ভরা মৌসুমেমেঘনায় ইলিশের আকাল
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

মতলব উত্তর উপজেলার সাড়ে সাত হাজার জেলে পরিবারে এখন দুর্দিন। ভরা মৌসুমেও মতলব উত্তর মেঘনায় ইলিশের দেখা না পাওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে জেলেদের। ডুবোচর, দূষণ, ভরা বর্ষায় বৃষ্টি বজ্রপাত নেই তাই সাগর ছেড়ে মেঘনা আসছে না ইলিশ। ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা নেই। ফলে আয় রোজগার এবং কাজ না থাকায় জেলে পরিবারে এখন চলছে দুর্দিন। যেখানে এই ভরা মৌসুমে মেঘনায় জেলেদের জালে বড় বড় ইলিশ ধরা পড়ার কথা সেখানে ধরা পড়ছে যত্সামান্য ছোট আকারের ইলিশ। তা আবার খুবই অপ্রতুল। বিশেষ করে মেঘনা উপকূলীয় ষাটনল জেলেপাড়া, ষটাকী, মোহনপুর, এখলাছপুর ও  আমিরাবাদে মেঘনা অঞ্চলের জেলেদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা।

সারা বছর মেঘনায় আশানুরূপ মাছ না পেয়ে জেলে পরিবারগুলো অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটালেও ইলিশ মৌসুমের অতিরিক্ত আয় দিয়ে তা পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করে তারা। ইলিশ মৌসুমে পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখে-শান্তিতে দিন কাটালেও এবার ঘটছে তার বিপরীত। অন্যান্য বছর এই সময়ে জেলেদের জালে প্রচুর বড় রূপালি ইলিশ ধরা পড়লেও এবার ঘটছে তার ব্যতিক্রম। তারা নদী থেকে মাছ শূন্য হয়েই বাড়ি ফিরছে। আবার নদীতে নৌ-দস্যু ও ডাকাত সন্ত্রাসীদের তত্পরতাও বেড়ে যাওয়ায় মত্স্যজীবীরা এখন এ পেশা ছাড়তে শুরু করেছে।

উপজেলার বিভিন্ন মত্স্য আড়ত্ ঘুরে দেখা যায়, জেলেদের পাশাপাশি তারাও অলস সময় পার করছে। এই সময়টাতে আড়ত্দাররা থাকতো পুরোপুরি ব্যস্ত। সারা বছর সাগরে ও আড়ত্গুলোতে মাছের আকাল চললেও ইলিশ মৌসুমে জেলে ও আড়ত্দাররা থাকে বেশ আশাবাদী। ইলিশের এ মৌসুমকে ব্যবহার করে জেলে ও আড়ত্দাররা সারা বছরের অবলম্বন গ্রহণ করে থাকে। তবে ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা না পাওয়ায় তাদের জীবন-জীবিকার অবলম্বন বলতে উপায় খুঁজে পাচ্ছে না তারা। এর ফলে এ উপজেলার সাড়ে সাত হাজার জেলে পরিবারের সদস্যরা বেকার হয়ে অলস সময় কাটাচ্ছে। তাদের পরিবারগুলোতে চলছে দুর্দিন।

মত্স্য আড়ত্  ব্যবসায়ীর সভাপতি বদরুদ্দিন ভোদাই মিজি বলেন, এ বছর বৈশাখ জৈষ্ঠ্য মাসে তেমন বৃষ্টি না হওয়ায় প্রজনন মৌসুমে ডিম ছাড়ার জন্য ইলিশ মেঘনা উপকূলে তেমন আসেনি। যেখানে ষাটনল মালোপাড়া ১১টি মত্স্য আড়ত্গুলোতে দৈনিক ১০ লাখ টাকার ইলিশ ঢাকা, চাঁদপুর, দাউদকান্দি ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হতো। সেখানে এখন মাত্র ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মাছও সরবরাহ করতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। তিনি আরো  জানান, জেলেদের নৌকা- ট্রলার প্রতি লাখ লাখ টাকা দাদন নিয়ে এখন দাদন নেওয়া টাকা পাওয়ার আশায় আড়তে বসে সময় কাটাতে হচ্ছে।

উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, মেঘনায় অসংখ্য ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ার ফলে ইলিশ অবাদে বিচরণে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় ভরা মৌসুম সত্ত্বেও ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া মেঘনার পানি এবার বদ্ধ ও ঘোলা থাকা আরেকটি কারণ। তাছাড়া গভীর সাগর থেকে ইলিশ উঠছে না।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন