পোশাকের সঙ্গে মানানসই গহনার খোঁজে তরুণীরা
ইয়াসমিন পিউ২১ জুন, ২০১৭ ইং
পোশাকের সঙ্গে মানানসই গহনার খোঁজে তরুণীরা
ঈদের শাড়ি জামার সঙ্গে মানানসই গহনার খোঁজে এখন নারীরা ভিড় জমিয়েছেন গহনার দোকানে। কারো পছন্দ ছোট গহনা, কারো বা ভারি জড়োয়া গহনা। পছন্দের সেই দিকগুলো মাথায় রেখে দোকানীরা এনেছেন রকমারি গহনা। আর ডায়মন্ড, স্বর্ণের গহনার চাহিদা তো চিরকালীন। সিটি গোল্ড বা গোল্ডপ্লেটেড গহনাও এখন জনপ্রিয়।

ফ্যাশন সচেতন নারীদের পছন্দ এন্টিক গহনা। দেখতে তামাটে বা কালচে রঙের গহনার চাহিদা এখন বেশি। এখন খুব বেশি কালার ম্যাচিং গহনার চল নেই বললেন দীপা রহমান। তিনি বলেন, যে কোনো একটা মোটামুটি মানানসই কানের দুল বা টপ পরবো; তার সঙ্গে হাতে ব্রেসলেট পরলেই মানিয়ে যায়। এখন খুব একটা গহনা পরেন না মেয়েরা। দুলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে টপ ও ছোট পাশা। দুলে স্টোন ও পার্ল বসানো থাকলে তার চাহিদা বেশি বলে জানান ‘মাদুলি’র সেলসম্যান আশিক। তিনি বলেন, স্টোনের ছোট টপই মেয়েরা কিনছে বেশি। তবে অনেকে আবার অনেক লম্বা দুল পরছেন।

চুড়ির চাইতে ব্রেসলেট কিংবা ব্রেসলেট টাইপের জিনিসই বেশি চলছে। পুঁথির কয়েকটি মালা একসঙ্গে কিংবা একটি চেন, পুতির মালা. ক্রিস্টালের মালার সমন্বয়ে ব্রেসলেট পাওয়া যাচ্ছে রঙসহ বেশকিছু অর্নামেন্টসের দোকানে। দাম ২০০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকা পর্যন্ত। কয়েকটা ব্রেসলেটের কালার ম্যাচিং করে একসঙ্গে একটি ব্রেসলেট। আরো আছে গোল্ডপ্লেটেড, স্টোনের, ইমিটিশনের ব্রেসলেট। তবে অনেকে মাল্টি কালারের চুড়িও কিনছেন। ‘কে এন্ড জেড’ এ গহনা কিনতে আসা তাহিরা সিদ্দিকা বলেন, ম্যাচ করা বলতে রং মিলিয়েই কিনতে হবে, তা নয়। পোশাকের সঙ্গে মানাচ্ছে কিনা, দেখতে ভাল লাগছে কিনা, সেটাই প্রধান। তাছাড়া সব ধরনের রঙের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে যা পরবেন তাই এখন ‘ফ্যাশন’ বলে জানালেন তিনি।

লম্বা চেনের সঙ্গে বড় ক্রিস্টাল পাথরের লকেট লাগানো মালা চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। এসব লম্বা মালার মধ্যে কালো রেশমি ফিতায় লকেট ঝোলানো মালার কদর বেশি তরুণীদের মধ্যে। এসব মালার দামও বেশ চড়া, ৫৫০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মাদুলি, কে এন্ড জেড, এফসি এসব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের হাতের ব্রেসলেট, স্টোন বসানো চুড়ি ও কানের ছোট রিংসহ নানা ডিজাইনের কানের টপ।

এখন প্রায় প্রতিটি মার্কেটে গড়ে উঠেছে গোল্ড প্লেটিং গহনার দোকান। রিংরোডের নতুন মার্কেট টোকিও স্কয়ার, রাপা প্লাজা, এ আর, সানরাইজ, নিউ মার্কেটসহ প্রায় প্রতিটি মার্কেটে রয়েছে গহনার দোকান। এসব গহনা দেখতে সোনার গহনার মতই; তবে দাম তুলনামূলক কম। তাই ক্রেতাদের কাছে এসব গহনার চাহিদা খুব বেশি। শপিং কমপ্লেক্সগুলোর অলংকারের দোকানগুলোতে কোরিয়া, ভারত, চীন ও থাইল্যান্ড থেকে আনা নানা আকৃতির অসংখ্য রঙের পাথরের গহনার সম্ভার রয়েছে। এরমধ্যে মানের দিক দিয়ে কোরিয়ান পাথরের গহনাগুলো সবচেয়ে ভালো বলে এর চাহিদাও সব সময় বেশি থাকে বলে জানান বিক্রেতারা।

রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটের ইমিটেশন গহনার দোকানগুলো হচ্ছে কমদামে গহনা কেনার সবচেয়ে ভাল জায়গা। এসব দোকানে এখন ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। এসব দোকানে কানের দুল, মালা, চুলের ক্লিপ হিজাবের ব্রোচ প্রভৃতি বিক্রি হচ্ছে স্বল্প মূল্যে। মৌচাক মার্কেটের পাশ ঘেঁষেও বসেছে এইসব ইমিটেশনের গহনার দোকান। সেখানেও ক্রেতাদের লক্ষণীয় ভিড় দেখা গেছে। একসেট চুড়ির দাম ১২০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা। কানের টপের দাম ২০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা। তবে ভালো স্টোনের দুল কিংবা মালার দাম ৫৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিভিন্ন ধরনের লকেটসহ চিকন চেইন পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ক্লিপ বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা থেকে ২০০ টাকায়।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন