অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণের আধুনিক কৌশল
অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণের আধুনিক কৌশল
বিশ্ব অ্যাজমা দিবসের লক্ষ্য অ্যাজমা আক্রান্তদের জন্য সচেতনতা, সেবা এবং সমর্থন গড়ে তোলা। এর প্রাথমিক লক্ষ্য অ্যাজমা আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করা হলেও সাহায্যের পরিধি পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দেখাশোনা করার লোকদের পর্যন্ত বিস্তৃত করা যেতে পারে। যদিও অ্যাজমা সম্পূর্ণরূপে সারিয়ে তোলা যায় না, কিন্তু এর উপসর্গসমূহ নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে অ্যাজমা আক্রান্ত লোককে স্বাভাবিক জীবন যাপনে সমর্থ করে তোলা যায়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এখন অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে হলিস্টিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে সুফল পাওয়া যাচ্ছে। এতে অ্যাজমা রোগীর ওষুধের পাশাপাশি মানসিক চাপ (স্ট্রেস) নিয়ন্ত্রণের কৌশল প্রয়োগ করে সুফল মিলছে। এক্ষেত্রে মেডিটেশন, প্রাণায়াম ও যোগব্যায়াম চর্চা অত্যন্ত উপকারী হয়ে উঠেছে। ফলে বহু অ্যাজমা রোগী এখন সীমিত ওষুধ ব্যবহার করছেন।

বিশ্ব অ্যাজমা দিবস হলো GINA (The Global initiative for asthma) কর্তৃক সমর্থিত যা সারা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সচেতনতা গড়ে তোলার ব্যাপারে সাহায্য করতে কাজ করছে। বিশ্ব অ্যাজমা দিবস ওয়ার্ল্ড অ্যাজমা ফাউন্ডেশন কর্তৃকও সমর্থিত। বিশ্ব অ্যাজমা দিবস ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো চালু হয়। প্রথমবার দিবসটি স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্ব অ্যাজমা সম্মেলনের সাথে একই দিনে উদযাপন করা হয়। ৩৫টিরও বেশি দেশ এতে যোগদান করেছিলো। কালের প্রবাহে বিশ্ব অ্যাজমা দিবসের পরিধি বেড়েছে এবং এটি বর্তমানে সারা বিশ্বব্যাপী অ্যাজমার ব্যাপারে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য সবচেয়ে বড় ইভেন্ট হিসেবে পরিচিত। অন্য সচেতনতামূলক ইভেন্টের মতই এ দিবসকে ঘিরেও একটি প্রতিপাদ্য বিষয় ঠিক করা হয় যা কর্মতত্পরতার সারকথা সম্পর্কে জ্ঞাত করে। পূর্ববর্তী অ্যাজমা দিবসগুলোর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো ‘অ্যাজমার গুরুভার লাঘব করো’। এতে অ্যাজমা আক্রান্ত লোকদের ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে সচেতন করে তোলা হয় যা তাদের পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে চলার ব্যাপারে সহায়তা করবে।

অ্যাজমার সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপসমূহ :

১. ডাক্তারের সহায়তায় নিজের জন্য একটি অ্যাজমা ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করুন। এই ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা অ্যাজমা আক্রান্ত ব্যক্তির উপযোগী করে তৈরি করতে হবে এবং এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে কোন্ ওষুধ গ্রহণ করতে হবে এবং অ্যাজমার ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ ঝুঁকির বিষয় পরিহার করতে হবে।

২. আপনার ডাক্তার কর্তৃক নির্দেশিত প্রাসঙ্গিক ওষুধ সেবন করুন যা অ্যাজমার উপসর্গগুলো লাঘব করে এবং শ্বাসনালীর প্রদাহ এবং ফুলে ওঠা নিয়ন্ত্রণ করে।

৩. যেসব ঝুঁকির বিষয়গুলো অ্যাজমার উপসর্গ সৃষ্টি করে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে এমন ঝুঁকির বিষয়গুলোর ব্যাপারে নিজেকে প্রশিক্ষিত করে তুলুন।

৪. কখন উপসর্গগুলো গুরুতর হচ্ছে এটা বুঝতে শিখুন।

৫. যদি কোনো সময় আপনার অ্যাজমা অ্যাটাক ঘটে তার জন্য প্রস্তুতি নেয়া। যেমন: একটি কার্ড বহন করা যা অন্যদেরকে আপনার পরিস্থিতি এবং আপনার যদি মারাত্মক অ্যাজমা অ্যাটাক ঘটে তখন কি করতে হবে সেসব নির্দেশনার বিষয়ে জ্ঞাত করবে।

 সত্যি বলতে কি শিশু-কিশোরদের মধ্যে অ্যাজমার প্রকোপ অন্য যে কোনো রোগের চাইতে বেশি। আমেরিকাতে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ মিলিয়ন শিশু-কিশোর অ্যাজমাতে আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে ৫ বছরের নিচের শিশুর সংখ্যা ১.৩ বিলিয়ন। ৫ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগে প্রায় অর্ধেক শিশুর মধ্যেই অ্যাজমার লক্ষণ দেখা যায়। দু’জন অ্যাজমার রোগী কখনোই হুবহু একই উপসর্গ নিয়ে আসে না। অ্যাজমা খুবই ব্যক্তিকেন্দ্রিক রোগ। কাজেই আপনার শিশুর দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন। শিশুদের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশর বেশি অ্যাজমাই এলার্জি জনিত, তাই এলার্জি চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। কারণ তিনিই এলার্জি টেস্ট করে বলে দিতে পারবেন শিশুর এলার্জির কারণ কি? এলার্জি সনাক্ত করা গেলেই তখন এলার্জি জনিত রোগের সমন্বিত চিকিত্সা পদ্ধতি অর্থাত্ এলারজেন পরিহার, এলার্জির জন্য ওষুধ ও এলার্জি ভ্যাকসিন চিকিত্সা অনুসরণ করলেই আপনার সন্তান এলার্জি জনিত অ্যাজমা থেকে মুক্তি পাবে।

n লেখক: চিকিত্সক


 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
৩ মে, ২০১৮ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:৩১
এশা৭:৪৯
সূর্যোদয় - ৫:২৩সূর্যাস্ত - ০৬:২৬
পড়ুন