হাওরে ফসলহানির পর এবার মাছে সড়ক!
২১ এপ্রিল, ২০১৭ ইং
ভাটির জনপদে আহাজারি থামছে না

 হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস

ভাটির জনপদের ফসলহারা মানুষের আহাজারি যেন থামছে না। কৃষকের স্বপ্নের হাওরে এখন শুধুই হাহাকার। বৈশাখী আনন্দে কিষাণ-কিষাণীর যেখানে মাতোয়ারা থাকার কথা, সেখানে এখন এক বেদনাবিধূর চিত্র। এবার বোরো মৌসুমে সিলেট অঞ্চলের বেশিরভাগ কৃষকের মাঠ ও গোলা-দুটোই খালি। এক দিকে গো-খাদ্যের সংকট। অন্যদিকে নিজের ঘরেও খোরাকির ধান নেই। তাই কি করে তাদের আগামী দিনগুলো চলবে এই প্রশ্নে তারা চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, অসময়ে ঢলের পানি তাদের সব স্বপ্ন নি:শেষ করে দিয়েছে।

এদিকে ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জে দেখা দিয়েছে নতুন সংকট। ফসল হারানোর পর কৃষক ও জেলেরা ভেবেছিলেন, শেষ ভরসা হিসেবে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা যাবে। কিন্তু হাওরে মাছের মড়ক সবাইকে হতাশ করে দিয়েছে। বড় বড় হাওরে মরা মাছ ভেসে উঠছে। জেলার বিভিন্ন হাওরে জাঙ্গাল ও কান্দায় মাছ মরে যাওয়ার দৃশ্য সবাইকে হতবাক করেছে। এভাবে মাছ মরতে থাকলে মাছের প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য হাওরে মত্স্য সংকটের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

মত্স্য বিভাগ জানিয়েছে, পচে যাওয়া ধান থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস জন্ম নেওয়ায় বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মাছ মরে যাচ্ছে। তারা  জানিয়েছেন, বিশাল হাওর এলাকায় ওষুধ ছিটিয়ে মাছরক্ষা সম্ভব নয়। গত ২৯ মার্চ থেকে সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে পাউবোর বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় জেলার প্রায় ৯০ ভাগ হাওরের কাঁচা বোরো ধান। পক্ষকাল ধরে পানির নিচে থাকা ধান গাছে পচন ধরে অ্যামোনিয়া গ্যাস জন্ম নেয়। গত রবিবার জগন্নাথপুর নলজুর নদীতে বিষক্রিয়া দেখা দিলে মাছ রক্ষায় জিওলাইট ওষুধ ছিটানো হয়।

জেলা মত্স্য অফিস জানায়, গত ১৫ দিন আগে হাওরের কাঁচা ধান নিয়ে তলিয়ে যায়। ফলে ধান পচে পানিদূষিত হয়ে গেছে। তাছাড়া বদ্ধ পানিতে ধান পচে গিয়ে গ্যাস সৃষ্টির ফলে অক্সিজেনের অভাবে মাছ মরে যাচ্ছে। মত্স্য বিভাগ সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জ সদর, জগন্নাথপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলায় ব্যাপকহারে মাছ মরে যাচ্ছে। জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়া, মইয়া, পিংলার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে মরা মাছ ভেসে উঠছে। জগন্নাথপুরের ভুরাখালি গ্রামের কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, কাঁচা ফসলসহ তলিয়ে যাওয়ায় এখন হাওর থেকে উত্কট গন্ধ বের হচ্ছে। রুইসহ নানা প্রজাতির মাছ মরে ভেসে আছে। তিনি  বলেন, নি:স্ব কৃষক মেস্যর ওপর শেষ ভরসা করেছিলেন। এখন হাওরের মাছ মরে যাওয়ায় নতুন সমস্যার সৃষ্টি হলো।

জেলা মত্স্য কর্মকর্তা শঙ্কর রঞ্জন দাস বলেন, ঢল ও বৃষ্টির পানি হাওরে প্রবেশ করে বেরুতে পারেনি। ফলে ধান গাছ পচে এক ধরনের গ্যাস জন্ম নিয়েছে। মাছ অক্সিজেন না পেয়ে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। তিনি বলেন, মরা মাছের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালি ল্যাবে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ এপ্রিল, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৪
যোহর১১:৫৮
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন