‘আমরা কি আদৌ মুক্ত?’
১৩ মার্চ, ২০১৮ ইং
‘আমরা কি আদৌ মুক্ত?’
সুমাইয়া ইসলাম সিফাত

আমরা কি আদৌ মুক্ত? যেখানে একজন মানুষ তার ধর্মবিশ্বাসের কারণে খুন হন, ভিন্ন আদর্শের কারণে খুন হন, সেখানটার সেই আমি মুক্ত হই কীভাবে? মুক্তিযুদ্ধের প্রায় অর্ধশতক কাল পরে এসে যখন আমরা পৃথিবীর মানুষকে গর্বের সঙ্গে নিজেদেরকে ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’-এর আধুনিক, শিক্ষিত, আত্মগর্বে গর্বিত বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচয় দেই, তখন অবচেতন বিবেক প্রশ্ন করে বসে- সত্যিই কি আমরা বর্বর, ধর্মান্ধ পাকিস্তানিদের থেকে মুক্তি পেয়েছি?

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে ভয়াবহ তাণ্ডব আর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানোর পর পরাজয় নিশ্চিত জেনে বাঙালি জাতির মেরুদণ্ড তথা বুদ্ধিজীবী সমাজের উপর আক্রমণ চালায় শত্রুরা। বাঙালিকে মেধাশূন্য করতে চেয়েছিল তারা, যাতে এ দেশ পৃথিবীর বুকে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার আগেই মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু তাদের এই নোংরা অপচেষ্টাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি ঠিকই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে একের পর এক লক্ষ্য পূরণ করে এগিয়ে যাচ্ছে স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে। কিন্তু একটা পক্ষ দেশের এই অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চায়। ধ্বংস করে দিতে চায় আমাদের স্বাধীনতার চেতনা। ধর্মের মত পবিত্র বিষয়কে পুঁজি করে কিছু বিকৃতমনা মানুষ একের পর এক আঘাত করে যাচ্ছে মুক্তমনা জাতিগোষ্ঠীর উপর।

সমপ্রতি সিলেটের শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ ও হত্যাচেষ্টা জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের আরেকটা দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। যা আমাদের জন্য শুধু লজ্জাজনক নয়, শঙ্কিত হওয়ার কারণও বটে। হামলাকারী ফয়জুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী হামলার কারণ ধর্ম। ব্লগারদেরও হত্যা করা হয়েছে একই কারণে। দুনিয়ায় বহু ধর্ম আছে। কেউ যদি নির্দিষ্ট কোনো ধর্মে বিশ্বাস না করে, তাকে যে হত্যা করতে হবে এমন তো কোথাও নাই! ধর্ম শান্তির কথা বলে। যুগে যুগে শান্তির বাণী প্রচার করে এসেছেন ধর্মগুরুরা। ধর্ম পবিত্র জিনিস। মানুষই এই ধর্মকে অপবিত্র করে। যারা ধর্মের গভীরতা অনুভব করতে পারে, তারা কখনো স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ হত্যা করতে পারে না। পবিত্র কোরআনের সূরা আল মাযেদা’র ৩২ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট বলে দিয়েছেন “যে একজন মানুষকে হত্যা করে, সে যেন পুরো মানবজাতিকেই হত্যা করলো আর যে একজন মানুষকে রক্ষা করলো সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করলো”। সে যদি এতই ধর্মভীরু হয়, এ আয়াত সম্পর্কে তো তার অবগত থাকার কথা। সে কি জানে না বিদায় হজের ভাষণে নবী করিম (স) ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন? আমি বিশ্বাস করি, সে নিশ্চয় এসব জানে না। সে নিশ্চয় জানে না নামাজরত অবস্থায় হযরত মুহাম্মদ (স) এর উপর জন্তুর নাড়িভুঁড়ি নিক্ষেপ করেছিল কাফেররা, আর নবীজী তার প্রতিবাদ করেছেন ঐসব কাফেরদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়ে। এসব জানলে সে কীভাবে ধর্ম বিশ্বাস ভিন্ন হওয়ায় অন্যজনকে হত্যা বা হত্যাচেষ্টা করতে পারে? এই হামলার মাধ্যমে ধর্মের কোন্ উপকারটা হয়েছে? কোনো উপকার তো হয়ইনি বরং বহু ক্ষতি হয়েছে। তার এ হামলার কারণে যারা ধর্মে বিশ্বাস করে না তাদের মনে ধর্ম সম্পর্কে খারাপ ধারণার জন্ম নেওয়াটাই তো স্বাভাবিক।

মূলত যেসব শত্রু একাত্তরে আমাদের মেধাশূন্য করতে চেয়েছিলো, তাদের দোসরদেরকে এখনও এদেশ থেকে সমূলে তাড়াতে পারিনি আমরা। ব্লগার হত্যা করে, বুদ্ধিজীবী হত্যাচেষ্টা চালিয়ে তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে তারা। তাদের এই অপচেষ্টায় আমাদের থেমে গেলে চলবে না। ধর্মকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষদের মধ্যে তারা যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে, তা বন্ধে সকলকে এখনই এগিয়ে আসতে হবে। আমাদেরকে ধর্মীয় শিক্ষার ব্যাপারে আরও সচেতন হতে হবে। কোথাও ধর্মের অপব্যাখ্যা শিক্ষা দেয়া হচ্ছে সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ

 

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৩ মার্চ, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৫৪
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২২
সূর্যোদয় - ৬:০৯সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন