জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ
ক্যাম্পাসে চলচ্চিত্র আন্দোলন
১৪ মার্চ, ২০১৮ ইং
ক্যাম্পাসে চলচ্চিত্র আন্দোলন

আহসান জোবায়ের

প্রখ্যাত জার্মান বিজ্ঞানী ‘অ্যাথানাসিউস্ কিরখের’ ১৬৪৬ সালে আবিষ্কার করেছিলেন ‘ম্যাজিক লণ্ঠন’। স্বচ্ছ একটা মাধ্যমের ওপর ছবি এঁকে সেটাকে লেন্সের ভেতর দিয়ে পর্দায় প্রতিফলিত করাই এই ছবি প্রদর্শনের আসল কায়দা। ক্যামেরা বা ফিল্ম আবিষ্কার করার আগে এভাবেই প্রজেক্টর মেশিনের আদি সংস্করণ শুরু হয়। এরপর সমগ্র ইউরোপজুড়ে নানাভাবে গবেষণা হয়। সে ইতিহাসের অবতারণা এখানে অবান্তর। শেষাবধি ১৮৯৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর তারিখে ফরাসি দু’ভাই অগুস্ত লুমিয়ের এবং লুই লুমিয়ের আর্কল্যাম্প প্রজেক্টর দিয়ে প্যারিসেই প্রথম নিজেদের তৈরি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেন। এরপর একে একে ব্রিটেন, রাশিয়া ও আমেরিকায় চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। এর প্রায় ছয় মাস পরে ১৮৯৬ সালের ১৭ মে মুম্বাইয়ের ওয়াটসন হোটেলে লুমিয়ের গ্রুপের উদ্যোগে উপমহাদেশে প্রথম চলচ্চিত্র দেখানো হয়। ১৮৯৬ সালে ১৪ জুলাই মুম্বাইয়ের নভেলটি থিয়েটারে নিয়মিত চলচ্চিত্র দেখানো শুরু হয়।

প্রথমদিককার এই সিনেমা বা চলচ্চিত্র এখনকার মতো ছিল না। তখন চলচ্চিত্র ছিল নির্বাক। কোনো শব্দই পাওয়া যেতো না চলচ্চিত্রগুলোতে। সিনেমার পাত্র-পাত্রীরা মূকাভিনয় করে যেতেন। বর্তমানে চলচ্চিত্র এক অন্য মাত্রায় চলে গেছে। আর তাই চলচ্চিত্র কিংবা শর্ট ফিল্মগুলোর মানবিক আবেদন এখনো বিন্দুমাত্র কমেনি বরং বেড়েছে বহুগুণ।

চলচ্চিত্রের প্রতি মানুষের আবেদন ও গুরুত্ব উপলব্ধি করে শৌখিন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের নিয়ে ২০০৯ সালে আহ্বায়ক দিদার আহমদের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ। ১৯২৭-২৮ সালে নির্মিত ঢাকায় প্রথম চলচ্চিত্র ‘সুকুমারী’ পরিচালনা করেছিলেন তত্কালীন জগন্নাথ কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক অম্বুজ প্রসন্ন গুপ্ত। চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্যবোধ, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও মননশীলতা বিকাশের লক্ষ্যে চলচ্চিত্র, প্রামাণ্য চিত্রের নির্মাণ, প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাই হচ্ছে এ চলচ্চিত্র সংসদের উদ্দেশ্য। নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র কর্মশালা এবং চলচ্চিত্র উত্সব আয়োজন করে থাকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ। এছাড়াও স্বাধীন ধারা এবং ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্রের প্রচারও করে থাকে সংগঠনটি।

গতবছর স্বাধীনতার মাসে ‘মুক্তির ছবি’ নামে করে বড়সড় আয়োজন করা হয়েছিল সংগঠনের পক্ষ হতে। দেখানো হয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি। এছাড়াও নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইন্টারন্যাশনাল শর্ট অ্যান্ড ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করে এ সংগঠন। গত বছর ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স’ আয়োজন করে তারা। তাতে পরিচালক অমিতাভ রেজা চলচ্চিত্রের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করেন। এছাড়াও নিয়মিত ‘পাঠচক্র’ নামে একটা মেলবন্ধন হয়। এখান থেকে সাংস্কৃতিক চর্চারও সুযোগ পান সদস্যরা। ‘বি অ্যা ফিল্ম মেকার’ শীর্ষক মাসব্যাপী চলচ্চিত্র নির্মাণ ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়েছিল। সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ ইকবালের মতে, ‘ফিল্ম মেকারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ করে দিই আমরা। আমাদের ফিল্ম মেকিংয়ে এগুলো অনেক বড় ভূমিকা রাখছে।’

আট বছরে নানা সমস্যা কাটিয়ে সংগঠনের সদস্যরাই এখন ফিল্ম বানাচ্ছে। নতুন নতুন ফিল্ম মেকার তৈরি হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘গল্প দাও, ফিল্ম বানাও’ নামে তরুণ নির্মাতাদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করতে যাচ্ছে চলচ্চিত্র সংসদ। 

সংগঠনের সভাপতি ইসরার জীম বলেন, ‘আমরা সুস্থধারার চলচ্চিত্রের প্রচার ও প্রসারে কাজ করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান তুলে ধরতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও চলচ্চিত্র উত্সবের আয়োজন করি। এছাড়াও ২০১৮ সালে আমরা ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করতে যাচ্ছি। সেটা অন্যান্য ফেস্টিভ্যাল থেকে একটু ভিন্নধর্মী হবে।’ চলচ্চিত্রে সুস্থধারার বিকাশ হোক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের হাত ধরেই। ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল কবির মিল্টন জানান, আমরা খুব শিগগিরই ‘পুরান ঢাকা চলচ্চিত্র উত্সব-২০১৮’ নিয়ে আসার জন্য নিজেদের তৈরি করছি। এই উত্সবটি হবে ক্যাম্পাসভিত্তিক চলচ্চিত্র উত্সবগুলোর থেকে আলাদা। এছাড়া আগামী মার্চে ‘মুক্তির ছবি’ শীর্ষক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর জোর প্রস্তুতি চলছে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৪ মার্চ, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৫৪
যোহর১২:০৮
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২২
সূর্যোদয় - ৬:০৯সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন