ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসন
আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ভাঙতে চায় বিএনপি
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ভাঙতে চায় বিএনপি
এন এম নবী, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন আ’লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বড়িকান্দি ও সলিমগঞ্জ ইউনিয়ন দুটিকে পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন সীমানা নির্ধারণে ইউনিয়ন দুটিকে আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ আসনে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ৪৭২ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯২০ জন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে তিনবার আ’লীগ, দু’বার বিএনপি, তিনবার জাতীয় পার্টি (জাপা) একবার চার দলীয় ঐক্যজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি (নাফি) ধানের শীষ প্রতীকে, একবার ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু) নৌকা প্রতীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আ’লীগ ও বিএনপির অন্তত দেড় ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী গণসংযোগ, কর্মী সমাবেশ, মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠক ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এবং উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, পোষ্টার, ফেস্টুন দিয়ে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজেদের প্রার্থীতার কথা ঘোষণা করেছেন। এ আসনে যতই দিন যাচ্ছে ততই নির্বাচনী হাওয়া জোরেশোরে বইতে শুরু করেছে। তবে এ আসনে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জোট এবং মহাজোট প্রার্থীর মধ্যে। যদিও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগের ভোটের ঘাঁটি ভাঙতে চায় বিএনপি।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি সার্জেন্ট মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরি বিশিষ্ট শিল্পপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়জুর রহমান বাদল এমপি নির্বাচিত হয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান। এ সুবাদে উপজেলার নবীনগর-কোম্পানীগঞ্জ রাস্তা বর্ধিতকরণ, মেঘনা নদীর ভাঙন রোধ, তিতাস ও পাগলা নদীতে ব্রিজ, উপজেলা সদরের সঙ্গে কৃষ্ণনগর হয়ে জেলা সদরের সংযোগ সড়ক, রাধিকা ও মহেশ রোড নির্মাণ, ঢাকা থেকে আড়াইহাজার গোপালদী বাঞ্ছারামপুর নবীনগর রাধিকা হয়ে আখাউড়ায় চার লেনের সড়ক এখন জনগণের কাছে স্বপ্ন নয় দৃশ্যমান। এছাড়া উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, মাদ্রাসা, কবরস্থান, শ্মশানসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত নবীনগর-আশুগঞ্জ রাস্তা নির্মাণের জন্য ৪২১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে। তিনি দুর্নীতিমুক্ত ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে সবার মাঝে সুনাম অর্জন করে উপজেলাকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত করেছেন। তাই আগামী নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে জানান।

বর্তমান সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল ছাড়াও আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের উপদেষ্টা উপজেলা আ’লীগের নির্বাহী সদস্য বিশিষ্ট শিল্পপতি সমাজসেবক এবাদুল করিম বুলবুল। দক্ষ সংগঠক হিসেবে তিনি তৃণমূলে ব্যাপক জনপ্রিয়। তিনি বলেন, আমি রাজনীতি করি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের, জননেত্রী শেখ হাসিনার ২০২১-২০৪১ ভিশনকে সামনে নিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে তৃণমূলে কাজ করে যাচ্ছি। মনোনয়ন পাবেন এ দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে তিনি বলেন নেত্রী যাকেই মনোনয়ন দিক নৌকা প্রতীকে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা কাজ করে যাব।

এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি, আ’লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু মঞ্চ ও গার্মেন্টস্ শ্রমিক ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি, আ’লীগের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা নিয়াজ মোহাম্মদ খান, ধানমন্ডি থানা আ’লীগের সাবেক সভাপতি ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল, জেলা আ’লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক কেন্দ্রীয় আ’লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নবীনগর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জি,এস তুখোড় ছাত্র নেতা ব্যারিষ্টার জাকির আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য ঢাকা ট্যাক্সসেস বার অ্যাসোসিয়েশন সাবেক সভাপতি নবীনগর উপজেলা আ’লীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম, উপজেলা মহিলা আ’লীগের আহ্বায়ক জেলা পরিষদের কাউন্সিলর অধ্যাপক নূরুন্নাহার বেগম, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ এ.কে.এম মমিনুল হক সাঈদ, তরুণ আ’লীগ নেতা ড. হুমায়ন কবির, জহিরউদ্দিন সিদ্দিক টিটু, সাবেক ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মো. আলামিনুল হক আলামিন।

১৪ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি, সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহেমদ খোকন মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছি। নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

মহাজোটের শরিক বর্তমান বিরোধী দল জার্তীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের আইন উপদেষ্টা, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি কাজী মামুন-অর-রশিদ। তিনি মহাজোট থেকে মনোনয়ন পাবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পল্লীবন্ধু হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বাংলাদেশ উন্নয়নের একটি মডেল। বড় দুই দলকে মানুষ পছন্দ করে না, তৃতীয় দল হিসেবে জাতীয় পার্টিকেই ক্ষমতায় দেখতে চায় জনগণ।

বিএনপির মনোনয়নের প্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাষ্টার দ্যা সূর্যসেন হলের সাবেক জিএস ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সাঈদুল হক সাঈদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি জাসাস এর সাবেক সভাপতি তুখোড় ছাত্র নেতা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয়  কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক, জেলা কৃষক দলের সভাপতি, তকদির হোসেন মোঃ জসিম,  এই আসন থেকে চারবারের এমপি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেনের সুযোগ্য উত্তরসূরি জেলা বিএনপি’র সদস্য বিশিষ্ট শিল্পপতি কাজী মোঃ নাজমুল হোসেন তাপস, ট্যাক্স ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা গোলাম সারওয়ার, উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জেলা বিএনপির সদস্য, কেন্দ্রীয় জিয়া পরিষদের সহকারী মহাসচিব মাঠ পর্যায়ে ত্যাগী কর্মী আলী আজ্জম জালাল। তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানকে নিয়ে লেখা চারটি বইয়ের প্রকাশক। বিএনপি’র আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী তরুণ নেতৃত্ব ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু।

অপরদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দলের অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট মাহমুদ হোসেন সরকার পাশা তার দলের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন।

এছাড়া  মহাজোটের শরীক দল ইসলামী ঐক্যজোট থেকে একক প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ইসলামী ঐক্যজোট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ মাওলানা মেহেদী হাসান। তিনিও মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন