প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি
২৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে আগাইয়াছে। গত ১৬ বত্সরে প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে উন্নতির এই চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছে একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদন। বিদ্যালয়ে গমন-উপযোগী শিশুদের ভর্তির হার যেমন বাড়িয়াছে, তেমনি বাড়িয়াছে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করিবার হারও। শুধু ভর্তি আর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করিবার হার নহে, শিক্ষার্থীদের শিখিবার যোগ্যতা এবং লৈঙ্গিক সমতাও বাড়িয়াছে। সেই সাথে প্রাথমিকের শিক্ষকদের যোগ্যতাও বাড়িয়াছে। অন্যদিকে কমিয়াছে ঝরিয়া পড়িবার হার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণি হইতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এক শ্রেণি হইতে আরেক শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হইবার হার বাড়িয়াছে। ১৯৯৮ সালে এই হার ছিল ৮৬.৫ শতাংশ, যাহা ২০১৪ সালে দাঁড়াইয়াছে ৯২ শতাংশে। প্রতিবেদনে শিক্ষকদের যোগ্যতা প্রসঙ্গে বলা হয়, ১৯৯৮ সালে যেখানে ৪৮.৩ শতাংশ শিক্ষকের ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক ডিগ্রি ছিল, ২০১৪ সালে তাহা হইয়াছে ৫৭. ২ শতাংশ। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হার ৬৬.৯ শতাংশ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬৩.৪ শতাংশ নারী শিক্ষক রহিয়াছেন, ১৬ বত্সর পূর্বে এই হার ছিল ৩২ শতাংশ।

প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতির এই চিত্র আমাদের আনন্দিত করিবে নিঃসন্দেহে। তবে, “সহস্রাব্দ উন্নয়ন হইতে টেকসই ভবিষ্যত্: প্রয়োজন মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতির গতি বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রতিবেদনে ইহাও বলা হইয়াছে যে, ছয় কিংবা তদূর্ধ্ব বয়সীদের স্কুলে ভর্তি নিশ্চিত করিতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় লাগিবে আর অন্তত ২০৩৭ সালের আগে এগারো কিংবা তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করা সম্ভব হইবে না। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে বহু ধারার শিক্ষা পদ্ধতি প্রচলিত আছে। প্রাথমিক শিক্ষার স্তর মানসম্মত করিবার জন্য সরকার আলাদা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করিয়াছে। এই অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার স্তরের মানোন্নয়ন এবং উত্কর্ষ বৃদ্ধির বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানকারী অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই কার্যালয়ের এখতিয়ারের মধ্যে নাই। গ্রাম হইতে রাজধানী পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার বাহিরেও আছে এবতেদায়ি মাদরাসা, কওমি মাদরাসা, কিন্ডারগার্টেন, ইংরেজি মিডিয়ামসহ নানা ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে, সমগ্র দেশে একই স্তরের মানবিশিষ্ট প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করা সম্ভব হইতেছে না। ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের শিক্ষা উপকরণ এবং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে জাতীয়ভাবে প্রাথমিক শিক্ষার মান নির্ণয়ের সুনির্দিষ্ট সূচক নির্ধারণ করা কঠিন। সেইসঙ্গে বলিতে হইবে শিক্ষকের স্বল্পতা প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত প্রায় ১:৫৩। শিক্ষানীতির আলোকে এই অনুপাত ১:৩০ করিতে হইবে। শিক্ষক পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের প্রভাবও বাধা হিসাবে কাজ করিতেছে। উপরন্তু অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চল এখনো উপেক্ষিত থাকিয়া গিয়াছে।

উন্নয়নের একটি উল্লেখযোগ্য সূচক হইল শিক্ষা। মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষার ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব ব্যাংক তাহার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শিক্ষার অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করিয়া সরকারের উদ্যোগ ও অর্জনের নানা দিক তুলিয়া ধরিয়াছে। বিশ্ব ব্যাংক বলিতেছে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই তুমুল গতিতে দুস্তর পথ অতিক্রম করিয়াছে এবং শিক্ষায় অভিগম্যতা ও সমতা অর্জনে অনেকদূর আগাইয়াছে। মানব উন্নয়নে বিনিয়োগ হওয়ায় বাংলাদেশ টেকসই ফল বহিয়া আনিতেছে। আমরা আশা করিব, সরকার বিদ্যমান বাধাগুলি অতিক্রম করিয়া শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতির বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখিবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৫:১৭
যোহর১১:৫৮
আসর৩:৪২
মাগরিব৫:২১
এশা৬:৩৮
সূর্যোদয় - ৬:৩৭সূর্যাস্ত - ০৫:১৬
পড়ুন