কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে কমিশন গঠনের তাগিদ
১২টি কৃষক সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন
ইত্তেফাক রিপোর্ট২৫ মে, ২০১৮ ইং

আগামী অর্থ বছরে বাজেটে কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ন্যায্যমূল্য কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে ১২টি কৃষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে তারা উপকূলীয় এলাকার কৃষি জমি রক্ষার জন্য স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখারও দাবি জানান। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য কমিশন চাই: উপকূলীয় কৃষি জমি রক্ষার্থে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে বিশেষ বরাদ্দ চাই’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের ১২টি কৃষক সংগঠন এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফার্মার্স ফোরামের সচিবালয় সমন্বয়কারী মো. মজিবুল হক মনির। তিনি বলেন, আমাদের মোট শ্রমশক্তির শতকরা প্রায় ৪৬ ভাগ কৃষিতে সম্পৃক্ত, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নির্ভর করে এই খাতের উপর। তাই এ খাতে মোট বাজেটের কমপক্ষে শতকরা ২০ ভাগ বরাদ্দ থাকা উচিত। প্রতি বছর বাজেটের মূল আকার বাড়লেও, সে অনুপাতে কৃষির জন্য বরাদ্দ বাড়ছে না। ২০১৭-১৮ সালের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের তুলনায় বেড়েছে প্রায় শতকরা ৩০ ভাগ, অথচ কৃষির জন্য বরাদ্দ গত অর্থ বছরের তুলনায় কমানো হয়েছে শূন্য দশমিক ৮১ ভাগ!

বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন, বীজের উপর কৃষকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিদেশি কোম্পানিগুলোর উপর নির্ভরতা আমাদের কমাতে হবে, ভাল মানের বীজ দেশেই উত্পাদন সম্ভব। এ জন্য সরকারের প্রতিষ্ঠান বিএডিসিকে শক্তিশালী করতে হবে। এর জন্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

উপকূলীয় কৃষক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, কৃষকের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হলে, ধান-চাল সংগ্রহ নীতিমালা পরিবর্তন করতে হবে। কৃষক তার কাছে ধান আসার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রি করে দেন। মধ্যস্বত্বভোগীরা সেই ধান কিনে চাল বানিয়ে বিক্রি করে মুনাফা লুটে নেয়। চাল সংগ্রহ বা ধান সংগ্রহও এমন সময়ে শুরু করতে হবে যখন তা কৃষকের হাতে থাকে। কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হলে ন্যায্যমূল্য কমিশন গঠনের কোনো বিকল্প নেই। আমরা মনে করি, কৃষক বাঁচাতে এবং কৃষি প্যণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘জাতীয় কৃষি পণ্য মূল্য কমিশন’ গঠন করতে হবে। এই মূল্য কমিশন কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণে কাজ করবে এবং সরকারি ও বেসরকারি কৃষি পণ্য ক্রয়পদ্ধতিতে সংস্কার আনবে। গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার প্রধান শামসুজ্জামান খোকন বলেন, কৃষিতে এখনো যে ভর্তুকি দেওয়া হয় তার একটি অংশ চলে যায় এর সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন কিছু সুবিধাভোগীদের হাতে। এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কৃষি বাজেট এবং কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনায় কৃষকদেরকে অবশ্যই সম্পৃক্ত করতে হবে। 

কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, বাজেটে উপকূলের বাঁধ সংস্কার, নতুন বাঁধ নির্মাণসহ এ খাতে বিশেষ বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন। আগামী অর্থ বছরে উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ নির্মাণ বা এ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে পর্যাপ্ত বরাদ্দ চাই। 

উপকূলীয় কৃষক সংস্থা, বাংলাদেশ মত্স্য শ্রমিক জোট, বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন, জাতীয় নারী কৃষক সংস্থা, বাংলাদেশ আদিবাসী সমিতি, হাওর কৃষক ও মত্স্যশ্রমিক জোট, লেবার রিসোর্স সেন্টার, নলছিড়া পানি উন্নয়ন সমিতি, দিঘন সিআইজি, কেন্দ্রীয় কৃষক মৈত্রী, বাংলাদেশ ফার্মার্স ফোরাম ও কোস্ট ট্রাস্ট।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৫ মে, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪১
এশা৮:০৩
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৬
পড়ুন