ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
নবীন পরশে...
রুমি নোমান০৫ এপ্রিল, ২০১৭ ইং
নবীন পরশে...
 

সকাল ১০টা। কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আকাশে হঠাত্ হেলিকপ্টার ওড়ার শব্দ। কেউ আনমনে আকাশের দিকে একটু তাকাল আবার কেউ তাকাল না। কারণ ইবির আকাশে হেলিকপ্টার এভাবে প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু সকলের চোখ ছানাবড়া হয়ে উঠল যখন হেলিকপ্টারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে কয়েক চক্কর দিয়েই ফুটবল মাঠে নেমে পড়ল। হেলিকপ্টারটি মাটিতে অবতরণ করতেই নেমে এলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শাহ মঞ্জুরুল হক। এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রথম অ্যালামনাই সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছিলেন বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র শাহ মঞ্জুরুল হক। সম্প্রতি আইন বিভাগের প্রথম অ্যালামনাই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

১৯৮৮-৮৯ শিক্ষাবর্ষে যাত্রা শুরু করা এই বিভাগ ২৯টি বছর পার করেছে। এরই মধ্যে অনেকেই বিচারপতি হয়েছেন, কেউবা ব্যারিস্টার আবার কেউবা বিখ্যাত আইনজীবী, আবার কেউবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছেন। কিন্তু কেউই নিজের নীড়কে ভুলে যাননি। তাইতো আইন বিভাগের প্রথম অ্যালামনাই সম্মেলনে যোগ দিতে ছুটে এসেছেন দূর থেকে। প্রথম অ্যালামনাই সম্মেলন উপলক্ষে আইন বিভাগ সেজেছিল বর্ণিল সাজে। বিভাগের মেঝেতে আল্পনা অঙ্কনসহ আরও কত কি! সিঁড়ি, প্রবেশপথ বেলুন ও ফুলের রঙিন সাজে মোড়ানো হয়। তাই বলে নিজেদেরকে সাজাতে কিন্তু ভুল করেনি কেউ! মেয়েরা লাল শাড়ি আর ছেলেরা লাল পাঞ্জাবি বা স্যুট-কোট-টাই। এবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় বহু কাঙ্ক্ষিত সম্মেলনের মূল কর্মসূচি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতল বাসে অ্যালামনাইরা মীর মোশাররফ হোসেন আইন অনুষদে আসেন।

বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে তাদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। সাবেক শিক্ষার্থীরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করেন বিভাগ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমূল পরিবর্তন। তাদের সাথে আসা নিজেদের ছেলেমেয়েদেরকে দেখান নিজেদের ক্যাম্পাস। সাবেক শিক্ষার্থী  শুয়াইব আহমেদ এসেছিলেন তার দুই ছেলেকে নিয়ে। তিনি বলেন, ‘নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ছেলেমেয়েদের পরিচয় করিয়ে        দিতে, ক্যাম্পাসের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো দেখাতেই সন্তানদের     সাথে নিয়ে আসা।’ বিভাগের দিকে এগিয়ে যেতেই বেজে ওঠে সানাই আর ঢোল।

নবীন-প্রবীণ সকলে মেতে ওঠে এক চিরচেনা উচ্ছ্বাসে। এ যেন একটা চক্র যা সাইক্লিক আকারে ঘূর্ণায়মান নবীন-প্রবীণের বন্ধন। সকাল ১০টায় শুরু হয় র্যালী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসন ভবনের সামনে আসে সুদীর্ঘ র্যালীটি। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারীর নেতৃত্বে সকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশ করে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন