নির্মাণ ত্রুটি :ব্যবহার হচ্ছে না অধিকাংশ ফুটওভারব্রিজ
রফিকুল ইসলাম রবি১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
নির্মাণ ত্রুটি :ব্যবহার হচ্ছে না অধিকাংশ ফুটওভারব্রিজ

যথাযথ স্থানে নির্মাণ না হওয়ায় রাস্তা পারাপারে রাজধানীর বেশিরভাগ ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করছেন না পথচারীরা। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ছাড়া অনেক ফুটওভারব্রিজ আছে যেগুলোতে কালেভদ্রে দু-একজনকে উঠতে দেখা যায়। এসব অব্যবহূত ফুটওভারব্রিজগুলো স্থানান্তর করে সঠিক স্থানে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

কর্তৃপক্ষ বলছে, ঢাকায় যেসব ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করা হচ্ছে না বা লোক পারাপারের স্থান থেকে অপেক্ষাকৃত দূরে, সেগুলো স্থানান্তর করে সঠিক স্থানে পুনর্নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ব্যবহার হওয়া ফুটওভারব্রিজগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করা হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এ কাজ শুরু হবে।

নগর গবেষণা কেন্দ্রের রাজধানীর ২৫টি ফুটওভারব্রিজ নিয়ে চালানো এক জরিপে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে পথচারীদের অনীহার পেছনে বেশ কিছু কারণ তুলে ধরা হয়। ফুটওভারব্রিজ দিয়ে চলাচলে অস্বস্তি, নোংরা পরিবেশ, সঠিক স্থানে নির্মাণ না করা, নিরাপত্তাহীনতা, হকারদের দখলদারিত্ব, ছিন্নমূল মানুষের বসবাস, অত্যধিক উচ্চতা ও অধিক সময় ব্যয় অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, রাজধানীতে বর্তমানে ৮৭টি ফুটওভারব্রিজ রয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা দক্ষিণে ৩২টি ও ঢাকা উত্তরে ৪৯টি। ডিএনসিসিতে আরও দুটি নির্মাণাধীন এবং নির্মাণের পরিকল্পনায় আছে আরও তিনটি ফুটওভারব্রিজ। এ ছাড়া সংস্থাটির আওতায় রোড অ্যান্ড হাইওয়ের ৫টি এবং রাজউকের একটি ফুটওভারব্রিজ রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণের একটি ও উত্তরের দুটি আন্ডারপাস রয়েছে। এসব ফুটওভারব্রিজ নির্মাণে খরচ হয়েছে ২০০ কোটি টাকার বেশি।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, রাজধানীর বেশিরভাগ ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারের অনুপযোগী। আবার বেশিরভাগ ফুটওভারব্রিজ যথাযথ স্থানে নির্মাণ করা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্মিত সেতুগুলো নারী, শিশু, অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য উপযোগী নয়, বরং বিপজ্জনক। ফুটওভারব্রিজের যে উচ্চতা থাকা প্রয়োজন, রাজধানীর ব্রিজগুলোর উচ্চতা তার চেয়ে অনেক বেশি। ফলে বিভিন্ন এলাকায় সেগুলো ব্যবহারে উত্সাহ পায় না পথচারীরা।

পথচারীদের রাস্তা পারাপারে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করছেন ট্রাফিক পুলিশ। এজন্য সম্প্র্রতি দুর্ঘটনা রোধে পথচারীদের রাস্তা পারাপারে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে ট্রাফিক পুলিশের কড়াকড়ি বেড়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সেতু পার হতে পথচারীদের দীর্ঘ লাইনে গাদাগাদি করে পারাপার হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন নারী, শিশু, বয়স্ক ও রোগীরা।

পথচারীরা বলছেন, ফুটওভারব্রিজগুলো প্রশস্ত না হওয়ায় পারাপারে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঠাসাঠাসি করে ওঠা-নামা করতে হয়। ফলে সেতু ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেন, রাস্তা পারাপারের জন্য মানুষ যাতে সমতলে পারাপার হতে পারে সেদিকে জোর দিতে হবে। অর্থাত্ জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করে পারাপারে মানুষকে উত্সাহিত করতে হবে। নারী, শিশু, বয়স্ক, রোগীরা ফুটওভারব্রিজ পারাপার করতে পারেন না। এজন্য রাস্তা পারাপারে ফুটওভারব্রিজ যথাযথ নয়। তিনি আরো বলেন, রাজধানীর ফুটওভারব্রিজগুলো ফুটপাতের মধ্যে ল্যান্ডিং। ল্যান্ডিং এর কারণে ফুটপাত নষ্ট হয়। মানুষ হাঁটতে পারে না। এগুলো এমনভাবেই ডিজাইন করতে হবে যাতে এর সর্বোত্তম ব্যবহারটা নিশ্চিত করা সম্ভব।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন