রোহিঙ্গা চাপে কক্সবাজারের অর্থনীতি ও পরিবেশ
১০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
জেলার ১৬ সুশীল সমাজ ও এনজিও’র সাংবাদিক সম্মেলন

g ইত্তেফাক রিপোর্ট

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চাপে কক্সবাজার জেলার অর্থনীতি ও পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই রোহিঙ্গা ক্যাম্প এই জেলা থেকে সরিয়ে অন্য জেলাতে স্থানান্তরের সুপারিশ করেছেন ১৬ সুশীল সমাজ ও এনজিও’র নেতৃবৃন্দ।  

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলন থেকে তারা এ সুপারিশ জানান। একইসঙ্গে তারা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইউএনএইচসিআর-এর অধিকতর সম্পৃক্ততার দাবি জানিয়েছেন। কক্সবাজারের ১৬ সুশীল সমাজ ও এনজিও যৌথভাবে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে।

নোঙ্গর কক্সবাজারের মো. রাশেদ বলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যাপক আগমনের কারণে এই বছরের শেষে কক্সবাজারের জনসংখ্যা শতকরা ৬২ ভাগ বেড়ে যাবে, যেখানে জাতীয় ক্ষেত্রে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শতকরা ১৩ ভাগ। মেরিন ড্রাইভ এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় রোহিঙ্গা ছড়িয়ে পড়ছে। এদেরকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে। মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকার ও সুশীল সমাজকে উদ্যোগ নিতে হবে।

কোস্ট ট্রাস্টের মকবুল আহমেদ বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যের উপর রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাব জানতে একটি গবেষণা করা প্রয়োজন এবং তার ভিত্তিতে আগামী বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। তিনি সহায়তা অর্থের বিনিয়োগের শতকরা ২০ ভাগ স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দ রাখার দাবি জানান। উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের আমিনুর রসুল বাবুল বলেন, জেলা প্রশাসন এবং রোহিঙ্গা রিলিফ কার্যক্রমকে পৃথক করে ফেলতে হবে। এডাবের মো. জসিম বলেন, ক্যাম্প এলাকায় বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ধর্মীয় জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দলকে ক্যাম্পে প্রচারণা চালানোর অনুমোদন দেওয়া দরকার। এই বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, জাতিসংঘ সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোকে সরাসরি কার্যক্রম বাস্তবায়ন থেকে সরে আসতে হবে, তাদেরকে স্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে, কারণ তারা স্থানীয়করণ এবং ব্যয় কমানোর জন্য অঙ্গিকারাবদ্ধ।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ৯টি বিষয়ে ৪১টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। দাবি হলো— জেলার জনসংখ্যাবিজ্ঞান ভারসাম্য হুমকির সম্মুখীন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করে অন্যত্র তাদের সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। রিলিফ কমিশনারের পদ উচ্চ পর্যায়ে এবং কার্যালয়ে মানব সম্পদ দিতে হবে। স্থানীয় স্বাভাবিক জীবন যাপন হুমকির সম্মুখীন, প্রকৃতি, অর্থনীতি ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করতে হবে। জঙ্গিবাদের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করতে হবে। মানবাধিকার ও অসাম্প্রদায়িকতার বিকাশে সহায়তা করতে হবে। রুয়ান্ডা এবং চেকোস্লোভাকিয়ার মতো মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতে শক্তিশালী রাজনেতিক প্রচারণা করতে হবে। ভিজিবিলিটি বা প্রদর্শন প্রতিযোগিতা বন্ধ করে আসল কাজ করতে হবে।  শিশুদের যত্ন ও পুনর্বাসনে ‘সিআরসি’ অনুসরণ করতে হবে ইত্যাদি।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১০ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৫২
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৮
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:১০সূর্যাস্ত - ০৫:১৩
পড়ুন