দেশীয় সম্পদ দিয়েই উপকূলীয় এলাকা দুর্যোগ থেকে রক্ষা সম্ভব
ইত্তেফাক রিপোর্ট২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
দেশীয় সম্পদ দিয়েই উপকূলীয় এলাকার ভূমি ও মানুষকে দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। তবে এর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কার প্রয়োজন। এই সংস্থাটিকে সরকারের অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে সমন্বয় রক্ষা করে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। উপকূলীয় বাঁধগুলোকে আরো উঁচু করতে হবে।

গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টার হলে অনুষ্ঠিত ‘জলবায়ু অভিঘাত হতে বাংলাদেশের উপকূলকে সুরক্ষাঃ বর্ষাকালে সামুদ্রিক জোয়ারের প্লাবন থেকে রক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতির কার্যালয় ও কোস্ট ট্রাস্ট এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের কাছে বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ প্রস্তাব নিয়ে আসা উচিত নয়।  স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে সরকার কিভাবে উপকূলের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারে সে ব্যাপারে রাজনৈতিক নেতাদেরকে পরামর্শ দিতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কার প্রয়োজন এবং উপকূল রক্ষায় ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম এমপি বলেন, মেঘনা অববাহিকার মনপুরা, ঢালচর ও কুকরি মুকরির মতো দ্বীপগুলোকে জোয়ারের পানি থেকে বাঁচাতে বাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই। সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে।

পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, উপকূলের বাঁধগুলোর উচ্চতা আরো ৭ মিটার পর্যন্ত বাড়াতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রমে স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। দাতা সংস্থাগুলোর প্রস্তাবিত ডেল্টা পরিকল্পনা আমাদের জন্য কার্যকর হবে না।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে কোস্ট ট্রাস্টের মো. মজিবুল হক মনির বলেন, কুতুবদিয়া দ্বীপে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ৯ মাস  চলে গেলেও কাজ হয়েছে মাত্র অর্ধেক। যেটুকু কাজ হয়েছে তারও গুণমত মান নিয়ে আছে প্রশ্ন। আগামী বর্ষার আগে পুরো কাজ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করা না গেলে কুতুবদিয়াবাসীকে দুর্যোগে ভুগতে হবে।

কোস্ট ট্রাস্টের রেজাউল করিম চৌধুরীর  সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সীতাকুণ্ড এলাকার সংসদ সদস্য দিদারুল ইসলাম, বরিশালের সংসদ সদস্য জেবুন্নেসা, মেহেন্দিগঞ্জের সংসদ সদস্য পংকজ নাথ, কয়রার সংসদ সদস্য নূরুল হক এবং খুলনার সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস। তারা বলেন, তাদের এলাকাগুলোতে নদী ভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে আগামী বর্ষা নিয়ে মানুষ আতঙ্কের মধ্যে আছে। এসব সমস্যা সমাধানে স্লুইস গেট সংস্কার, খাল ও নদী পুনর্খনন, নদী শাসনের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:১২
যোহর১২:১৩
আসর৪:২০
মাগরিব৬:০০
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৬:২৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫৫
পড়ুন