২০২১ সালের মধ্যে ওয়াসা শতভাগ ডিজিটাল
২২ নভেম্বর, ২০১৭ ইং

ঢাকা ওয়াসার সংবাদ সম্মেলন

g ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে ঢাকা ওয়াসার শতভাগ কার্যক্রম ডিজিটাল করা হবে। ইতিমধ্যে এ কার্যক্রমের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। বাকি সময়ের মধ্যে অসম্পন্ন কাজ শেষ করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কাওরান বাজারস্থ ঢাকা ওয়াসা ভবনে ঢাকা ওয়াসার সার্বিক অগ্রগতি, আগামীর কর্ম পরিকল্পনা বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, ‘২০০৯ সালে যখন ঢাকা ওয়াসার দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন ঢাকা ওয়াসার খুবই খারাপ অবস্থা ছিল। পানির চরম সংকট ছিল। ওই সময় সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়া লাগত। ঢাকার জনপ্রতিনিধিদের পানি সংকটের কারণে জনরোষেরও শিকার হতে দেখা গেছে। গত ৯ বছরে ঢাকা ওয়াসার পানির উত্পাদন কয়েকগুণ বেড়েছে। এখন চাহিদার তুলনায় উত্পাদন বেশি হয়। এ কারণে পানির কোনো সংকট নেই। তবে লাইনের কারণে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে সাময়িক সমস্যা দেখা দেয়। সেসব সমস্যাও বিকল্পভাবে সমাধান করা হচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা দক্ষিণ এশিয়াসহ পৃথিবীর অনেক শহরের তুলনায় টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে এর স্বীকৃতিও মিলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার দৈনিক ২১২ কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে উত্পাদন ছিল ১৮৮ কোটি লিটার। আর বর্তমানে দৈনিক ২৩৫-২৪০ কোটি লিটার চাহিদার স্থলে পানির উত্পাদন সক্ষমতা ২৪৫ কোটি লিটার। পানির সিস্টেম লস ৪০ ভাগ থেকে ২২ ভাগে নেমেছে। রাজস্ব আয় ৩০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এক হাজার ৬৩ কোটি হয়েছে। বিলিং সিস্টেম শতভাগ ডিজিটাল করা হয়েছে। গ্রাহকরা এখন ঘরে বসেই তাদের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন, সমাধান নিতে পারছেন। শতভাগ ই-টেন্ডার করা হয়েছে।

আর ২০২১ সালের মধ্যে স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণে অটোমেশন প্রক্রিয়া চালুর কাজ শুরু করা হয়েছে। আর এই সময়ের মধ্যে ঢাকা ওয়াসার বড় প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে ভূ-গর্ভস্থ পানির নির্ভরতা ৭৮ থেকে ৫৫ নেমে আসবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওয়াসার এমডি বলেন, ঢাকা শহরের মোট আয়তনের ১২ ভাগ জলাশয় থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র দুই ভাগ। এ কারণে বৃষ্টির পানি মাটির নিচে প্রবেশ করতে পারছে না। এ অবস্থায় প্রায় ৮০০ পাম্প থেকে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করায় পানির স্তর প্রতি বছর দুই থেকে  তিন মিটার করে নিচে নেমে যাচ্ছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ঢাকার জলাবদ্ধতার কারণ পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া। নতুন করে এসব উদ্ধার করাও দুরূহ হয়ে পড়ছে। এছাড়াও ঢাকা ওয়াসা, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ও আবাসন কোম্পানিগুলো বিচ্ছিন্নভাবে এ কাজ করছে। জলাবদ্ধতামুক্ত ঢাকা গড়তে ড্রেনেজ বিভাগকে একটি সংস্থার অধীনে আনতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী কামরুল হাসান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান, উপ-প্রধান জনতথ্য কর্মকর্তা এ এম মোস্তফা তারেক প্রমুখ।  

 

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন