প্রবাসী শ্রমিকদের অপরাধপ্রবণতা
১৯ জুন, ২০১৭ ইং
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করিতেছেন বাংলাদেশের ৭০ লক্ষাধিক শ্রমিক। তাহাদের কষ্টার্জিত অর্থ তথা রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণভোমরা। তৈরি পোশাক রপ্তানির পরই আমাদের বৈদেশিক আয়ের ইহাই প্রধান খাত। কিন্তু অবৈধভাবে বিদেশ গমন ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলির নানা প্রকার জালিয়াতির কারণে এই খাত আগে হইতেই প্রশ্নবিদ্ধ। ইহার পাশাপাশি সমপ্রতি লক্ষ করা যাইতেছে যে, আমাদের কিছু কিছু প্রবাসী শ্রমিক বিভিন্ন দেশে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াইয়া পড়িতেছেন। যদিও তাহাদের সংখ্যা অতি নগণ্য, কিন্তু তাহাদের এই অসদাচরণের কারণে অন্যান্য সাধারণ, সত্, একনিষ্ঠ ও পরিশ্রমী শ্রমিকরা বদনামের ভাগিদার হইতেছেন। শিকার হইতেছেন নানা হয়রানির। সর্বোপরি, ক্ষুণ্ন হইতেছে দেশের ভাবমূর্তি। এই পরিস্থিতি মোটেও কাম্য হইতে পারে না।

গত মাসে সৌদি আরব হইতে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত একটি চিঠিতে সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অপরাধপ্রবণতার একটি চিত্র তুলিয়া ধরা হইয়াছে। বলা হইয়াছে, প্রবাসীদের মধ্যে অপরাধ সংঘটনে বাংলাদেশিদের অবস্থান পঞ্চম। সৌদি আরবের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা রিয়াদের বাথা, হারা, জেদ্দার বালাদ ও দাম্মাদের সিকোতে প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে এই অপরাধপ্রবণতা ক্রমবর্ধমান। ইহার লাগাম টানিয়া ধরিতে না পারিলে আমাদের শ্রমবাজার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইতে পারে। বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য মতে, বর্তমানে দেশটির ১৪টি কারাগারে আটক রহিয়াছেন ২৮০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক। শুধু তাহাই নহে, গত তিন বত্সরে নানান অপরাধের দায়ে ২০ সহস্রাধিক শ্রমিককে ফেরত পাঠাইয়াছে সৌদি আরব। তাহারা হুন্ডি, জুয়া, চুরি, ডাকাতি ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত। অনেককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতেরও শাস্তি দেওয়া হয়। গত বত্সর ৭ অক্টোবর রিয়াদে প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে কার্যকর করা হয় আট বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড। ইহাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে রক্তঋণ প্রথাকে কাজে লাগাইয়া উদ্ধার করা হয় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৩৫ বাংলাদেশিকে।

শুধু সৌদি আরবই নহে, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন দূতাবাস ও বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে, প্রায় ৪২টি দেশে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি বিভিন্ন অপরাধের দায়ে আটক রহিয়াছেন। কখনো কখনো মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়িয়া তোলা, চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারি ইত্যাদি অপরাধও সংঘটিত হয় তাহাদের দ্বারা। এই বিব্রতকর পরিস্থিতির অবসানে বিদেশে কর্মী পাঠাইবার আগে আমাদের আরও সতর্কতা অবলম্বন করিতে হইবে। অপরাধপ্রবণ বা অপরাধের দায়ে কোনো দেশ হইতে ফেরত আসা কোনো ব্যক্তি যাহাতে বিদেশে যাইতে না পারে, সেই ব্যাপারে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোকে (বিএমইটি) নিতে হইবে বিশেষ ব্যবস্থা। অনেক সময় সংশ্লিষ্ট দেশের আইন-কানুন না জানিবার কারণেও অনেকে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হন। এইজন্য কর্মী পাঠাইবার আগে এই ব্যাপারেও তাহাদের সচেতন করিতে হইবে। সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মানিয়া চলিতে দিতে হইবে বিশেষ প্রশিক্ষণ। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, মধ্যপ্রাচ্যেই আমাদের অধিক সংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন। এই শ্রমবাজার যাহাতে  কোনোভাবে বিপন্ন না হয়, এইজন্য আমাদের শ্রমিকদের অপরাধপ্রবণতার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নিতে হইবে। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলিকে সর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকিতে হইবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৯ জুন, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন