সৈয়দপুরে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সিনেমা হল
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
সৈয়দপুরে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সিনেমা হল
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

সৈয়দপুর শহরে সিনেমা হল ব্যবসায় চরম দুর্দিন চলছে। একসময়ে এ উপজেলা শহরটিতে চারটি সিনেমা হল ছিল। দর্শকের অভাবে শহরের তিনটি সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে ইতোমধ্যে।

বর্তমানে শুধু একটি সিনেমা হল কোনোরকমে চালু রয়েছে। তাও চলছে লোকসান দিয়ে।  সেটিও যেকোন সময় বন্ধ হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত টেকনিশিয়ান, সুপারভাইজার, টিকিট মাস্টার, নাইটগার্ডসহ প্রায় শতাধিক পরিবার পথে বসেছে। যাদের মধ্যে বর্তমানে অনেকেই বেকার আবার কেউ কেউ জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছে অন্য  পেশা। কিন্তু পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় তাতেও তারা ভালো করতে পারছেন না।

উত্তর জনপদের নীলফামারীর বাণিজ্য প্রধান ও শ্রমিক অধ্যুষিত উপজেলা শহর সৈয়দপুর। এক সময় এ শহরটিতে বিজলী টকিজ, লিবার্টি, গ্যারিসন, তামান্নাসহ চারটি সিনেমা হল ছিল। আর এসব সিনেমা হলের প্রতিটি ‘শো’ পরিপূর্ণ থাকত দর্শকে। ঘিঞ্জি শহরের মানুষ ছাড়াও প্রত্যন্ত পল্লীর সব বয়সী মানুষ সিনেমা দেখতে ভিড় করত সিনেমা হলগুলোতে। দর্শকদের চাহিদার কারণে অনেক বাংলা ছায়াছবি মাসের পর মাস চলত। তারপরও দর্শকদের কোনো কমতি ছিল না।

শহরের অভিজাত সিনেমা হল ছিল ‘বিজলী টকিজ’। ওই সিনেমা হলটিতে “ছুটির ঘণ্টা” ছায়াছবিটি কয়েক মাস ধরে চলে। তারপরও দর্শকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দর্শক সংকটে বিজলী টকিজ এখন বন্ধ। সেখানে বর্তমানে গড়ে  তোলা হচ্ছে অত্যাধুনিক সুপার মার্কেট ‘চৌধুরী টাওয়ার’। একই অবস্থা লিবার্টি সিনেমা হলেরও। এটি শহরের প্রাচীনতম ও ঐহিত্যবাহী  সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন সৈয়দপুর শিল্প-সাহিত্য সংসদের। তবে সেটি ভাড়ায় নিয়ে সিনেমা হল হিসেবে চলত। বর্তমানে সেখানেও গড়ে তোলা হয়েছে একটি সুপার মার্কেট। আর সৈয়দপুর  সেনানিবাসের গ্যারিসন সিনেমা হলটিও বন্ধ করে  সেখানে সেনা কমিউনিটি সেন্টার করা হয়েছে।

গত ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ওই তিনটি সিনেমা হল পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে পড়ে। বর্তমানে শহরের একমাত্র সিনেমা হল ‘তামান্না’। এটি ভাড়ায় নিয়ে চালাচ্ছেন জনৈক মাহবুব আলী ঝন্টু। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সিনেমা হল ব্যবসায় জড়িত তিনি ও তার পরিবার। সিনেমা ব্যবসার বর্তমান অবস্থা নিয়ে ঝন্টু বলেন, সিনেমা হল ব্যবসা এখন আর নেই। এখন হল ব্যবসায় লোকসান চলছে।

তিনি বলেন, আমাদের  দেশে আগের মতো ভালো ছবি তৈরি হচ্ছে না। ফলে সিনেমা হলে এখন আর আগের মতো তেমন দর্শক হয় না। কিন্তু প্রতিমাসে সিনেমা হল ভাড়া, কাস্টমস্ ভ্যাট, পৌর কর, কর্মচারী, বিদ্যুত্ বিল নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে। এভাবে  লোকসান দিয়ে কি আর হল ব্যবসা করা সম্ভব। তিনি জানান, গেল  ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাকিব খানের ‘ক্যাপ্টেন খান’ ছবি এনেছি। দুই সপ্তাহ গত হলো।  সিনেমা হলে তেমন আশানুরূপ দর্শক আসেনি। তিনি বলেন, আগে ভালো ভালো বাংলা ছায়াছবি  তৈরি হতো। ফলে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে সিনেমা হলে আসত ছবি  দেখতে।

 সৈয়দপুরের সংস্কৃতিকর্মী শেখ রোবায়েতুর রহমান রোবায়েত বলেন, সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখবেন  সে অবস্থা আর এখন আছে ? এখনকার বাংলা চলচ্চিত্রগুলোতে শুধু অশ্লীলতায় পরিপূর্ণ। মানুষের জীবন ঘনিষ্ঠ ও কাহিনিনির্ভর ছবি তৈরি  হচ্ছে না। পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে একসঙ্গে দেখা সম্ভব হয় না।

বিজলী সিনেমা হলের গেটম্যান মো. বাবু বলেন, অনেকদিন ধরে সিনেমা হলে কাজ করেছি। মানুষ এখন আর সিনেমা দেখতে আসেন না। তাই মালিক হল বন্ধ করে সেখানে বহুতল মার্কেট তৈরি করছেন।

বিজলী সিনেমা হলের ম্যানেজার ছিলেন  মো. খায়রুল আলম। বর্তমানে হল বন্ধ হওয়ায় সম্পূর্ণ বেকার তিনি। ভারতীয় সিরিয়ালের কাছে দেশীয় সিনেমা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই দর্শকরা সিনেমা হল থেকে মুখ ফিরিয়ে  নেওয়ায় হলগুলো বন্ধ হয়ে পড়ছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন