অতিপ্রাকৃত
জিন মিষ্টি খায়!
০৩ অক্টোবর, ২০১৪ ইং
জিন সম্পর্কে অনেক কথাই আছে। এক্ষেত্রে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে জীবজন্তুর মধ্যে কেবল জিন-ইনসানের বিচার হবে। অবশ্য জ্বিনের অস্তিত্ব নিয়ে কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেন। আবার অনেকে বিশ্বাস করলেও মুহূর্তে আবার অলৌকিকতার আওতায় ফেলে বেমালুম নয়-ছয় চিন্তা করতে থাকেন। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, ১৯৮৭ সালে মিষ্টির মার্কেটিং নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত জরিপ হয়েছিল, যার টিম লিডার ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশীদুল হাসান। উক্ত জরিপের সাথে আমি সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিলাম। এই জরিপে আমরা বিভিন্ন ইনকাম গ্রুপের Representative sample হিসেবে ১৭৫ জনের (প্রণয়নকৃত প্রশ্নমালার মাধ্যমে) সাক্ষাত্কার নেই। আর যে সমস্ত ব্র্যান্ডের মিষ্টি এর আওতায় ছিল, তা হলো আলাউদ্দিন সুইটমিট, মরণচাঁদ, মুসলিম, জলখাবার ইত্যাদি। এক্ষেত্রে ভোক্তাদের পাশাপাশি মিষ্টি দোকান মালিকদেরও সাক্ষাত্কার নেয়া হয়। আর এটি এলাকাভিত্তিক (Chunk) করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আমরা যখন পুরোনো ঢাকার মিষ্টি দোকান মালিকদের সাথে তাঁদের বিক্রয়ের পরিধি ও এর আওতার শ্রেণীভিত্তিক ভোক্তাদের নিয়ে কথা বলি, তাতে মজার তথ্য উদঘাটিত হয়ে আসে। এ প্রেক্ষাপটে অধিকাংশ দোকান মালিকরা বলেন যে, তাঁদের পটেনশিয়াল ক্রেতার একাংশ হলো জিন। তারা মানুষ রূপে রাত ১২ টার পরে মিষ্টি কিনতে আসে। কিন্তু তাদের অবস্থান ও প্রকৃতি সাধারণ মানুষ না বুঝতে পারলেও দোকানদাররা ঠিকই বুঝতে পারেন।

সঙ্গত কারণেই জিন সম্পর্কে অন্যান্য বিষয়াদি যিকঞ্চিত্ তুলে ধরছি। এ প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য যে, জিন জাতির উদ্ভব সম্পর্কে যতদূর জানা যায়, তাতে দেখা যায় মানব সৃষ্টির প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে এদের সৃষ্টি। আসলে জ্বিনের অস্তিত্ব সম্পর্কে অনেকেই সন্দেহ পোষণ করেন। কিন্তু জিন সম্পর্কে আল-কোরআন ও হাদিসে জোরালো যুক্তি রয়েছে। মূলত জিন শব্দের অর্থ হলো গুপ্ত, অদৃশ্য, লুক্বায়িত ইত্যাদি। উল্লেখ্য যে, শয়তান বা ইবলিস জ্বিনের বংশধর। আল্লাহপাকের অবাধ্যতার কারণে তার এহেন অবস্থা। সাধারণত জিন জাতি কয়েক শ্রেণীর আওতাভুক্ত- যেমন: ক) জিন (সাধারণ জিন), খ) আমির (যারা মানুষের সাথে থাকে), গ) আরওয়াহ (যারা মানুষের সম্মুখে বিভিন্ন সুরতে আবির্ভূত হয়, ঘ) শয়তান (যারা সৃষ্টিরকর্তার অবাধ্য, ঔদ্ধত ও অহংকারী, ঙ) ইফরীত্ব (যারা অনেক সময় শয়তানের চেয়ে ভয়ংকর)। উল্লেখ্য যে, জিনদের গঠনমূলক কায়া সূক্ষ্ম ও অবিমিশ্র। হাদিস শরীফে বলা হয়েছে যে, আল্লাহতা’লা আবুল জিন্নাত সামুমকে (ইনসানের আদি পিতা আদমের ন্যায় জিন জাতির আদি পিতা) আগুনের শিখা দিয়ে তৈরি করার পর আল্লাহপাক বলেন, “তুমি কি চাও”। উত্তরে জিন্নাত সামুম বলে, “আমি ও আমার জাতির জন্যে তিনটি জিনিস চাই- প্রথমত. এ দুনিয়াতে যেন অদৃশ হয়ে থাকতে পারি, দ্বিতীয়ত. বৃদ্ধ হয়ে যেন আবার যুবক হয়ে মারা যাই এবং তৃতীয়ত. মারা গেলেও, এই ভুবনের মাঝে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারি। আল্লাহতা’লা তার প্রার্থনা মঞ্জুর করার পর চাহিত সবকিছুর আবর্তে তারা এই বিশ্বে সূক্ষভাবে বিচরণ করতে থাকে। উল্লেখ্য যে, আরব্য রজনীর কাহিনীর মতো সবসময় জিন অসাধ্য সাধন করতে পারে না। কেননা ঝড়-বাদলের দিনে জিনরা চলতে পারে না। কারণ তারা আগুনের তৈরি বিধায় বৃষ্টির সময় আয়োনাজাইশেন ও বজ্রপাতের তীব্র আলোক ছটায় তাদের ক্ষতি হয়ে থাকে এবং কোন ঘরে যদি নির্দিষ্ট কিছু দোয়া-কালাম ও কাঁচা লেবু থাকে, তাহলে ঐ ঘরে জিন প্রবেশ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আর একটি কথা মানুষ মাটি দিয়ে সৃষ্টি হলেও, শেষ পর্যন্ত এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কারণ মানুষ মূলত মাটি, পানি, বায়ু ও অগ্নির সংমিশ্রণ। আর তাই জিন আগুনের শিখা দিয়ে পয়দা হলেও তাদের দেহে জলীয় পদার্থের সমাবেশ লক্ষণীয়। এর স্বপক্ষে যুক্তি হলো: রসুল (স.) একদা উল্লেখ করেছিলেন যে, শয়তান বলে একটি জিন একদা নামাজের সময় তাঁর সাথে মোকাবিলা করতে এলে তিনি ঐ জিনকে গলা টিপে ধরলে, সেইক্ষণে জ্বিনের থুথুতে শীতলতা অনুভব করেছিলেন। এতে প্রতীয়মান হয় যে, জিন যদি পুরোপুরি দাহ্য হতো, তাহলে ঠাণ্ডা থুথুর থাকার কথা নয়। এদিকে জিন তিন প্রকারের আওতায় বিদ্যমান, প্রথমত. জমিনের সাপ, বিচ্ছু, পোকা-মাকড়, ইত্যাদি; দ্বিতীয়ত. শূন্যে অবস্থান করে এবং শেষত সেই প্রকারের জিন, যাদের রয়েছে পরকালে হিসাব। পূর্বেই বলেছি, এরা সূক্ষ্ম, তাই স্থূল মানুষ বা পশু-পাখি জিনদের দেখতে পারে না। তবে কুকুর ও উট এদের হুবহু দেখতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য যে, রাতে কোন অপরিচিত বস্তু বা জীব চোখে না দেখা গেলেও কুকুর কি যেন দেখে ছুটাছুটি ও ঘেউ ঘেউ করলে তাতে জ্বিনের আবির্ভাব হয়েছে বলে বুঝতে হবে। জিন বহুরূপী। এরা মানুষ, পশু-পাখি, ইত্যাদি যে কোন সুরত ধরতে পারে। সেই ক্ষণে উক্ত জীবের বৈশিষ্ট্যের আদলে তার ঘনত্ব কম-বেশি হয়ে থাকে এবং মানুষের দৃষ্টির মধ্যে আসে।

এখন আবার আমাদের প্রতিপাদ্য কথায় ফিরে আসি। হয়তো বর্ণিত আলোচনায় বাস্তব তথ্যাদি থেকে পাওয়া গিয়েছে যে জিনদের মিষ্টি খুব প্রিয় এবং যা শখ করে খেয়ে থাকে। আর এটা পবিত্র আল-কোরআন ও হাদিস দ্বারা সমর্থিত। তবে জিনদের সম্পর্কে কাজী আবু ইয়ালা (রহঃ) বলেছেন যে, জিন মানুষের ন্যায় খাওয়া-দাওয়া করে থাকে। এরাও চিবিয়ে এবং গিলে খায়। তাছাড়া জ্বিনের খাওয়া-দাওয়া নিয়ে ইয়াবীদ বিন জাবির বলেছেন যে, মুসলমান জিন মানুষরা বাড়িতে যে খাবার রাখে, আর সেই বাড়ির চালে কিম্বা ছাদে বসবাসরত ঐ জিনরা নেমে এসে সে খাবার খেয়ে থাকে। অনেক সময় মানুষের সাথে বসেও খায়, অথচ মানুষ স্থূল বিধায় অতসব খেয়াল করতে পারে না। আর এসব জিনরা মানুষদের বালা-মুসিবত ও মন্দ-জিন থেকে রক্ষা করে থাকে। এদিকে খারাপ জিনরা সাধারণত নাপাক নোংরা জায়গায় থাকে, যেমন-ময়লার গাদা, আঁস্তাকুড়, নর্দমা, গাছের ঝাড়, গোসলখানা, পায়খানা, ইত্যাদি। মূলত জ্বিনের প্রধান খাদ্য হলো- হাড়, গোবর, কয়লা ইত্যাদি। তিরমিযী হাদিসে উল্লেখ আছে যে, নবী করীম (স.) বলেছেন, “তোমরা দুটি জিনিস অর্থাত্ হাড় ও গোবর দিয়ে ইন্তিজা করো না, কেননা ওগুলো হলো তোমাদের জিন ভাইদের খাদ্য”। আর তারা শখ করে পরম আদরে মিষ্টি খেয়ে থাকে। তাই বর্ণিত জরিপে পুরোনো ঢাকার উদ্ঘাটিত সত্যের আলোকে মিষ্টি খাওয়ার বিষয়টির সাথে হুবহু মিল আছে। সেহেতু জিন আছে বা নেই সে বিষয়ে আর সন্দেহ তো থাকার কথা নয় এবং জ্বিনে যে মিষ্টি খায় সেটা সম্পর্কেও আর সংশয়ের অবকাশ নেই।

লেখক : গবেষক

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৫
যোহর১১:৪৮
আসর৪:০৫
মাগরিব৫:৪৭
এশা৬:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৫০সূর্যাস্ত - ০৫:৪২
পড়ুন