মায়ের দুধে শিশু মৃত্যু হার কমানো সম্ভব
ইয়াসমিন পিউ১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
মায়ের বুকের দুধ ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সাধারণ তাপমাত্রায় রেখে শিশুকে খাওয়ানো যায় এবং ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত নরমাল ফ্রিজে রেখে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো যাবে বলে জানিয়েছেন পপুলার মেডিক্যাল কলেজের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসি ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কর্মজীবী মায়েরা কাজের তাগিদে বাসার বাইরে অনেকটা সময় থাকেন। সেক্ষেত্রে শিশুকে মায়ের দুধ বাসায় এক্সপ্রেস করে রেখে খাওয়াতে পারেন। এতে শিশুর কোনো ধরনের ক্ষতি হয় না।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সুরাইয়া আলম বলেন, অফিসের কাজে অনেক সময় বাসার বাইরে থাকতে হয়, ইচ্ছে থাকার পরেও শিশুকে বুকের দুধ দিতে পারছি না। বাধ্য হয়ে সন্তানকে বাইরের দুধ দিতে হচ্ছে। আগারগাঁও বিএনপি বস্তির বাসিন্দা সুখু বেগম বলেন, ‘আমার নাতীটাহে দামি দুধ কিননা খাওয়াইতে হারি না, হ্যার লাইগ্যা স্বাস্থ্যও ভালা হয় না। মায়ের দুধে হ্যার প্যাড ভরে না। পোলা সন্তান তো হ্যার ক্ষুধা বেশি।’ আরেক মা রাশেদা খাতুন বলেন, আমার পোলারে দুধের পাশাপাশি সুজি দেই, ভালা দুধও দেই। তার সন্তানের বয়স চার মাস ১২ দিন বলে জানান। আরেক মা মুক্তা বেগম বলেন, বাচ্চা খায় বেশি, একটা সেরেলাক ১৫ দিনও যায় না। মুক্তার সন্তানের খাওয়া দেখে অন্য মায়েদেরও ধারণা শিশুর বাড়তি খাবার মানেই সেরেলাক বা কৌটার দুধ। 

রাশেদা ও সুখু বেগমের মতো বস্তির অশিক্ষিত অধিকাংশ মায়েদের ধারণা মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে বাড়তি খাবার মানেই দামি দুধ দিতে হবে। এসব ভুল ধারণা ভাঙতে প্রচারণা চালাতে হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। 

তারা বলছেন, শিশু জন্মের প্রথম ঘণ্টায় মায়ের বুকের শাল দুধ খাওয়ালে ৩১ ভাগ শিশুমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হয়। কারণ এটি নবজাতকের জন্য প্রথম ‘টিকা’। মায়ের দুধে রয়েছে ১০০ ধরনের উপাদান যা অন্য কোনো দুধেই পূরণ করা সম্ভব নয়। অতিপ্রয়োজনীয় এই তথ্যটি অনেক মা-ই জানেন না। অথবা জানলেও অনেক মা সৌন্দর্যহানি কিংবা কৌটার দুধে আকৃষ্ট হয়ে বুকের দুধ খাওয়ান না। এসব বিভিন্ন ভুল ধারণা সমাজ থেকে দূর করতে প্রতিবছর ১ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারিভাবে পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ। এ বছর মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আমাদের দেশে এখনো বুকের দুধ খাওয়ানোর হার শতকরা ৫৫ ভাগ। এই হার শতভাগে উন্নীত করতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে চলছে ব্যাপক প্রচারণা। শিশুকে কমপক্ষে ৬ মাস বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে মায়ের দুধ না খাওয়ালে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে না। শিশু তখন ঘন ঘন অসুখে আক্রান্ত হয়। অথচ অনেক মা মনে করেন, কৌটার দুধই শিশুর স্বাস্থ্যের জন্যে ভালো। এ ধারণা আমাদের দেশের নিম্নবিত্তের মায়েদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বর্তমানে দেশে শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস পেলেও এখনো পুষ্টিহীনতার কারণে অনেক শিশু মারা যায়। এসব শিশুর পুষ্টিহীনতার অন্যতম কারণ মায়ের বুকের দুধ না খাওয়ানো।

ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের পরিচালক খুরশিদ জাহান বলেন, অনেকে মায়ের সিজারের পর নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়ানোটা ঝুঁকি মনে করেন। কিন্তু বিষয়টা সম্পূর্ণ ভুল। নবজাতক সুস্থ থাকলে সিজারের এক ঘণ্টা পর থেকে মা দিনে ৮ বার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন