বাড্ডার চার খুনের কিনারা হয়নি দুই বছরেও
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
আসামি রমজান ইয়াবাসহ গ্রেফতার

জামিউল আহসান সিপু

দুই বছরেও বাড্ডায় চাঞ্চল্যকর চার খুন মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এই মামলায় সন্দেহভাজন আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী মতিউর রহমান। তবে বাড্ডা থানার ওসি এম এ জলিল জানান, এই মামলার সন্দেহভাজন অন্যতম আসামি রমজানকে দুই সপ্তাহ আগে ৭০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। রমজান বর্তমানে কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছে।

২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট রাতে বাড্ডার আদর্শনগর পানির পাম্প এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন বাড্ডার ছয় নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মোল্লা ও ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদ মানিক। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান গামা চিকিত্সাধীন অবস্থায় পরদিন সকালে মারা যান। ওই বছরের ২৩ আগস্ট রাতে মৃত্যু হয় গ্যারেজ মালিক ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা আবদুস সালামের। এ ঘটনায় নিহত মাহবুবুর রহমান গামার বাবা মতিউর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফজলুল হক তদন্ত করে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলার বাদী অভিযোগ করেন, আফতাবনগর গরুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ ভাগ্নে ফারুক ও মেহেদীর নির্দেশে তার ছেলেকে ভাড়া করা খুনিদের দিয়ে খুন করা হয়। খুনের মিশনে অংশ নিয়েছিল আরিফ, পবন, পুলক, রমজান, মানিক, মান্নানসহ ১০/১২ জন সন্ত্রাসী। ডিবি যে চার্জশিট দিয়েছে, তাতে গরুর হাটের ইজারার বিষয়টি উল্লেখ করেনি। অথচ এই গরুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে ভাগ্নে ফারুক ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার তারা তার ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছিল।

এ ঘটনায় বাদী মামলার চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দিলে গত ৮ মে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম-৯ নম্বর আদালতে শুনানি শেষে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পর উল্টো আসামিরা বাদীকে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বাদী নিজের নিরাপত্তা চেয়ে গত ২১ মে বাড্ডা থানায় একটি জিডি করেছেন। এরপরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ এখনও গ্রেফতার করছে না  বলে বাদীর অভিযোগ।

মামলার তদন্তকারী সিআইডি’র পরিদর্শক জিয়াউর রহমান বলেন, এই ঘটনাটি তদন্ত করে ডিবি ১৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট দিয়েছিল। ওই ১৫ জনের মধ্যে ৮ জন গ্রেফতার রয়েছেন। বাকি ৯ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতকদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলার বাদী এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে ৫ জনের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়েছেন। ওই ৫ জনের মধ্যে রমজানকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। রমজানকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সিআইডি’র মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, বাড্ডা ইউনিয়ন এলাকায় অবস্থিত আফতাবনগর পশুরহাট প্রতি বছর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইজারা দেওয়া হয়। ইউনিয়ন এলাকা বলে প্রতিবছর গড়ে ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে মাহবুবুর রহমান গামা আফতাবনগর কোরবানির পশুর হাট সাড়ে ৫ কোটি টাকায় ইজারা নেন। এই নিয়ে বাড্ডার স্থানীয় সন্ত্রাসী ভাগ্নে ফারুক ও আমেরিকা প্রবাসী মেহেদী গ্রুপের সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। পরের বছর গামা স্থানীয় ভাগ্নে ফারুক গ্রুপের চাপে আফতাবনগর পশুর হাট ইজারা নিতে পারেননি। ২০১৩ সালের হাট ইজারা বাবদ সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো তার কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এই চাঁদার টাকা কমানোর জন্য গত বছরের ৩ মে বাড্ডা জাগরণী সংসদ ক্লাবে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর একটি বৈঠক হয়। ঐ বৈঠক চলাকালে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে বাড্ডা থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন রাহিনকে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন