ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৫
২৩ °সে

যথাযথ মর্যাদায় সারাদেশে বিজয় দিবস উদযাপিত

যথাযথ মর্যাদায় সারাদেশে বিজয় দিবস উদযাপিত
বরিশাল:মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন —ইত্তেফাক

ইত্তেফাক ডেস্ক

যথাযথ মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রবিবার সারাদেশে ৪৭তম মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

খুলনা: প্রত্যুষে মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নগরীর গল্ল­ামারী শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা হয়। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সন্তানদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। এ ছাড়া নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের (পিআইডির) আয়োজনে ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর ১২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের ওপর স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

বরিশাল:সূর্যোদয়ের সাথে সাথে পুলিশ লাইনস মাঠে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের সূচনা করা হয়। এরপর জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পূস্পার্ঘ্য অর্পন করা হয়। ভোর ৬টা থেকে শহীদ স্মৃতি ফলকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এমপি, জেবুন্নেছা আফরোজ এমপি, বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মইদুল ইসলাম, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরওয়ার, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনসহ দলের নেতা-কর্মীরা। দুপুর সাড়ে ১২টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নগর ভবনের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে। র্যালিতে নেতৃত্ব দেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর চরমোনাই পীরের সহোদর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। এ ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাব, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি, প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ কমিউিনিস্ট পার্টি, বাসদ, ওয়ার্কার্সপার্টি, জাসদ,সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, সাংবাদিক ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, শিক্ষক সমিতি প্রমুখ।

রংপুর: সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে দিবসের সূচনা করা হয়। পরে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, অর্জন, বঙ্গবন্ধুর মুরাল ও সুরভী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের নামফলকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রংপুর ইউনিট কমান্ড, রংপুর বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ পুলিশ রংপুর রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রশাসন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আকতার হোসেন আজাদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ এমদাদ হোসেনসহ কর্পোরেশনের কাউন্সিলরবৃন্দ এবং অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জেলা প্রশাসন আয়োজিত অন্যান্য অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে ছিল বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, শিশু সংগঠনের সদস্য-সদস্যাবৃন্দের কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, বিভিন্ন সিনেমা হলে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, রংপুর টাউন হল মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের/শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সংবর্ধনা প্রদান।

সিলেট: সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুরু হয় শ্রদ্ধা নিবেদন। সিলেট শহীদ মিনার বাস্তবায়ন পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ও মহানগর ইউনিট, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি সিলেট রেঞ্জ, সিলেট জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মানুষ সকাল থেকেই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বগুড়া: সকালে বগুড়া জিলা স্কুল মাঠে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। এরপরেই শহরের ফুলবাড়িতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিফলক মুক্তির ফুলবাড়ীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় বগুড়ার শহীদ খোকন পার্কে শহীদ মিনারে। শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামে হয় কুচকাওয়াজ।

গোপালগঞ্জ: টুঙ্গিপাড়ায় স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। সকালে নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তক অপর্ণ করে জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরপর গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিজয় দিবসের শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

নেত্রকোনা: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নেত্রকোনা স্টেডিয়ামে সকাল ৮টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিশু সংগঠনের মনোজ্ঞ ডিসপ্লে। পরে পাবলিক হলে জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলামের সভাপতিত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক বিরোধী কার্যক্রমে জনমত সৃষ্টির জন্য আলোচনা সভা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা, শিশুদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, প্রবীণদের হাঁটা প্রতিযোগিতা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের শুভ সূচনা হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় কমিশনার মাহমুদ হাসান, ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠানসহ জেলা-উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ, আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া দিবসটি পালনে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে অপরাজেয় ৭১ এ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছে জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন। সূর্যউদয়ের সাথে সাথে বিউগল বাজিয়ে ও তোপধ্বনী দিয়ে স্বাধীনতার শহীদদের স্মরণে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান সেলিম, পুলিশ সুপার মোহা: মনিরুজ্জামান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেক কূরাইশীসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পক্ষ হতে শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে অপরাজেয় ৭১ এ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। পরে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো চত্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় ও দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সাতক্ষীরা: নানা আয়োজনে সাতক্ষীরায় মহান বিজয় দিবস উত্যাপিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির শুভ সূচনা হয়। এরপর সূর্যদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়। পরে পুলিশ, বিএনসিসিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে কুচকাওয়াজ ও শরীর প্রদর্শনী এবং রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান, পৌরদিঘীতে হাঁসধরা প্রতিযোগিতাসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।

নড়াইল: বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সূর্যদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে স্মৃতি সৌধ, গণকবর, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা, প্রীতি ভলিবল ও ফুটবল টুর্নামেন্ট, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।।

কুমিল্লা: কুমিল্লা টাউন হলের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান, হাইওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সিটি করপোরেশন, কেন্দ্রীয় কারাগার, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, পুলিশ লাইন্সের চেতনায় ৭১, আলেখারচর যুদ্ধ জয় ভাস্কর্য ও কুমিল্লা সেনানিবাসে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। পরে নগরীর টাউন হল প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: মহান বিজয় দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসন। প্রথম প্রহরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে স্থানীয় ফারুকী পার্ক স্মৃতিসৌধে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়। তারপর সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান, পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন খানসহ রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনতা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। নিয়াজ মুহম্মদ স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সমাবেশ, বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

পাবনা: পাবনায় জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পাবনা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচির মধ্যে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করে। এ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ্ভ দুর্জয় পাবনায় ভোর থেকেই পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। এছাড়া শহীদ আমিন উদ্দিন স্টেডিয়াম মাঠে কুচকাওয়াজ প্যারেডের মধ্য দিয়ে ডিসপ্লে­সহ কবিতা আবৃতি, সঙ্গীত ও চিত্রাংকনসহ ম্যারাথন ও সাইকেল দৌড় প্রতিযোগিতা হয়। দুপুরে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিজয় র্যালি বের হয় শহরে। এতে পাবনা সদর ৫ আসনের সংসদ সদস্য ও নৌকা দলীয় প্রার্থী গোলাম ফারুক প্রিন্স নেতৃত্ব দেন।

সিরাজগঞ্জ: সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের সূচনা হয়। স্থানীয় মুক্তির সোপানে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকল সরকারি-বেসরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জয়পুরহাট: সকাল সাড়ে ৬টায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সরকারি বিভিন্ন বিভাগ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদ, সিপিবি, জাপা, বাসদ ও তাদের অঙ্গসংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শহীদ ডা: আবুল কাশেম ময়দানে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে শহীদদের স্মরণে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। পরে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নরসিংদী: প্রত্যুষে নরসিংদীর মোসলেহ উদ্দিন ভূঞা স্টেডিয়ামে তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের সূচনা করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। মোসলেহ উদ্দিন ভুঞা স্টেডিয়ামে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং প্যারেড ও কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। পরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয় নরসিংদী জেলা শিল্পকলা একাডেমী (পুরাতন) মিলনায়তনে।

হবিগঞ্জ: ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনটির সূচনা করা হয়। এরপর দুর্জয় হবিগঞ্জের স্মৃতিস্তম্ভে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাহ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী পাঠান প্রমুখ।

টাঙ্গাইল: সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়। পরে সেখানেই শহীদদের স্মরণে ৩১ বার তোপ ধ্বনি, শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে একটি বিজয় র্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য সংবর্ধনা, প্রীতি ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা, ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা, মিলাদ মাহফিল, জেলখানা, হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন, আলোচন সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

গাইবান্ধা: মুক্তিযুদ্ধের বিজয় স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা, স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা, স্থানীয় আসাদুজ্জামান বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে মহিলাদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন ইত্যাদি কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জেলায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়।

লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে ৪৭তম মহান বিজয় দিবস। সকালে দিবসটি উপলক্ষে ৩১ বার তোপ ধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজয় চত্বর স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল। এছাড়াও স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন প্রমুখ। পরে লক্ষ্মীপুর জেলা স্টেডিয়ামে শতাধিক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত অনুষ্ঠিত হয়।

লালমনিরহাট: জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপ ধ্বনি, শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শেখ কামাল স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া কুচকাওয়াজ ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ডিসপ্লে প্রদর্শন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স থেকে বিজয় র্যালি, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ।

মৌলভীবাজার: সকাল ৭টা ০১ মিনিটে মৌলভীবাজার স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা। শুরুতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আওয়ামী লীগ। তারপর বিএনপি, রেড ক্রিসেন্ট, সাংস্কৃতিক জোট, প্রেসক্লাব, পাবলিক লাইব্রেরি, সাংস্কৃতিক জোট, শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। দুপুরে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদের পৃথকভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিকেলে সাইফুর রহমান স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। রাতে সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সুনামগঞ্জ: সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সুনামগঞ্জ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা বিএনপি, জেলা জাতীয় পার্টি, জেলা যুবলীগ, জেলা শ্রমিক লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ হয়। জেলার ৫২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কুচকাওয়াজে অংশ নেন।

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর): ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হয় মহান বিজয় দিবস। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে দিবসের শুরু হয়। এরপর উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে, উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি জেপি, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তার অঙ্গসংগঠন, সরকারি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে স্থানীয় বিহারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শাহীন আক্তার সুমী। এসময় প্যারেড মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ভাণ্ডারিয়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ শাহাবুদ্দিন। এ ছাড়া অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ডিসপ্লে প্রদর্শন, কুচকাওয়াজ, শরীরচর্চা প্রদর্শন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের সংবর্ধনা এবং সম্মাননা ও আলোচনা সভা, ক্রীড়া অনুষ্ঠান ছাড়াও প্রীতি ফুটবল খেলা এবং স্থানীয় ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে ’৭১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। পৃথক এ সকল অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অতিথি ছিলেন ঢাকা রাজারবাগের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান, জাতীয় পার্টি জেপির ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাইজুর রশিদ খশরু জোমাদ্দার প্রমুখ। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় যথাযথ মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ মার্চ, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন