অতিরিক্ত বাস রুটে রাজধানীতে যানজট
ইত্তেফাকে গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা
ইত্তেফাক রিপোর্ট২০ আগষ্ট, ২০১৫ ইং
অতিরিক্ত বাস রুটে রাজধানীতে যানজট
 ‘যানজট নিরসনে নতুন গাড়ি ক্রয়ে নয়, ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে’

ঢাকায় বর্তমানে ২০৯টি বাস রুট রয়েছে। এত বেশি রুট দরকার নেই। এক শ্রেণির রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীর কারণে অযথা এবং অপ্রয়োজনীয় রুট চালু করা হচ্ছে। কুড়িল ও কাকলি ফ্লাইওভার চালুর পর ঐ এলাকায় ৬০টি নতুন রুট চালু করা হয়েছে। অতিরিক্ত রুট যানজট তৈরি করছে। সুষ্ঠু যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগরে বাস রুট ৬০টিতে নামিয়ে আনতে হবে। সড়কে যানজট নিরসনে নতুন গাড়ি ক্রয়ে নয়, ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। সড়ক ও মহাসড়কের প্রধান মোড়গুলোতে আন্ডারপাস ও ফুটওভারব্রিজ তৈরি করা জরুরি। পাশাপাশি ফুটপাত দখলমুক্ত, পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা ও গণপরিবহনের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর কাওরান বাজারে দৈনিক ইত্তেফাকের কার্যালয়ে ‘বাস সেক্টরে শৃঙ্খলা: সবার করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ প্রকল্পের (সিএএসই) আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দৈনিক ইত্তেফাক ও বেসরকারি সংস্থা এক্সপ্রেশনস-এর সহযোগিতায় এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাজধানীর বেশিরভাগ সড়কের সিংহভাগ জায়গায় প্রাইভেটকার রাখা হয়। এতে করে যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই সড়ক নেটওয়ার্কে যানবাহনসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে। অপরিকল্পিত বিপণি বিতানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ কিংবা বন্ধ করতে হবে।

 বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য দেন দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। রাজধানীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনদুর্ভোগ দূর করতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল্লাহ আল মহসিন চৌধুরী বলেন, বাস পরিবহনে বিশৃঙ্খলা পরিবেশেরও বড় ধরনের ক্ষতি করছে, দূষণ বাড়াচ্ছে। গণপরিবহন চলাচলের উপযোগী সড়ক তৈরির পাশাপাশি মানুষকেও বাসে চলার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালক মো. কায়কোবাদ হোসেন বলেন, রাজধানীর অধিকাংশ সড়কই বাস চলাচলের উপযোগী নয়। তাই রাজধানীর অন্তত একটি রুটে শুধু গণপরিবহনের জন্য পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে। এই প্রকল্পে সড়ক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হবে। প্রকল্পের অভিজ্ঞতা থেকে পরবর্তীতে শুধু গণপরিবহনের জন্য সড়ক নির্মাণ ও চালু করা হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক শামসুল হক, নগরায়নের মেরুদণ্ড গণপরিবহন। কিছু অপেশাধারী লোক পরিবহন খাতটি নিয়ন্ত্রণ করেন। কোন ধরনের সমীক্ষা ছাড়া রুট পারমিট এবং গাড়ি রেজিস্ট্রেশন দেয়া হচ্ছে। বিআরটিএ’র এক শ্রেণির কর্মকর্তা বাছবিচারহীনভাবে রুট পারমিট ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করছেন। সবার আগে এটি বন্ধ করতে হবে।

বুয়েটের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গণপরিবহন কোনো দেশেই লাভজনক খাত হিসেবে বিবেচিত হয় না। এটি ব্যবসা নয়, সেবা। তাই সরকারকে এ খাতের উন্নয়নে বৃহত্তর পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ করতে হবে। ভর্তুকি দেয়ার পাশাপাশি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কঠোর হতে হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মোসলেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঢাকায় অনেক যানবাহন চালক-মালিকরা আইন মানেন না। ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে জরিমানা বাবদ বছরে অন্তত ২ কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা হচ্ছে। বাসের সংখ্যা বাড়াতে হলে আগেই এসব বাস রাখার জায়গা বরাদ্দ করতে হবে।

নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেন, আমরা রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে আইন মানি না। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সবশ্রেণির প্রভাবশালীরাই নিয়ম ভাঙছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসও উল্টো পথে চলে। সবাই সচেতন হলেই এই সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব। সরকারকেও  কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। 

স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, সড়কের সিংহভাগ জায়গায় প্রাইভেটকার রাখা হয়। সড়ক নেটওয়ার্কে যানবাহনসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে। ফুটপাত দখল মুক্ত করতে হবে। অপরিকল্পিত বিপণি বিতানের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। 

বাংলাদেশ বাস ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মো. ফারুক তালুকদার সোহেল, ফুটপাত এখন রাজনৈতিক কর্মীদের আয়ের উত্স। সরকারের নীতিনির্ধারকরাও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। কিছু লোকের জন্য সবাইকে কষ্ট দেয়া বন্ধ করতে হবে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালাম বলেন, বাসের জন্য আলাদা লেন এখন সময়ের দাবি। ৫ বছর আগে রাজধানীতে ৭ হাজার গণপরিবহন ছিল। এখন সেটা কমে ৪ হাজার ৩শ’তে দাঁড়িয়েছে। প্রতি সিগন্যালে মাফিয়া চক্র গড়ে উঠেছে। এই চক্র ভাঙতে হবে।

মূল প্রবন্ধে সিএএসই’র প্রকল্প পরিচালক মো. আনিসুর রহমান বলেন, ঢাকা মহানগরে প্রতিদিন ৩০ লাখ মানুষ যাতায়াত করে। যানবাহনগুলোর মধ্যে শুধু বাস ৪৭ ভাগ ট্রিপ (ভ্রমণ) পরিচালনা করে। অথচ শহরের সড়ক ব্যবস্থার মাত্র সাড়ে ১২ ভাগ বাস পরিবহন সেবার উপযুক্ত। এই অবস্থায় কার্যকরি ও সাশ্রয়ী মূল্যের গণপরিবহন ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিআরটি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আফিল উদ্দিন, ডিটিসিবি’র সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. এসএম সালেহউদ্দিন, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের ন্যাশনাল এডভোকেসি অফিসার মারুফ রহমান, নগর পরিকল্পনাবিদ তানভীর নেওয়াজ, বিআরটিএ’র ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মাসুদ আলম, টাটা মটরস’র কান্ট্রি ডিরেক্টর মুকুল মনিশ, জিডিএসইউটিপি’র নূর ই আলম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিটল মটরস’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুসতাক আহমেদ, মহাব্যবস্থাপক মো. আয়াতুল্লাহ, দৈনিক ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকত, ডিটিসিএ’র পরিবহন বিশেষজ্ঞ কাজী নুসরাত জাহান, মুকাররম সোহেল।

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৩১
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৬
পড়ুন