দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে অগ্রাধিকার দিন
ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের স্মরণে মানববন্ধন
ইত্তেফাক রিপোর্ট৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং

দুর্যোগ মোকাবিলায় দুর্যোগ ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশে দুর্যোগ নিয়ে কাজ করা ৩০টি অধিকারভিত্তিক নাগরিক সংগঠন, এনজিও এবং নেটওয়ার্ক। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানা ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের স্মরণে গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত ‘ভয়াল ২৯ এপ্রিল ১৯৯১ স্মরণ : দুর্যোগ ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে’ শীর্ষক মানববন্ধন থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতিসংঘ সংস্থা ও আইএনজিওদের সরাসরি প্রকল্প পরিচালনা থেকে সরে আসার এবং এক্ষেত্রে স্থানীয় এনজিওদের নেতৃত্ব প্রদানে সুযোগ দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

যৌথভাবে এর আয়োজন করে অনলাইন নলেজ সোসাইটি, অর্পণ, আলোক যাত্রা, উদ্দীপন, উদয়ন বাংলাদেশ, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্ট, এসডিও, কোস্ট ট্রাস্ট, জাতীয় কৃষানি শ্রমিক সমিতি, ডিজাস্টার ফোরাম, বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতি, বিডিপিসি ইত্যাদি। কোস্ট ট্রাস্টের পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন একই সংস্থার শওকত আলী টুটুল। আরো বক্তব্য রাখেন অর্পণের আব্দুল কাদের হাজারী, বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতির সুবল সরকার, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের জায়েদ ইকবাল খান, ডিজাস্টার ফোরামের তাজুল ইসলাম এবং বিডিপিসির লাইলা কবির।

শওকত আলী টুটুল বলেন, দেশে এখনো দুর্যোগ এবং জলবায়ু সহনশীল তেমন কোনো অবকাঠামো তৈরি হয়নি। একটি দেশের উন্নয়ন বা প্রবৃদ্ধির জন্য মেট্রোরেল, বিদ্যুত্, সেতু, ফ্লাইওভার, চারলেনের রাস্তা, বহুতল ভবন অবশ্যই দরকার আছে, কিন্তু দুর্যোগপ্রবণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে আক্রান্ত একটি দেশের জন্য দুর্যোগ এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।  মোস্তফা কামাল বলেন, জাতিসংঘ সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো দুর্যোগ মোকাবিলায় সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

আব্দুল কাদের হাজারী বলেন, প্রলয়ঙ্করী এই ধ্বংসযজ্ঞের ২৭ বছর পার হলেও এখনো স্বজন হারাদের আর্তনাদ থামেনি বরং বাড়ছে আতঙ্ক। ক্ষতি না কাটতেই উপকূলে সিডর, আইলা, মহাসেন, রোয়ানু, নাডা ও কোমেন নামক সাইক্লোন একের পর এক আঘাত হানছে। দিশাহারা উপকূলের মানুষ, নিজেদের সক্ষমতা দিয়ে এগুলোর মোকাবিলা করছে। তিনি চরের মানুষের উপযোগী জীবিকায়ন কর্মকাণ্ডে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর দাবি জানান।

জায়েদ ইকবাল খান বলেন, ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের ২৭ বছর অতিবাহিত হলেও উপকূলীয় মানুষের সুরক্ষায় নেয়া হয়নি কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। ভোলা, মনপুরাসহ দ্বীপের চারপাশে অরক্ষিত হয়ে আছে অনেক বেড়িবাঁধ। প্রতি বছর জোয়ার ও বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় দ্বীপের শত শত একর জমির ফসল।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন