সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ইং
সারাবিশ্বের পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো প্রকৃতিদত্ত ও ঐতিহ্যগত সম্পদের যেমন অভাব নাই এই দেশে, তেমনি পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকারও আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন যাবত্। কিন্তু তাহা সত্ত্বেও ফলাফল আশাব্যঞ্জক বলা যাইবে না। বিদেশি পর্যটক দূরে থাক, এমনকি ভ্রমণপিপাসু বিপুলসংখ্যক অভ্যন্তরীণ পর্যটককেও আকর্ষণ করিতে পারিতেছে না আমাদের পর্যটনশিল্প। এমনকি বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত বলিয়া বিবেচিত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতেও কদাচিত্ কোনো বিদেশি পর্যটকের দেখা মেলে। বৃক্ষ-লতা-গুল্মের সবুজ চাদরে মোড়া পাহাড়, ঝরনা ও লেকবেষ্টিত নয়নাভিরাম পার্বত্য অঞ্চলের চিত্রও ভিন্ন নহে। পর্যটকদের এই যে অনীহা ইহার কারণ অনেক। তন্মধ্যে নিরাপত্তাজনিত সমস্যাটি যে অগ্রগণ্য তাহা অস্বীকার করিবার উপায় নাই। কক্সবাজারে দিনের বেলায়ও দেশিবিদেশি পর্যটকের লাঞ্ছিত কিংবা ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার দৃষ্টান্ত একেবারে কম নহে। আর সন্ধ্যার পরে নিরিবিলিতে কোনো পর্যটকের পক্ষে সৈকতের সৌন্দর্য অবলোকনের কথা তো ভাবাই যায় না। অবশেষে দীর্ঘদিনের এই নিরাপত্তাজনিত সমস্যার অবসান ঘটিতে চলিয়াছে। পর্যটকদের আশার বাণী শোনাইয়াছেন নবগঠিত ট্যুরিস্ট পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানাইয়াছেন যে, পর্যটকরা এখন দিনরাত্রি ২৪ ঘণ্টাই কক্সবাজার সৈকতের লাবণী, কলাতলী ও শৈবাল পয়েন্টে নির্ভয়ে ঘুরিয়া বেড়াইতে পারিবেন।

আসন্ন কোরবানির ঈদে কক্সবাজারে প্রায় দেড় লক্ষ পর্যটকের সমাগম ঘটিবে বলিয়া আশা করা যাইতেছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান পর্যটকদের এই মর্মে আশ্বস্ত করিয়াছেন যে তাহাদের ভ্রমণকে নিরাপদ ও আনন্দময় করিবার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হইয়াছে। বাড়ানো হইয়াছে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য সংখ্যা। আরও আশাব্যঞ্জক খবরটি হইল, অচিরেই পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য ইনানী সৈকত, টেকনাফ এবং সেন্ট মার্টিনকেও ট্যুরিস্ট পুলিশের সেবার আওতায় আনারও পরিকল্পনা রহিয়াছে তাহাদের। ট্যুরিস্ট পুলিশের এই উদ্যোগ নিশ্চিতভাবে দেশিবিদেশি পর্যটকদের আশ্বস্ত করিবে। তবে কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিনে নিরাপত্তার আরও একটি দিক রহিয়াছে—যাহা মোটেও উপেক্ষা করিবার মতো নহে। সেইটি হইল, এই দুইটি সৈকতে প্রায়শ অনভিপ্রেত প্রাণহানির ঘটনা ঘটিতেছে। পর্যটকদের আনন্দ পরিণত হইতেছে মর্মান্তিক বিষাদে। সমুদ্রস্নান করিতে গিয়া প্রাণহানির ঘটনা যাহাতে না ঘটে—তাহাও নিশ্চিত করিতে হইবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। মনে রাখিতে হইবে যে সার্বিক নিরাপত্তাবিষয়ে পর্যটকদের অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে উদ্বেগমুক্ত রাখিতে হইবে। অন্যথায় যত প্রচার-প্রচারণাই চালানো হোক—তাহাতে কাজ হইবে না। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে, কক্সবাজার শুধু নয়, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পর্যটনস্পটকেও পুলিশি নিরাপত্তার আওতায় আনা প্রয়োজন।

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৪
আসর৪:১৯
মাগরিব৬:০৫
এশা৭:১৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৬:০০
পড়ুন