শিক্ষার অনন্য এই পদ্ধতি ‘টেন মিনিট স্কুল’
ইকরাম কবীর১২ মে, ২০১৬ ইং
শিক্ষার অনন্য এই পদ্ধতি ‘টেন মিনিট স্কুল’
 ‘অনলাইনে শিক্ষাগ্রহণ আগামীর কোনো বিষয় নয়, এটি এরই মধ্যে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় জায়গা করে নিয়েছে।’ ঠিক এভাবেই অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষাগ্রহণের ব্যাপারটিকে এককথায় ব্যাখ্যা করেছেন পুরস্কারপ্রাপ্ত টিডি ম্যাগাজিনের সাবেক সম্পাদক ডোনা জে. অ্যাবারনাথি। আমরাও বুঝতে পারি, তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে শিক্ষাক্ষেত্রে সম্প্রতি এক আমুল পরিবর্তন এসেছে। গুটিকয়েক মানুষের ভাগ্যপরিবর্তনের বদলে অনলাইন শিক্ষা উপকরণ হয়ে উঠেছে সর্বজনীন। বিশেষ করে সাশ্রয়ী মূল্যের প্রযুক্তি ও মানসম্পন্ন কন্টেন্ট সহজলভ্য হওয়ায় অনলাইনে শিক্ষাগ্রহণ প্রথাগত শিক্ষণপদ্ধতির গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বর্তমানে একজন শিক্ষার্থী পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসারি না গিয়েও অনলাইনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণ করতে পারেন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা নিশ্চিতভাবে ব্যয়সাশ্রয়ের পাশাপাশি অনলাইন লাইব্রেরি থেকে সর্বাধুনিক শিক্ষা উপকরণ গ্রহণের সুযোগ পান। এছাড়া বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও সাস্কৃতিকপরিমণ্ডল থেকে আসার কারণে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে তাদের শিক্ষাকে আরো সমৃদ্ধ করার সুযোগ পান।

বাংলাদেশেও শিক্ষার এ পদ্ধতিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহূত হচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ৩৬ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ায় দেশে অনলাইন ব্যবহারকারীদের একটি বড় বলয় গড়ে উঠেছে। বিশেষকরে ফেসবুকের বেসিকফ্রি ইন্টারনেট প্লাটফরম চালু হওয়ায় ইন্টারনেট আর মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতে সীমাবদ্ধ নেই। আর সে প্রেক্ষাপটের সুফল কাজে লাগিয়ে ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একদল শিক্ষার্থী চালু করেছে একটি অনলাইন এডুকেশনাল প্লাটফরম। তারা এর নাম দিয়েছে ‘টেন মিনিট স্কুল’। এ তাত্পর্যপূর্ণ উদ্যোগে সহযোগী হিসেবে এগিয়ে এসেছে মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড।

বাংলাদেশের সব শিক্ষার্থীই শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে তাদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন দেখেন। এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য তুমুল প্রতিযোগিতার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেন উচ্চমাধ্যমিক শেষ করা শিক্ষার্থীরা। এক্ষেত্রে শহুরে শিক্ষার্থীদের বিশেষ সহযোগিতা গ্রহণের সুযোগ থাকলেও অন্যান্যরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এতে দেশের সকল শীর্ষস্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত পরিপূর্ণ সহায়িকা দেওয়া আছে। এছাড়া জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বিনামূল্যে বিষয়ভিত্তিক অনলাইন কোর্স, টিউটোরিয়াল ও কুইজ দেওয়া আছে। এর ফলে স্কুল শেষে শিক্ষার্থীদের ব্যয়বহুল কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরতা কমবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।

এছাড়া স্যাট, আইইএলটিএস, জিআরই, জিম্যাট’র পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিনামূল্যে রয়েছে আলাদা আলাদা কোর্স। এখন শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারে না গিয়ে বা পাঠ্যবই না খুলেও নিজেদের মতো করে অনলাইনে শিখতে ও অনুশীলন করতে পারবেন। শুধু প্রয়োজন তাদের স্মার্টফোন / ল্যাপটপ / পার্সোনাল কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ এবং শুধু ১০ মিনিট বাড়তি সময়!

টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও আয়মান সাদিক। এমন উদ্যোগের নেপথ্যে তার ভাবনাটা ছিল এমন কিছু করা যাতে যে কেউ যে কোনো স্থান থেকে যে কোনো কিছু শিখতে পারেন এবং সেটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।  এক্ষেত্রে লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রতিটি প্রান্তে সবার কাছে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। আর তাদের এই কার্যক্রমে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে—রবি। একটি দায়িত্বশীল টেলিকম অপারেটর হিসাবে এবং শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রবি ‘টেন মিনিট স্কুল’ নামের এই সম্ভাবনাময় প্রকল্পের সাথে আছে। সমাজকে ডিজিটালাইজেশন করার প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে রয়েছে টেলিযোগাযোগ শিল্প। গ্রাহকরা তাদের মৌলিক চাহিদা যেমন—শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি মেটাতে খুব দ্রুত ডিজিটাল পদ্ধতি গ্রহণ করছে। এ ব্যাপারে রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ কর্পোরেট এবং পিপল অফিসার মতিউল ইসলাম নওশাদের অভিমত হলো—রবি বিশ্বাস করে যে, ‘টেন মিনিট স্কুল’ পড়াশোনার  প্রথাগত ধারণাটাই বদলে দেবে।   শিক্ষার্থীদের অবস্থান, অর্থনৈতিক অবস্থা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দূরত্ব—সব কিছুকে ছাড়িয়ে শিক্ষাকে তাদের দুয়ারে পৌঁছে দিতে কাজ করবে এটি।

www.10minuteschool.com-এ বর্তমানে দেড় হাজারেরও বেশি কুইজ এবং দুশো পঞ্চাশটিরও বেশি ভিডিও রয়েছে। ৪১ জন প্রশিক্ষক, বিদ্যমান সমৃদ্ধ তালিকাতে নতুন টপিক এবং মডিউল যোগ করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সাইটে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপরীক্ষা সংশ্লিষ্ট পৃথক তথ্য যেমন—ভর্তি পরীক্ষার জন্য যোগ্যতার মানদণ্ড, আসন, ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ইত্যাদি ইনফোগ্রাফ ফরমে রয়েছে। প্রত্যেকটি কোর্স মডিউলের জন্য অডিও-ভিজুয়াল কন্টেন্ট দেওয়া হচ্ছে, বিভিন্ন কুইজের সমাধান দেওয়া হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজের মতো করে শিখতে পারে। বর্তমানে এক লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী সাইটটি ব্যবহার করছে এবং এই সংখ্যা প্রতি মিনিটে বাড়ছে। স্কুল এবং কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের  মধ্যে আরো বেশি সচেতনতা তৈরি করতে এবং তাদেরকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার জন্য রয়েছে বিভিন্ন কার্যক্রম। ‘টেন মিনিট স্কুল’ শিক্ষার মূল বিষয়বস্তুর সাথে আপস না করে শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে প্রথম সারিতে নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার অনন্য এই পদ্ধতিটি আপন শক্তিতে জ্বলে ওঠা শিক্ষানুরাগিদের প্রয়োজনীয় সবকিছুই তুলে ধরছে।

n লেখক : কথাসাহিত্যিক

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ মে, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৫৪
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:৩৫
এশা৭:৫৫
সূর্যোদয় - ৫:১৭সূর্যাস্ত - ০৬:৩০
পড়ুন