচন হচ্ছে উচ্চ শিক্ষার দুয়ার। তারপরেও কতটা উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো? এসব নিয়ে কথা বলেছেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ডা. এ এম শামীম। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যত্ কেমন?

ডা.এ এম শামীম: দেখেন যারা উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে তাদের ৬৫ ভাগই এখন ভর্তি হচ্ছে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। বাংলাদেশের বাইরেও পৃথিবীর অন্য দেশেগুলোতে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থাকে। বর্তমান বিশ্বের নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিন্তু প্রাাইভেট। সব মিলিয়ে যদি চিন্তা করি, তাহলে বলতে পারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই আমাদের ভবিষ্যত্। আমরাও একদিন হাভার্ড বা শান্তিনিকেতনের মতো প্রতিষ্ঠান পাবো।

পাবলিক এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যে একটি

ফারাক আছে সেটি কিভাবে দেখেন?

ডা.এ এম শামীম:  এখন দেখবেন ধনী পরিবারের সন্তানরা বেশি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেখবেন ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থী বেশি। তারা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ফারাকটা এক সময় ছিল, পাবলিক মানেই ভালো, প্রাইভেট মানেই খারাপ। মানুষের ধারণা আসলে বদলে যাচ্ছে। বড় কথা হচ্ছে, কোন একজন  শিক্ষার্থী যদি দ্রুত পড়াশুনা শেষ করতে চায়, ঢাকায় অবস্থান করতে চায় তারাই              কিন্তু প্রাইভেট বেছে নেয়। আর সবার তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে  সুযোগ হয় না।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিন্তু বদনামও আছে...

ডা. এ এম শামীম: আমরা বলবো এটি হচ্ছে মুক্তবাজার অর্থনীতি। সাধারণ মানুষ যেটায় ভালো দেখে সেটাই যায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যারা ভালো করবে তারা টিকে থাকবে আর যারা খারাপ করবে তারা হারিয়ে যাবে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভালো বা খারাপটা কিন্তু সাধারণ মানুষই বলবে। তবে আমি বলব, আমাদের যে ঘাটতি আছে সেটা হচ্ছে টিচারদের ঘাটতি। এই যেমন ঢাবি, বুয়েট এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক দিয়ে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে। তা করা যাবে না। আগে সার্বক্ষণিক শিক্ষক নিশ্চিত করতে হবে। আরেকটা কথা, যারা আগে পাবলিকে সুযোগ পেত না তারা কিন্তু বিদেশে পড়তে যেত। তখন একজন শিক্ষার্থীর গ্র্যাজুয়েশন করতে কমপক্ষে দুই কোটি টাকা খরচ হতো। এরা টাকাগুলো হুন্ডি করে নিয়ে যেত। অথচ এখন কিন্তু ওরাই দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ছে এর ফলে দেশে কিন্তু অনেক টাকা বেঁচে যাচ্ছে। আমরা একটা ফ্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে বকাঝকা করি এটা কিন্তু ঠিক না। দেশের বাইরে আগে অনেক শিক্ষার্থী পড়তে যেত এখন কিন্তু এই হার অনেক কমেছে। কারণ দেশে ভালো প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠছে।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কি?

ডা. এ এম শামীম: ভালো মানুষ তৈরি করা। একজন ভালো মানুষ তৈরি করলে সেই মানুষটা মাধ্যমে আরো বিশজন মানুষ আলোকিত হবে। এটাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকতা।

আপনার স্টেট ইউনিভার্সিটিকে আগামী দশবছর পর

কোথায় দেখতে চান?

ডা. এ এম শামীম: আমরা চাই ভালো ছেলে-মেয়েরা যারা একটি উন্নত জীবন চায়, উন্নত ভবিষ্যত্ চায়, ভালো মানুষ হতে চায়, সোসাইটিতে কন্ট্রিবিউশন রাখতে চায় তারা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে প্রথম প্রাধান্য দিবে স্টেট ইউনিভার্সিটিকে। সেটা যদি ২০২৫ সালের মধ্যে করতে পারি সেটাই হবে আমার বড় অর্জন।

ট্রাস্টি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আপনার কাজটি

কিভাবে করেন?

ডা. এ এম শামীম:  বিশ্ববিদ্যালয়টিকে তদারকি করা। এখানে অনৈতিক কিছু হয় কিনা, সরকারি নিয়ম-কানুনগুলো বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুনগুলো মানা হচ্ছে কিনা, সেগুলো নিশ্চিত করাই হচ্ছে আমার কাজ। অন্যান্য জায়গায় ট্রাস্টিবোর্ডের লোকজন দূরে থাকে আর আমরা সবসময়ই সঙ্গে থাকি। ট্রাস্টি এবং টিচারদের মধ্যে সুসম্পর্ক রাখি। মনে রাখতে হবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বীজ কিন্তু আসল। বিশ্ববিদ্যালয়ের বীজ ট্রাস্টি। ট্রাস্টি ভালো হলে বিশ্ববিদ্যালয় ভালো হতে বাধ্য।

ছবি: আবুল বাশার

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:১১
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন