বেনাপোল বন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা জনবল সংকটে কার্যক্রম ব্যাহত
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
কাজী শাহ্জাহান সবুজ, বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা

দেশের সর্ববৃহত্তম স্থলবন্দর  বেনাপোল এখন সপ্তাহের সাত দিনই ২৪ ঘন্টা খোলা। তবে সাত দিনের এ কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রম বিঘ্ন ঘটছে। সরকার বেনাপোল বন্দর দিয়ে রাজস্ব আহরনের স্বার্থে আমদানি রপ্তানি বানিজ্য গতিশীল করতে এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে জাতীয় হলিডে ছাড়া সপ্তাহের ৭ দিনই ২৪ ঘণ্টা কাষ্টমস্, বন্দর ও ট্রেজারি ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। ওই অনুয়ায়ী  সংশিষ্ট দপ্তরগুলোর জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

বেনাপোল বন্দর থেকে সরকার প্রতি বছর  প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে থাকেন। এ রাজস্ব আরোও বৃদ্ধি করার জন্য সরকার  এ পদক্ষেপ নিয়ে কাষ্টমস্, বন্দর ও ট্রেজারি ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। ওই অনুযায়ী গত ১ জুলাই থেকে কাষ্টমস, বন্দর ও ট্রেজারি ব্যাংক খোলা রাখা হয়েছে কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ।

কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ কোন জায়গায় দুই সিফ্ট  আবার কোন জায়গায় ৩ সিফ্ট এ কাজ করছেন। বেনাপোল কাষ্টম হাউসে অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ৩৪১ জন। এ কার্যক্রম চালু হওয়ার পুর্বে কর্মকর্তা কর্মচারী ছিল ১৬০ জন। ৮ জন যোগদান করবেন। ঘাটতি জনবল দিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমসিম খাচ্ছেন কাষ্টমস কর্মকর্তারা। বেনাপোল কাষ্টমস হাউসে মোট জনবল ঘাটতি রয়েছে ১৭৩ জন বলে জানালেন কাষ্টমস কমিশনার শওকাত হোসেন।

এছাড়াও বেনাপোলের একমাত্র ট্রেজারি ব্যাংক সোনালী ব্যাংক। এ ব্যাংকের বর্তমান  মোট জনবলের সংখ্যা ২৬ জন।  সাত দিনই ২৪ ঘন্টা  ব্যাংক খোলা রাখতে হলে মোট জনবল লাগবে ৩৪ জন।  সেখানে ঘাটতি রয়েছে ৮ জন বলে জানালেন বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার এ আর এম রকিবুল হাসান।

বন্দরের হ্যান্ডলিংক শ্রমিকরা বলছেন, বন্দরের  দুই ইউনিয়নে প্রায় ১৪ শ শ্রমিক কাজ করে। বর্তমান যে জনবল আছে তা দিয়েই পন্য লোড আনলোডের কাজ করতে তাদের কোন সমস্যা হচ্ছে না।

রাজস্ব আহরনের স্বার্থে আমদানি রপ্তানি বানিজ্য গতিশীল করতে ৭ দিনই ২৪ ঘন্টা  খোলা রাখতে হলে কাষ্টমস বন্দর ও ট্রেজারি বাংকে জনবল বাড়াতে হবে। তা না হলে এ কার্যক্রম ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন এখানকার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট  ব্যবসায়ী  এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন অভিযোগ করে বলেন, বেনাপোল কাষ্টমস হাউসে জনবল সংকটের কারনে সব জায়গা সাত দিনই ২৪ ঘন্টা  খোলা রাখা হচ্ছে না।

এ ছাড়া বন্দরে রয়েছে নানাবিধ সমস্যা। ২৪ ঘন্টা বন্দর খোলা রাখার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও ব্যসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে আদায় করা হচ্ছে হলিডে চার্জ  ও  অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ওভার টাইমের টাকা। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ক্রেন ফরক্লিপ্ট এর সমস্যা সমাধান না হলে সরকারের এ মহত্ উদ্যোগ সফলতার আলো দেখতে পাবে না।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন