মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা দরকার
২০ জুন, ২০১৭ ইং
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলিয়াছেন, জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমেই চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ সম্ভব। গত শনিবার রাজধানীর ৯২টি ওয়ার্ডে চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের অংশ হিসাবে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্রসমূহ ধ্বংস  ও জনসচেতনতা কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য যে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট, সকল ধরনের প্যারামেডিক্যাল ইনস্টিটিউট ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ম্যাটস্) এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ক স্নাতকোত্তর চিকিত্সা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কার্যক্রমে অংশ নেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বয়ং রাজধানীর প্রায় ১৫টি স্থানে এই কার্যক্রম তদারক করেন। উদ্যোগটি যে খুবই প্রয়োজনীয়, প্রশংসনীয় ও যৌক্তিক তাহাতে সন্দেহ নাই। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সহিত সম্পূর্ণ একমত হইয়া বলা যায়, চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা নিঃসন্দেহে খুবই কার্যকর একটি হাতিয়ার। এই হাতিয়ারটি কাজে লাগাইয়া আমরা ডেঙ্গুকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখিতে সক্ষম হইয়াছি। কিন্তু প্রশ্ন হইল, উদ্যোগটি এত দেরিতে নেওয়া হইল কেন?

ইহা সুবিদিত যে ইতোমধ্যে চিকুনগুনিয়া রাজধানীর ঘরে ঘরে ছড়াইয়া পড়িয়াছে। কোনো কোনো পরিবারের প্রায় সকল সদস্যই আক্রান্ত হইয়াছেন ভাইরাসজনিত এই রোগে। আমাদের সৌভাগ্য যে রোগটি প্রাণঘাতী নহে। কিন্তু তত্সত্ত্বেও চিকুনগুনিয়ার দংশন যাহারা অনুভব করিয়াছেন তাহারা জানেন রোগটি কতটা পীড়াদায়ক। তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা লইয়া হাসপাতালেও ভর্তি হইতে হইয়াছে বহু রোগীকে। তিনসপ্তাহ ভুগিবার পরও কেহ কেহ সম্পূর্ণ সুস্থ হইতে পারেন নাই। ইহাতে শুধু যে অর্থের অপচয় হইতেছে তাহাই নহে, ক্ষতি হইতেছে উত্পাদনশীলতারও। অথচ এডিস মশার মাধ্যমেই যে চিকুনগুনিয়া ছড়াইতেছে তাহা সকলেই জানিতেন। যথাসময়ে এই মশা নিধনের উদ্যোগ নেওয়া হইলে রোগটি নিশ্চয় এতটা বিস্তৃত হইতে পারিত না। আপাতত স্বস্তি এইটুকু যে বিলম্বে হইলেও মশা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ উদ্যোগী হইয়াছেন। অবশ্য তাহার পরও রাজধানীবাসীর উদ্বেগ কাটিতেছে না। ধানমন্ডি, শ্যামলী, লালমাটিয়া, কলাবাগান ও কাঁঠালবাগানসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকার উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা জানাইয়াছেন যে দিনেও ঘরে থাকা যাইতেছে না মশার দাপটে। টানা বৃষ্টিসহ নানা কারণে রাজধানীতে মশার উত্পাত যে অনেক বাড়িয়া গিয়াছে তাহা অস্বীকার করার উপায় নাই।

সঙ্গত কারণেই আমরা মনে করি, মশা মারিবার জন্য এই মুহূর্তে শুধু জনসচেতনতাই যথেষ্ট নহে। একই সাথে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে মশক নিধন কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা দরকার। আশা করি, নগর কর্তৃপক্ষ অনতিবিলম্বে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্ব-স্ব অবস্থান হইতে নাগরিকদের উদ্যোগী হইবার যে-আহ্বান জানাইয়াছেন তাহাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলিয়া আমরা মনে করি। সকলেই জানেন, বাহিরে শুধু নয়, ঘরের ভিতরেও ফ্রিজের বা এসির অর্ধস্বচ্ছ পানি, ফুলের টব, পরিত্যক্ত কৌটা বা বোতল, পানির ট্যাংক, ছাদে জমিয়া থাকা পানি, পরিত্যক্ত টায়ার, আবর্জনার স্তূপ বা ডাবের খোসার মধ্যেও জন্ম নেয় এডিস মশা। অতএব, সক্রিয় নাগরিক উদ্যোগ ছাড়া এই মশা নির্মূল করা কখনোই সম্ভব নহে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ জুন, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন