রোগী আছে চিকিত্সা নেই বিভাগ আছে ডাক্তার নেই
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
নাসিরনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আকতার হোসেন ভুইয়া, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী আছে, হাসপাতালে বেডও আছে শুধু ডাক্তার আর চিকিত্সা নেই। রোগীদের চিকিত্সার জন্য বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে। নেই শুধু ডাক্তার। বর্তমান সরকার চিকিত্সা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জোর প্রচেষ্টা চালালেও প্রয়োজনীয় ডাক্তারের অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে দুর্গম এ উপজেলার স্বাস্থ্য সেবা। অসহায় রোগীরা ডাক্তারের সাক্ষাত্ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিত্সক না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিত্সা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের চিকিত্সা সেবার মান বাড়াতে ২০০৭ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ৫০ শয্যা হাসপাতালে ২১ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র দুইজন মেডিক্যাল অফিসার ও দুইজন কনসালটেন্ট কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে কনসালটেন্টদের দেখা না মিললেও দুইজন মাত্র ডাক্তার রোগীদের সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কনসালটেন্ট ডা. মোঃ ফেরদৌস রহমান (কার্ডিওলজি), ডা. মোঃ ইকবাল হোসেন (চক্ষু), ডা.তাবিন্দা আনজুম আজিজ (চর্ম ও যৌন), ডা.নাওমী শরীফ (মেডিক্যাল অফিসার) ও ডা. সোহেলী শারমিন(মেডিক্যাল অফিসার) এই পাঁচজন বিভিন্ন স্থানে প্রেষণে থাকায় তাদের পদে কোনো চিকিত্সক নিয়োগ দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের সিজারিয়ান (সিজার) করা জরুরি হয়ে পড়লেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় তাদের কষ্টের সীমা থাকে না। টেকনিশিয়ানের অভাবে পড়ে রয়েছে অত্যাধুনিক ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাফি এক্সরে মেশিনটি। বন্ধ রয়েছে প্যাথলজিস্ট (ল্যাবঃ) কার্যক্রমও। প্রায় চার লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত নাসিরনগর জনপদে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্র, তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও আটটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে চিকিত্সক, কর্মচারী, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির স্বল্পতা, বিদ্যুত্, পানি, স্যানিটেশন সমস্যা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, জরাজীর্ণ অবকাঠামো, চিকিত্সক ও কর্মচারীদের আবাসিক সংকট, ব্লাড ব্যাংক না থাকাসহ নানাবিধ সংকটে উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য সেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে সরকার ঘোষিত সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা এ উপজেলায় অধরাই বলা চলে।

জানা যায়, উপজেলা হাসপাতালে প্রায় সময় ইনডোরে ৬০/৭০ জন রোগী ভর্তি থাকে এবং আউটডোরে তিন/চারশ’ রোগী  চিকিত্সা দিতে আসে। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্র, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে আটটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের একটিতেও  চিকিত্সক নেই। ফলে গ্রামের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ বাড়ির কাছে চিকিত্সা কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাবিজ আর ঝাড়-ফুঁকই  তাদের একমাত্র ভরসা। কেউ কেউ হাতুড়ে ডাক্তারের অপ-চিকিত্সার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। একাধিক সূত্র জানায় এখানে ডাক্তারদের পোস্টিং দেয়া হলেও তদবির করে তারা প্রেষণে অথবা অন্যত্র বদলি হয়ে চলে যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা  ডা. কে এম হুমায়ুন কবির ডাক্তার সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে হলে জরুরিভিত্তিতে চিকিত্সক প্রয়োজন। ডাক্তার না থাকায় রোগীদের ঠিকমত চিকিত্সা সেবা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তবে প্রতিমাসেই এ বিষয়ে সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হচ্ছে। এদিকে এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন