মাদকাসক্তি ও পর্নোগ্রাফির কারণে বিকৃত নির্যাতনের শিকার শিশু
তিন সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদন
রাবেয়া ববী১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
গত বছর মোট ৩০৪ শিশু ধর্ষণের শিকার হলেও চলতি বছর নয় মাসে ৩৬৩ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে ক্রমান্বয়ে শিশু নির্যাতন বাড়ছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে নির্যাতনের হার কিছুটা কমে এলেও চলতি বছর শিশু নির্যাতনের হার বেড়েছে উদ্বেগজনকভাবে। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। শিশু অধিকার ফোরামের প্রতিবেদনেও দেখা যায়- একই সময় ৪৪৩ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিবেদনেও একই রকম চিত্র দেখা যায়।

সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজন বলছেন,  মাদকাসক্তি ও পর্নোগ্রাফির বদলৌতে বিকৃত যৌন চাহিদার কবলে পড়ছে শিশু। আর শিশু আইন হলেও এর বিধিমালা  হয়নি  ৪ বছরেও। ফলে আইনের সুফল থেকে  বঞ্চিত  হচ্ছে শিশু। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, খসড়া বিধিমালা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে আছে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, ধর্ষণের শিকার হয়ে উক্ত সময়ে মারা গেছে ১৫ শিশু। ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে আরো ৪০ শিশুকে। ধর্ষণের শিকার হওয়া শিশুদের মধ্যে ৩৫২ জন মেয়ে এবং ৭ জন ছেলে। বাকি ৪ জনের নাম ও লিঙ্গ পরিচয় পাওয়া যায়নি। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে সাত মাসের সঙ্গে নয় মাসের শিশু ধর্ষণের তুলনা করা হয়, তাতে দেখা যায়, গত ৭ মাসে ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ২২৯ জন, মারা গেছে ৮ জন, ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল আরো ২২ শিশুকে। ধর্ষণের শিকার শিশুদের মধ্যে ২২৩ জন ছিল মেয়ে এবং ২ জন ছেলে। অর্থাত্ গত দুইমাসে শিশু ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েছে ১৩৪টি। ধর্ষণ চেষ্টার সংখ্যা বেড়েছে ১৮টি। ধর্ষণের শিকার মেয়ে শিশুর সংখ্যা বেড়েছে ১২৯ জন। ছেলে শিশুর সংখ্যা বেড়েছে ৫ জন। ধর্ষণ ছাড়াও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ৬৮ শিশু। এরমধ্যে মেয়ে ৫০, ছেলে ২ এবং লিঙ্গ উল্লেখ করা হয়নি ১৬ জনের।

এছাড়াও ৮৮৪ জন শিশু হত্যা, নির্যাতন, আত্মহত্যা, এসিড সন্ত্রাস, পাচার, নিখোঁজ, অপহরণ ও বাল্য বিবাহের শিকার হয়েছে গত ৯ মাসে। সংস্থাটির শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল মামুন সম্প্রতি নাটোরের মহাদেবপুর ও যাত্রাবাড়ির মাতুয়াইলে ঘটে যাওয়া শিশুধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনাতে দুঃখের সাথে উল্লেখ করে  বলেন, লক্ষ্য করছি শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ব্যাপকহারে বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেশি হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে। এই শ্রেণির মানুষের মধ্যে মাদকাসক্তির সংখ্যা বাড়ছে। পাশাপাশি হাতের মুঠোয় পর্নোগ্রাফি চলে আসায় তাদের বিকৃত যৌন চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে। সেই চাহিদা মেটানোর জন্য তারা শিশুকে বেছে নিচ্ছে, কারণ শিশুরা দুর্বল। দেখা যায়, দেশে সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হয় শিশু, তার পর নারী, কারণ তারা দুর্বল। শিশু অধিকার ফোরামের প্রতিবেদন মতে, ২০১৩ সালে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে ১ হাজার ৩১৩টি, যা ২০১৪ সালে দাঁড়ায় ২ হাজার ১৯৭টি।  ২০১৫ সালে ভয়াবহভাবে শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যায়। সে বছর নির্যাতনের নিষ্ঠুরতা দেখা যায়, প্রকটভাবে উক্ত সময় শিশু নির্যাতন হয় ৫ হাজার ২১২টি এবং ২০১৬ সালে ৩ হাজার ৫৮৯টি। শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপারসন ইত্তেফাককে বলেন, সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে শিশু নির্যাতন ও শিশু ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হলেও অগ্রগতি কম। খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্ত অপরাধী বিচারের আওতায় এলেও অধিকাংশই থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তা কমে যাচ্ছে। শিশু নির্যাতন ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ভয়াবহ মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা শঙ্কিত। স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে এইসব অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার ত্বরান্বিত করা হোক। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে শিশুর অবস্থার পরিবর্তনের জন্য শিশু আইন করে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় আর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় করে শিশুনীতি; কিন্তু আইনের বিধিমালা ও নীতির কর্মপরিকল্পনা না হওয়ায় সেই সুফল থেকে বঞ্চিত হয় শিশু। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ নূরুল কবির বলেন, বিধিমালা আইন মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাই হচ্ছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম বলেন, মন্ত্রণালয় শিশু কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে অনেকদূর এগিয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয়ে বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। শিশুনীতির নতুন কর্মপরিকল্পনার কাজও চলছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৬
মাগরিব৫:৩৮
এশা৬:৪৯
সূর্যোদয় - ৫:৫৫সূর্যাস্ত - ০৫:৩৩
পড়ুন