অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ঝুঁকি
২১ মার্চ, ২০১৭ ইং
সিলেটে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন এখনও বন্ধ হয় নাই। বরং সামপ্রতিক কালে তাহা ভয়াবহ রূপ ধারণ করিয়াছে। বোমা মেশিন দিয়া পাথর উত্তোলনের কারণে বাড়িয়াছে প্রাণহানির ঘটনাও। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র মতে, গত এক বত্সরের তুলনায় এই বত্সরের মাত্র দুই মাসে প্রাণহানি দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাইয়াছে। গত বত্সরের ১০ মে হইতে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয়টি গর্ত ধসের ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ, শাহ আরেফিন টিলা, জাফলং ও বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারিতে মৃত্যুবরণ করেন ১২ জন পাথরশ্রমিক। আর এই বত্সর ২৩ জানুয়ারি হইতে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পৃথক নয়টি গর্ত ধসের ঘটনায় মারা গিয়াছেন ১৬ জন। গভীর গর্ত খুঁড়িয়া তাহাতে পাইপ বসাইয়া মাটির প্রায় ৫০ হইতে ৬০ ফুট নিচ হইতে উত্তোলন করা হইতেছে পাথর। এইজন্য হালে ব্যবহার করা হইতেছে বোমা মেশিন, যাহা পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই মেশিন দিয়া পাথর উত্তোলন করা হইতেছে রাতের অন্ধকারে।

পাথর উত্তোলনে শুধু বোমা মেশিন নহে, শেইপ মেশিন ও পেলুডার নামক নিষিদ্ধ যন্ত্রও ব্যবহার করা হইতেছে। আবার শুধু সিলেটে নহে, বান্দরবান ও নীলফামারীতেও ঘটিতেছে এইরূপ ঘটনা। অথচ বিদ্যমান পাথর উত্তোলন গাইডলাইন, খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালায় যান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় পাথর উত্তোলনকে বেআইনি ও অপরাধ হিসাবে উল্লেখ করা হইয়াছে। বলা হইয়াছে, ভূমি হইতে পাঁচ মিটার বা ১৬ দশমিক ৪০ ফুট গভীরতা পর্যন্ত কোয়ারিতে পাথর তোলা যাইবে শুধু অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে। অযান্ত্রিকের সংজ্ঞায় বলা হইয়াছে, পরিবেশসম্মত যন্ত্রপাতি। যেমন—দা, কোদাল, শাবল, বেলচা ও খন্তা। আর পাঁচ মিটারের বেশি গভীরতা হইলে তাহা আর কোয়ারি থাকে না। সেটা হইয়া যায় খনি। খনি বা কোয়ারি হইতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বা বোমা মেশিন দিয়া পাথর তোলা নিষিদ্ধ। কিন্তু এইসব আইন-কানুনের কোনো তোয়াক্কা করা হইতেছে না। ফলে নষ্ট হইতেছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। বদলাইয়া ফেলা হইতেছে ভূমির শ্রেণি। ইহাতে ভূমিধস বা ভূকম্পনের আশঙ্কা বাড়িতেছে। নদ-নদীর ক্ষতিসাধন হইতেছে। ক্ষতি হইতেছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের। বোমা মেশিন ব্যবহারের ফলে অনেক স্থানে ফসলি জমি রূপ নিতেছে জলাশয়ে। অনেক স্থানে বেড়িবাঁধ পড়িতেছে হুমকির মধ্যে। বাঁধে দেখা দিতেছে ফাটল ও ভাঙন।

পরিবেশগত এই প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি উল্লেখ করিয়া সাত বত্সর আগে বোমা মেশিনের মাধ্যমে পাথর উত্তোলনকে অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। সেই সাথে এই যন্ত্রের ব্যবহার বন্ধে টাস্কফোর্স গঠনপূর্বক অভিযান অব্যাহত রাখিবার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশের পর পরিবেশ অধিদপ্তরসহ স্থানীয় প্রশাসন গত সাত বত্সরে পাঁচ শতাধিক অভিযান পরিচালনা করিয়া ধ্বংস করিয়াছে সহস্রাধিক বোমা মেশিন। তাহার পরও অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন অব্যাহত আছে এবং সেই সাথে অব্যাহত আছে হতাহতের ঘটনাও। কারণ পাথর উত্তোলন এতটাই লাভজনক যে, এক রাত্রেই এক লক্ষ টাকারও বেশি আয় হইয়া থাকে। আর ইহার লোভ অনেকেই সংবরণ করিতে পারিতেছেন না। কিন্তু পরিবেশ রক্ষায় কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া যায় না। আবার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার স্বার্থে পাথর উত্তোলন একেবারে বন্ধও করা যায় না। এমতাবস্থায় এই ব্যাপারে সুচিন্তিত পদক্ষেপ গ্রহণ ও নিবিড় নজরদারি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ মার্চ, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৪৬
যোহর১২:০৬
আসর৪:২৯
মাগরিব৬:১৩
এশা৭:২৬
সূর্যোদয় - ৬:০২সূর্যাস্ত - ০৬:০৮
পড়ুন