ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৬
২০ °সে

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসন

আওয়ামী লীগে একক, বিএনপি ও অন্য দলে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন জমা

আওয়ামী লীগে একক, বিএনপি ও অন্য দলে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন জমা

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের একজন, বিএনপির ছয়জন প্রার্থী ও জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দল থেকে আরো চারজন প্রার্থী সব মিলে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করে স্ব স্ব দলের কাছে জমা দিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এখানে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ (এমপি)। বিএনপি থেকে সাবেক এমপি জহিরউদ্দিন স্বপন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক ও বরিশাল সদর উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, নির্বাহী সদস্য ও আইনজীবী পরিষদের সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, নির্বাহী সদস্য ও গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহান, গৌরনদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান (মুকুল), আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বশির আহম্মেদ পান্না, দলীয় ফরম সংগ্রহ করে দলীয় কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া এখানে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম রহমান পারভেজ ও অ্যাডভোকেট সেরনিয়াবাত সেকান্দার আলী। জাকের পার্টির বাদশা মুন্সী ও এনডিবির প্রার্থী হয়েছেন তৌহিদী মাহমুদ তুহিন। ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন মেহেদী হাসান রাসেল। সকলেই মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে তা পূরণ করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।

বিগত ১০টি সংসদ নির্বাচনে এখানে পাঁচবার আওয়ামী লীগ, তিনবার বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী দুইবার জয়লাভ করেছেন। বর্তমান সরকারের আমলে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আসন্ন নির্বাচনেও এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি। আওয়ামী লীগে একক প্রার্থী হলেও এ আসনে বিএনপিতে রয়েছে বিভক্তি। যার ফলে বিএনপির চার নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তবে বিভক্তি ঘুচিয়ে গেলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মিলে এ আসনে ভোটের লড়াই হবে প্রতিযোগিতামূলক।

১৯৭৩ সালে তত্কালীন বাকেরগঞ্জ-১৩ (বর্তমান বরিশাল-১) আসনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বোন জামাতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হন। ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সাথে অন্য যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ছিলেন অন্যতম। আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের মৃত্যুর পর তার বড় পুত্র আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ১৯৯১ সালে বরিশাল-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালে পুনরায় এ আসন দিয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল বিএনপি মনোনীত ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব। ওয়ান ইলেভেনের সময় দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা জটিলতায় ২০০৮ সালে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় এ আসন দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন তার (হাসানাত) স্নেহভাজন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস। তিনি বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সবশেষে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ নির্বাচিত হন। বর্তমান সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের ওপর ভর করে একাদশ নির্বাচনেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

বরিশাল-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর ইতোমধ্যে জমা দিয়েছেন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান, কার্যনির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, কেন্দ্রীয় কমিটির বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন।

বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকে অদ্যাবধি মাঠপর্যায়ে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম ও দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের নিয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান। এজন্য তাকে হামলা ও মামলার শিকার হয়ে কারাভোগও করতে হয়েছে। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুস সোবাহান একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারেও শতভাগ আত্মবিশ্বাসী।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮
আর্কাইভ
 
বেটা
ভার্সন