বিদ্যালয় আছে অথচ রাস্তা নাই
২১ এপ্রিল, ২০১৭ ইং
ফেনী জেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পড়িয়াছে মহাসংকটে। উক্ত জেলার ছাগলনাইয়ায় পূর্ব শিলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা নাই। ‘রাস্তা নাই’ বলাটা পুরাপুরি সঙ্গত হইবে না, কারণ রাস্তা একসময় ছিল বটে। সেই রাস্তা দিয়াই শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসিত। কিন্তু সমপ্রতি কয়েকটি প্রভাবশালী পরিবার বিদ্যালয়টির চারিপাশে তাহাদের জায়গা দাবি করিয়া দেয়াল তুলিয়া দিয়াছে। একটি সহযোগী দৈনিকে প্রকাশিত সচিত্র প্রতিবেদনে দেখা যায়, স্কুলটির রাস্তার সন্নিকটেই রহিয়াছে একটি পুকুর। কিন্তু বিদ্যালয়ের একমাত্র প্রবেশদ্বারের রাস্তার ওপর প্রাচীর নির্মাণ করিবার ফলে শিশুরা এখন স্কুলে আসিতে গিয়া পুকুরে পড়িয়া যাইতেছে। স্বাভাবিকভাবেই আহত ও আতঙ্কিত হইয়া পড়িতেছে বিদ্যালয়টির কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের পূর্ব শিলুয়া গ্রামের কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ১৯৮৮ সালে নিজেদের অর্থ, শ্রম এবং ৩৩ শতক জায়গা দিয়া বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণ করা হয়।

বিদ্যালয়টির রাস্তা বন্ধ করিয়া সীমানা প্রাচীর নির্মাণের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিটির বক্তব্য হইল, বিদ্যালয়-সংলগ্ন পুকুর ভরাট করিয়া রাস্তা নির্মাণ করিলেই হয়। চমত্কার পরামর্শ বটে! বিদ্যালয়টির রাস্তার অবস্থান যদি তাহার জমির উপর হইয়া থাকে, তাহা হইলে তাহার কী করিবার আছে? নিজের সুরক্ষার নিমিত্ত তিনি সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করিবেন নিশ্চয়ই। কিমাশ্চর্য! তিনি নাকি ওই বিদ্যালয়ের জন্য কিছু জমিও দান করিয়াছেন। অর্থাত্ তিনিও একজন শিক্ষানুরাগী। কিন্তু কেন সেই অনুরাগ এক্ষণে বিরাগে পরিণত হইল? সেই রাগ কেন উপচাইয়া পড়িল শিশু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটির উপর। তাহার পরামর্শ অনুযায়ী বিদ্যালয়-সংলগ্ন পুকুরটি ভরাট করিয়া ফেলিলেই সমস্যাটির সুরাহা হয়। পুকুর ভরাটের উচিত-অনুচিতের প্রশ্ন শিকেয় তুলিয়াও প্রশ্ন উত্থাপন করা যায় যে, সেই বিকল্প রাস্তাটি যতক্ষণ তৈরি না হইল, ততক্ষণ কেন তিনি অপেক্ষা করিতে পারিলেন না সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য? তিনি যদি পূর্বেই বিদ্যালয়ের জন্য কিছু জমি দান করিয়া থাকেন, তাহা হইলে আরো খানিকটা জমি কি দান করিতে পারিতেন না অত্রাঞ্চলের শিশুশিক্ষার বৃহত্তর মঙ্গলের স্বার্থে?

আমাদের এই জনপদে গত কয়েক শতকে কত শত শিক্ষানুরাগী ধনাঢ্য ব্যক্তি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করিতে কত কিছুই না করিয়াছেন। তাহারা এই জাতির শত শত আলোকবর্তিকার গৌরবদীপ্ত পৃষ্ঠপোষক, প্রাতঃস্মরণীয়। একটি অঞ্চলের বিদ্যালয় নির্মাণের মতো মহত্ কাজের তুলনা আর কিছুতে হয় না। বিপরীতে, একটি প্রতিষ্ঠিত ও জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের পথে যাহারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিতে কুণ্ঠিত হন না, তাহাদের বিবেকবুদ্ধি লইয়া প্রশ্ন না-উঠাটাই বরং অস্বাভাবিক। সুতরাং যিনি বা যাহারা ওই বিদ্যালয়টির রাস্তার উপর প্রাচীর নির্মাণ করিয়াছেন, তিনি পুনর্বার ভাবিয়া দেখুন। বিদ্যালয়টির রাস্তা অবমুক্ত হউক। কিংবা সত্বর তৈরি হউক বিকল্প কোনো পথ। সর্বোপরি, শিক্ষার পথ যেন কোনো জলাধারে গিয়া ডুবিয়া না যায়—তাহা নিশ্চিত করিবার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উপরই বর্তায়। আশা করি, তাহারা তাহাদের দায়িত্ব পালনে পিছপা হইবেন না।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ এপ্রিল, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৪
যোহর১১:৫৮
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন