ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৯ ফাল্গুন ১৪২৫
২৭ °সে

মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ভৈরবের অনেক নদী

মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে  ভৈরবের অনেক নদী
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ):পলি জমে নাব্য হারানো শীতল পাটি নদী —ইত্তেফাক

ভৈরবে সকল নদী এখন পানিশূন্য, বন্ধ রয়েছে নৌ-চলাচল। বছরের পর বছর ধরে পলি জমে সকল নদী এখন ভরাট হয়ে নাব্য হারিয়েছে।

নদীর দু’পাড়ে হাজার হাজার কৃষক নদীর পানি দিয়ে শত শত হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করত। ছোট-বড় নানান জাতের মাছের অফুরন্ত উত্স ছিল এই নদীগুলোতে। কালের সাক্ষী হয়ে কোনো রকম টিকে থাকা নদী ভরা যৌবন হারিয়ে পরিণত হয়েছে মরা খালে। দীর্ঘদিন ধরে নদী খনন না করায় নাব্য কমে গিয়ে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

নদী বন্দর হিসেবে খ্যাত ভৈরবের পরিচিতি আর আগের মতো নেই। এক সময় নদীর বন্দরকে ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে পলি জমে সকল নদী এখন ভরাট হয়ে গেছে। সেখানে চলছে ধানের আবাদ।

ড্রেজিংয়ের অভাবে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ভৈরবের নদীগুলো। এ অঞ্চলে প্রবাহিত যেসব নদীর এখনো কোনো রকম অস্তিত্ব টিকে আছে সেগুলোর পানির প্রবাহও কমে মরা খালে পরিণত হয়েছে। এসব নদীতে এক সময় ঢেউয়ের তালে তালে চলতো অসংখ্য নৌযান। নদীর সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও গড়ে উঠেছিল অনেক জনপদ ও হাট-বাজার। নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওইসব জনপদসহ আশেপাশের অনেক মানুষ ওইসব হাট-বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে খুঁজে পেয়েছিল জীবন-জীবিকার পথ।

কিন্তু নদীগুলো দিন দিন ভরাট হয়ে যাওয়া অস্তিত্ব বিলীন হতে চলছে। স্থবির হয়ে পড়েছে নদী কেন্দ্রিক লাখ লাখ মানুষের জীবন জীবিকা। ফলে এভাবেই নদীগুলো মানচিত্র থেকে দিন দিন মুছে যাচ্ছে। ছোট-বড় নানান প্রজাতির মাছেরও উত্স ছিল এসব নদীতে। কিন্তু মাছ ধরতে না পারায় এখানকার জেলে সমপ্রদায় পেট বাঁচাতে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এসব এখন কেবলই কালের সাক্ষী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমিন বলেন, নদী বন্দর খ্যাত যে নদীগুলো দিয়ে পণ্যবাহী নৌ-যান চলাচল করত তা আর এখন দেখা যায় না। তা ছাড়া এ অবস্থার কারণে সেচ কাজও ব্যাহত হচ্ছে। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন