ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হল
আমরা যেমন আছি
মো. আল আমিন০৫ এপ্রিল, ২০১৭ ইং
আমরা যেমন আছি
 

গল্পটা এবার বিজয় একাত্তর হল নিয়ে। এক হাজার আসন বিশিষ্ট এ হলটি ২০১৩ সালের ১৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ ছাত্রদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। ১১তলা বিশিষ্ট সুউচ্চ তিনটি ভবন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা যে কারো চোখে একটু শান্তির পরশ দিতেই  পারে। প্রথম দর্শনে মনে হতেই পারে আপনি বিদেশের খ্যাতনামা কোনো ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। আকাশছোঁয়া ভবনগুলোকে একটু সবুজের ছোঁয়া দিতেই হয়ত সামনে রয়েছে চোখ ধাঁধানো ফুলের বাগান। বাগানে হরেক রকম ফুল। সকালের শিশির ভেজা হাসিমাখা ফুলগুলো যেন প্রতিটি ছাত্রের মনে এক আনন্দের পরশ যোগায়। যেন পরম মমতায় ভুলিয়ে দেয় সকল দুঃখ বেদনাকে। যেন বলে উঠে ‘যেতে হবে বহুদূর’।

বিজয় একাত্তর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর মাঝে সবচেয়ে আধুনিক। সুযোগ সুবিধায় পরিপাটি এ হলটি ছাত্রদের বসবাসের প্রিয় জায়গা। কোনো কিছুরই যেন কমতি নেই এখানে। দুইটি বড় রিডিং রুম, নামাজ ঘর, ক্যারিয়ার ক্লাব, গেমস রুম, জিমনেসিয়াম ইত্যাদি সব আধুনিক সুবিধা দিয়ে সাজানো হয়েছে এ হলটি। এখানে বসবাসকৃত ছাত্রদের মেধাকে বিকশিত করার জন্য রয়েছে ডিবেটিং ক্লাব ও আলাদা আলাদা  কুইজ ক্লাব। বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফকীর রাসেল আহমেদ বলেন, আমি আমার হল নিয়ে গর্বিত। এখানে কোনো কিছুরই কমতি নেই। হলে থাকার মজাই অন্যরকম। এখান থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। যারা হলে থাকে তাদের সবার পড়াশুনা ভাল হয়। গ্রুপ প্রাক্টিস করে যেকোনো সমস্যা সমাধান করা যায়। আমাদের কিছু আবাসন সংকট আছে। ১০০০ আসনের বিপরীতে এখানে থাকছে প্রায় ১৬০০ জন। এক্ষেত্রে আমাদের হলে যারা বড় ভাই আছেন তারা যদি নিজেরা একা এক রুমে না থেকে তাদের রুমটাকে শেয়ার করেন তাহলে হয়ত আমাদের হলের আবাসন সংকট কিছুটা কমবে। আমিন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরেকটু জোরদার করা উচিত। সাধারণত দেখা যায় হলে অনেক সময় অনেকের বন্ধু বা অতিথি আসে। যারা আসে তাদের ব্যাপারে কোনো  খোঁজ নেওয়া হয় না বা তাদের কোনো তথ্য রাখা হয় না। আমি মনে করি জঙ্গিবাদ রোধে অপরিচিত যারা হলে প্রবেশ করবে তাদের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য রাখা উচিত। এ ব্যাপারে হল কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমি মনে করি।

ছাত্রজীবনের একটি বড় অংশ কাটে হলে। অনেকের ধারণা হলে সিট পাওয়া কঠিন বা রাজনৈতিক ক্ষমতা ছাড়া সিট পাওয়া যায় না। হলের পরিবেশ ও খাবার দাবারের মান ভাল না। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, পড়াশোনা হয় না ইত্যাদি নানান কথা। মনোবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো:ওয়াহিদ আনোয়ার রনো  বলেন, বাইরে থেকে মানুষ না জেনে অনেক কথা বলে। আমাদের হলে কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব নেই। এখানে সবার সমান সুযোগ। কোনো সমস্যায় পড়লে সিনিয়ররা আমাদের সমস্যা সমাধান করে দেয়। হলে থাকলে পড়াশুনা অনেক ভাল হয়। দেখা যায় যারা হলের বাইরে থাকে তারাও পরীক্ষার আগে ভাল প্রস্তুতি নেবার জন্য হলে চলে আসে। সবমিলিয়ে আমরা সবাই খুব ভাল আছি।

হল জীবন ছাত্রজীবনের একটি বড় অধ্যায়। এখানে বসবাসের মাধ্যমে জীবনকে সঠিক রূপে রূপায়িত করা যায়। হল জীবন থেকেই শিখা যায় মানবতাকে। এখান থেকেই গড়ে উঠে সম্পর্কের এক সুবিশাল নেটওয়ার্ক।

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন