১৫১ বছর পার করেছে পুঠিয়া পিএন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়
পুঠিয়া (রাজশাহী) সংবাদদাতা১৮ জানুয়ারী, ২০১৭ ইং
১৫১ বছর পার করেছে পুঠিয়া পিএন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়
১৫১ বছর অতিক্রম করেও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পুঠিয়া পিএন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। ১৮৬৫ সালে রাজা জমিদারের বিলাসবহুল ইতিহাসের মধ্যদিয়েও তত্কালীন পুঠিয়া চার আনি রাজ এস্টেটের রাজা পরিশ নারায়ণ রায় আজকের পুঠিয়া পিএন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। নিজ জ্ঞাতি ও সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারের শিক্ষার জন্যে বিদ্যাপীঠটি প্রতিষ্ঠিত হলেও রাজা পরেশ নারায়ণ রায় নিঃসন্দেহে যে একজন শিক্ষানুরাগী ছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

একটি টিনের চালাঘরে পুঠিয়া পরেশ নারায়ণ এ্যাংলো ভার্নাকুলার এইচই নামে বিদ্যালয়টি প্রথমে আত্মপ্রকাশ করার কয়েক বছরের মধ্যেই তা ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়। এরপর ১৮৭১ সালে বর্তমান শিবসাগরে উত্তর-পশ্চিম কোণে ইংরেজি এইচ অক্ষরের আকৃতিতে ছাদের উপরে ডেভিড হেয়ার ও রাণী মনোমোহিনীর কংক্রিটের প্রতিকৃতিসহ একটি পাকা ঘরে প্রথম থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস চলতে থাকে। তত্কালীন সময়ে রাজকোষ হতেই বিদ্যালয়টির ব্যয়ভার বহন করা হতো। ১৯০২ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্কুলটির পরিচালনা পরিষদের প্রধান ছিলেন রাজা পরেশ নারায়ণ রায় নিজেই। তার মৃত্যুর পর পুঠিয়া চার আনী রাজ এস্টেট কোর্ট অব ওয়ার্ডসে চলে যায়। এ সময় তার বড় ছেলে নরেশ নারায়ণ মাত্র ১৪ বছর বয়স হওয়ায় ম্যানেজার বাবু যতীনন্দন সেন এবং তারপর রমেশ চন্দ্রগুপ্ত এমএ বিদ্যালয়টির পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। এখানে উল্লেখ্য যে, ১৯১০ সালে রানি মনোমোহিনীর মৃত্যু হয়। ১৯২২ সালের ৪ মে থেকে ১৯৪৩ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নরেশ নারায়ণ রায় বিদ্যালয়টির চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। যোগাযোগের সুবিধার জন্যে একসময় বিদ্যালয়টি পুঠিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরে ১৯৬২ সালে বিদ্যালয়টি বহুমুখী পরিকল্পনা এবং ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকারের পাইলট উন্নয়ন স্কীমভুক্ত করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টির ১০.২৯ একর জমি রয়েছে। যার উপর রয়েছে সুবিশাল বিদ্যালয়ের বহুতল ভবন, মাঠ, পুকুর, নারিকেল-সুপারি ও লিচু গাছসহ আবাদি জমি এবং বেশ কয়েকটি দোকানঘর। বিদ্যালয়টিতে ১৯ জন শিক্ষক, আটজন কর্মচারী এবং পাঁচশ’ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ের ছাত্র রাধিকা প্রসাদ সেন ১৮৮৫ সালে ব্যারিস্টারি পাস করেন বলে বর্তমান প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত কুমার সরকার জানান। বিদ্যালয়ের অপর একজন কৃতী ছাত্র মি.আদেল মিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের লুই জিয়ানা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করে আরাকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিদ্যায় অধ্যাপনা করছেন। বিদ্যালয়ের কয়েক ডজন ছাত্র সেনাবাহিনী ও সচিবালয়ের উচ্চপদে কর্মরত আছেন।

১৯৯০ সালে রাজশাহী বিভাগের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে স্বীকৃতি পায় এটি। পুঠিয়া পিএন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের দাবিদার। এলাকাবাসী সরকারিকরণের জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন। 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:২৩
যোহর১২:০৯
আসর৩:৫৯
মাগরিব৫:৩৮
এশা৬:৫৪
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩৩
পড়ুন