পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার হাল
১৯ জুন, ২০১৭ ইং
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ অর্থ বত্সরের জন্য ৬৬৪ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হইয়াছে। বাজেটে গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা হইয়াছে মাত্র ১৪ কোটি টাকা। হিসাবে ইহা মোট বাজেটের মাত্র দুই শতাংশ। তবে আগের বত্সর ইহা আরো কম ছিল, মাত্র সাড়ে আট কোটি টাকা; তাহার আগের বত্সরে বরাদ্দ ছিল আরো কম, চার কোটি টাকা। এইবার, গবেষণা খাতে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দের বাহিরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ‘হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (হিক্যাপ)’-এর ১৩টি প্রকল্পে ২২ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আছে। প্রস্তাবিত বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইহার সিংহভাগ খরচ হইবে (৭৮.৫৯ শতাংশ) শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতায়। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য ব্যয় হইবে ৭০ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। ইহার মধ্যে গ্রন্থাগারের বই ক্রয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা, রাসায়নিক যন্ত্রপাতি, শিক্ষা সফর, সেমিনার, পরীক্ষা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সহায়তা, ইন্টারনেট, বৃত্তি, খেলাধুলা, শিক্ষার্থী পরিবহন ও গবেষণা অন্তর্ভুক্ত আছে।

গবেষণা খাতে বরাদ্দের এইরূপ চিত্র কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নহে, সরকারি-বেসরকারি সকল বিশ্ববিদ্যালয়েরই। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাহার ৮০ হইতে ৮৫ ভাগ টাকা চলিয়া যায় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে। তদুপরি অবকাঠামোসহ মৌলিক কিছু কাজও করিতে হয় প্রতি বত্সর। ফলে গবেষণার জন্য যথোপযুক্ত অর্থ বরাদ্দের সুযোগই থাকে না। ইতোপূর্বে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে গবেষণা খাতে বরাদ্দের বিষয়ে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করিয়াছে। ইহার এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সনে সরকারি ও বেসরকারি ১২৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা খাতে এক পয়সাও ব্যয় করে নাই। এইগুলির মধ্যে ২৮টি বেসরকারি আর ১১টি সরকারি। কোনো ধরনের প্রকাশনা ও সাময়িকী নাই বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা ছাত্র স্বপ্রণোদিত হইয়া বা নিজস্ব অর্থায়নে গবেষণা করিতেছেন এমন নজিরও নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক গবেষণা করিবেন তাহা আমরা আশা করি না। কিন্তু হাতে গোনা যে কয়েকজন গবেষণা করেন তাহার মান নিয়াও যথেষ্ট প্রশ্ন থাকিয়া যায়। ফলে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে গবেষণার চিত্র ভয়াবহই বলিতে হইবে।

শিক্ষা ও গবেষণা খাতে ব্যয় কম কেবল বাংলাদেশেই। এইখাতে মোট জাতীয় আয়ের দশমিক এক শতাংশও বরাদ্দ থাকে না। অথচ উন্নত বিশ্বে এইখাতে অনেক বেশি ব্যয় করা হয়। আর, বিশ্বের মান-সম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি গবেষণাকে প্রাধান্য দান করিলেও আমাদের দেশে এই খাতের চিত্র উল্টা। গবেষণা খাত সবচাইতে অবহেলিত। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ দুইটি। প্রথমত, শিক্ষাদান। দ্বিতীয়ত, শিক্ষাদানের জন্য নূতন নূতন জ্ঞানের উদ্ভাবন। একটিকে বাদ দিয়া অপরটি চলে না। গবেষণা না করিয়া জ্ঞান সৃষ্টিও সম্ভব নহে। ইহার ফলও আমরা হাতেনাতে পাইতেছি। অপ্রিয় হইলেও সত্য যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি দিনে দিনে অজ্ঞানতার ‘ভাগাড়ে’ পরিণত হইতেছে। শিক্ষকেরা সংকীর্ণ দলীয় লেজুড়বৃত্তি, টেলিভিশনের টক-শোতে ফাঁকা জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতাবাজি আর এনজিওগুলিতে টাকার ধান্দায় লিপ্ত হইয়া থাকিতেছে। গবেষণা খাতে বরাদ্দ না বাড়াইলে বর্তমানে উচ্চশিক্ষার মান নিয়া যে প্রশ্ন উঠিতেছে তাহা দূর করা সম্ভব নহে, বরং নিজের দেশ ও সমাজ সম্পর্কে জানিতে বিদেশিদের গবেষণা উপাত্তের ওপরেই নির্ভরশীল হইয়া থাকিতে হইবে। 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৯ জুন, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন