বিভেদ দূর করে মুক্তিযুদ্ধের ঐক্য ফেরানোর তাগিদ
জন্মদিনে ভালোবাসায় ভিজলেন ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
বিভেদ দূর করে মুক্তিযুদ্ধের ঐক্য ফেরানোর তাগিদ
জন্মদিনে ভালোবাসায় ভাসলেন ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক। জন্মদিনে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশের সময় বললেন, ‘ভাষা সংগ্রামের পথ ধরে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের রাজনৈতিক মুক্তি এসেছে। কিন্তু আজও আমাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক মুক্তি আসেনি। স্বাধীনতার সুফল শিক্ষিত শ্রেণি ভোগ করছে। সাধারণ মানুষের কাছে স্বাধীনতার সুফল পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়নি। দেশের মানুষের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের সেই ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে স্বাধীনতার সুফল সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হবে।

গতকাল বুধবার জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আহমদ রফিকের জন্মোত্সবের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে আহমদ রফিককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, কথাসাহিত্যিক আনোয়ার সৈয়দ হক, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিত্ ঘোষ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম। আহমদ রফিককে নিয়ে অভিনন্দন বচন পাঠ করেন কবি মুনির সিরাজ। অনুষ্ঠানে শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের নানা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আহমদ রফিককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। যৌথভাবে এই জন্মোত্সবের আয়োজন করেছে অন্যপ্রকাশ ও অনিন্দ্য প্রকাশ।

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম শহীদ মিনার যেটি নির্মাণ করা হয়, তার সঙ্গে মিশে আছে আহমদ রফিকের নাম। সবাই যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহ, শাহজাদপুর নিয়ে লিখছেন তখন তিনি পতিসরে রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্কার করলেন সকলের কাছে। তার আরেক পরিচয় পেলাম। ভাষাসৈনিক থেকে ভাষা সংগ্রামী অভিধা দেয়ার ভূমিকাটিও তার। সবসময় তার সঙ্গী বই এবং কলম। সেই কলমে উঠে এসেছে বাংলদেশ, মুক্তবুদ্ধি, প্রগতিশীলতা, মননশীলতা। নি:স্বার্থভাবে তিনি এখনও লিখে চলেছেন।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, দেশে বড় মাপের শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীদের সংখ্যা কমে আসছে। তাদের মধ্যে যে কয়েকজন আমাদের সমাজকে নিয়ে নিয়ত ভাবেন তাদের একজন আহমদ রফিক। তার চেতনা আমাদের সমৃদ্ধ করছে। আহমদ রফিকের জীবনটা শুরু হয়েছে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এজন্য ভিত্তিটা এত শক্ত। তিনি আমাদের সকলের জন্য অনুকরণীয় অনুসরণীয় একজন ব্যক্তিত্ব।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, তার লেখনি সব সময় সত্য তুলে ধরে। তিনি সমাজ নিয়ে সবসময় ভাবেন বলেই এভাবে বলতে পারেন। শামসুজ্জামান খান বলেন, ভাষা সংগ্রামী হিসেবে তিনি যা লিখেছেন তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনন্য। তার চিন্তা ভাবাদর্শে স্নাত হয়ে তরুণ প্রজন্ম সমাজকে এগিয়ে নেবে এটাই প্রত্যাশা। আনোয়ার সৈয়দ হক বলেন, জন্মদিন মানেই আনন্দ। তার লেখার মধ্য দিয়ে অনেক কিছু জেনেছি, বুঝেছি। বিশ্বজিত্ ঘোষ বলেন, তিনি আমাদের কালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানুষ ও লেখক।

অনুষ্ঠানে যেসকল সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আহমদ রফিককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় তার মধ্যে রয়েছে ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন, জাতীয় কবিতা পরিষদ, শিশু একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, ভাষা আন্দোলন গবেষণা কেন্দ্র ও জাদুঘর, শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদ, পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্স, খামখেয়ালি সভা, বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি, ইমপেরিয়াল কলেজ ও দনিয়া পাঠাগার। অনুষ্ঠানে মাশুক হেলালের আঁকা আহমদ রফিকের একটি প্রতিকৃত তার হাতে তুলে দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও প্রধান অতিথি।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন