জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি নিয়ে
১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি নিয়ে
বুড়িগঙ্গার তীরে গড়ে ওঠা এক সময়ের পাঠশালা, ১৮৫৮ সালে ব্রাহ্ম স্কুল হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ১৮৭২ সালে ব্রাহ্ম স্কুল থেকে জন্মলাভ জগন্নাথ স্কুলের। এরপরে ১৮৮৪ সালে দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজ, ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজে রূপান্তরিত হয়। কালের বিবর্তনে সেই ব্রাহ্ম স্কুল ২০০৫ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যাল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অসংখ্যবার আবাসিক হলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত আবাসিক হলের ব্যবস্থা হয়নি। বিসিএস, ব্যাংক জবসহ বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ ও পরীক্ষায় এ বিশ্ববিদ্যালয়টি সাফল্য রাখছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫টি অনুষদের অধীনে ৩৬টি বিভাগে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। আগামী ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালটি ১ যুগে পা রাখতে যাচ্ছে। প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি, সমস্যা-সঙ্কট ও সাফল্যের গল্প নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

কামরুন্নাহার অর্না

ইংরেজি বিভাগ, ৮ম ব্যাচ

 

আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এক যুগ পূর্ণ হলো কিন্তু  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো আবাসিক হলের ব্যবস্থা হয়নি। অথচ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। শুধু তাই নয় জবির ভর্তি পরীক্ষায়  সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা হয়। কয়েক বছর আগে মেয়েদের একটা হলের নির্মাণ কাজ শুরু হলেও এখনো শেষ করতে পারেনি। কেরানীগঞ্জের ক্যাম্পাসে হোক বা পুরনো ক্যাম্পাসে হোক আশা করি, দ্রুত এ আবাসিক সঙ্কট সামাধান হবে।

শিশির রহমান

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ, ৮ম ব্যাচ

 

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে এসে বুঝতে পারি, ক্যাম্পাসের এই ছোট আয়তনই আসলে আমার জন্য একটা পরম পাওয়া। বাণিজ্য অনুষদ থেকে ক্লাস শেষ করে ইংরেজি বিভাগের বড়বোন কিংবা গণিত বিভাগের বন্ধুর সাথে দেখা করতে যাওয়া কিংবা ক্লাসের ফাঁকে অবকাশ ভবনে ডিবেটিং সোসাইটি কিংবা ফটোগ্রাফিক সোসাইটির অফিসে একটু ঘুরে আসা আবার জরুরি প্রয়োজনে প্রশাসনিক ভবনে যাওয়ার মতো ব্যাপারগুলো একদমই হাতের নাগালে। আজ একেকটা ভবন যদি দূরে দূরে হতো এই ব্যাপারগুলো সত্যিকার অর্থেই এত সহজ হতো না। কাঁঠালতলা, শান্ত চত্বর, ক্যাফেটেরিয়া আর বটতলায় বসতে গেলে সব বিভাগের পরিচিত মুখগুলোই দেখতে পাই।

ফারজানা উর্বি

নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ১১তম ব্যাচ

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের জন্য আলাদা কোনো ভবন নাই। নতুন ভবনের নিচতলায় কয়েকটা রুম নিয়ে চলে মেডিক্যাল সেন্টারের কার্যক্রম। ২০হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ১ জন ডাক্তার। অ্যাম্বুলেন্সও অপর্যাপ্ত। শুধু তাই নয় মেডিক্যাল সেন্টারে হাতেগোনা কয়েকটা ওষুধ ছাড়া তেমন কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না। তাই ডাক্তারের সংখ্যা বৃদ্ধি,পর্যাপ্ত ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বৃদ্ধি করা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। তাছাড়া মেডিক্যাল সেন্টারের জন্য স্বতন্ত্র ভবন দরকার। আশা করছি খুব দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যাপীঠটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খুব দ্রুত আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরবে।

সাকিব আরেফিন শোভন

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ১১তম ব্যাচ

 

নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। অসংখ্য অপ্রাপ্তির বা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রয়েছে অপার সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনার ডালপালা তখনই প্রসারিত হয়, যখন নিজেকে লালবাসের যাত্রী মনে করি। রাজধানীতে যখন লালবাস ছুটে চলে তখন  অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে সবাই। শুধুই কি লাল বাস? ডিবেটিং সোসাইটি, ক্যারিয়ার ক্লাব বা ফটোগ্রাফি সোসাইটির মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমেই ভবিষ্যত্ কর্পোরেট যুগকে চ্যালেঞ্জ জানানোর রসদ পাই এই জবি ক্যাম্পাস থেকেই। জীবনে মানুষ হতে পেরেছি কিনা জানি না তবে মানুষের মত হবার যে শিক্ষা পেয়েছি সেটার দাবিদার নিঃসন্দেহে জবি।

আতিক বিন হাবিব

ইতিহাস বিভাগ, ৯ম ব্যাচ

 

বিশ্ববিদ্যালয়  হিসেবে নতুন হলেও  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনেক পুরাতন। ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনেক দিক থেকে অবহেলার শিকার। যেমন- অবকাঠামোগত, আবাসিক সংকট, গবেষণাকর্ম ইত্যাদি ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুুযোগ থেকে বঞ্চিত  শিক্ষার্থীরা। তবুও এ উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের অজানা এক ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছে। অল্পতে তুষ্টি থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা যথার্থ প্রমাণ দিতে সক্ষম হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যুগ শেষে নতুন আরেক যুগের সূচনালগ্নে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে যেন প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে খুব দ্রুত সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন ক্যাম্পাসে পরিণত হয়ে ওঠে।

সাজেদা আক্তার

অর্থনীতি বিভাগ, ১১তম ব্যাচ

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির জন্য আলাদা কোনো ভবন নাই। নতুন ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় চলে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির কার্যক্রম। বিভিন্ন বিভাগের জন্য লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বই পাওয়া যায় না। অন্যদিকে  বাইরে থেকে নিজেদের বই নিয়ে লাইব্রেরিতে প্রবেশ করতে দেয় না। আবার ছুটির দিনগুলিতেও লাইব্রেরি বন্ধ থাকে। লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ নতুন নতুন বই কেনা হোক। আর স্বতন্ত্র গ্রন্থাগার ভবন না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণতা পায় না। স্বতন্ত্র গ্রন্থাগার ভবন       জরুরি। স্বতন্ত্র গ্রন্থাগার হলে আমরা অনেককিছু জানতে পারবো। তাই জরুরি ভিত্তিতে এটা করা উচিত।

মো. জাহিদুল ইসলাম

সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ১০ম ব্যাচ

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই এক যুগে দেশে সাড়া জাগানোর মতো অনেক অর্জন থাকলে ও বেশ কিছু অভিযোগ রয়েই যায়। তার মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তাল মিলিয়ে উচ্চশিক্ষায় অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। বিদেশি স্কলার, জার্নাল, সেমিনার, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাসহ আরো অনেক এই ধরনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। মোটকথা, বিশ্ববিদ্যালয় মানে বিশ্বের বিদ্যালয় যেখানে কোনো ধরাবাধা সিলেবাসেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়- এই কথাগুলোর ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। আশা থাকবে, নিকট ভবিষ্যতেই এর সমাধান হবে। আর জবি হবে বিশ্ব শাসনের কাণ্ডারি।

তামান্না ইসলাম পেরি

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ১২তম ব্যাচ

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় যে সমস্যা নিয়ে প্রতিনিয়ত  সংগ্রাম করতে হয় তা হলো আবাসিক সংকট। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো আবাসিক হল। মেস বা বাসাভাড়া করে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের। ফলে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে যাওয়া-আসা করতে দিনের কয়েক ঘণ্টা অপচয় হয় রাস্তায় জ্যামে গাড়িতে বসে। অন্যদিকে চোখেমুখে একরাশ ক্লান্তি নিয়ে বাসায় ফিরতে হয় সন্ধ্যায়। এরফলে যথাসময়ে ক্লাসে উপস্থিত হওয়া ও ঠিকমত পড়াশোনা করা অনেক কষ্ট হয়ে যায়। আবাসিক সংকট সমাধান হলে বিশ্ববিদ্যালয় অনেকদূর এগিয়ে যাবে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৪
এশা৬:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৯
পড়ুন