নির্বিঘ্ন হউক ঈদযাত্রা
২০ জুন, ২০১৭ ইং
আসন্ন ঈদের ছুটি শুরু হইবার এক সপ্তাহ আগেই মহাসড়কসমূহে যাত্রীদের দুর্ভোগ শুরু হইয়াছে। ভাঙাচোরা রাস্তায় জমিয়া থাকা পানি ও কাদায় যানবাহনে চড়িবার পূর্বেই বিড়ম্বনার মুখে পড়িতেছেন অসংখ্য যাত্রী। কাদায়-পানিতে সয়লাব হইয়া আছে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল। ফলে বাসে উঠানামার সময় যাত্রীরা চরম বিড়ম্বনার শিকার হইতেছেন। উপরন্তু গত শনিবার হইতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে প্রকট হইয়া উঠিয়াছে যানজট। উদভূত পরিস্থিতিতে কোথাও কোথাও যাত্রীদের চার হইতে পাঁচ ঘণ্টারও অধিক সময় যানজটের দুর্ভোগ সহ্য করিতে হইতেছে। উন্নয়নমূলক কাজ, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন মহাসড়কে ভাঙন ও গর্ত তৈরি হইবার কারণেই মূলত যান চলাচলে এই স্থবিরতা দেখা দিয়াছে। এমতাবস্থায় ঘরমুখো মানুষের মধ্যে ঈদযাত্রা নিয়া প্রবল শঙ্কার জন্ম হইয়াছে।

ঈদকে ঘিরিয়া দেশে ঘরমুখো মানুষের সংখ্যা তিন কোটিরও অধিক। সেই হিসাবে প্রয়োজনের তুলনায় এমনিতেই ৩৩ শতাংশ যানবাহনের ঘাটতি আছে। জানা যায়, দেশের ৩৭ শতাংশ মহাসড়কই ভাঙা অবস্থায় আছে। বিশেষ করিয়া উত্তরাঞ্চলের সহিত রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের প্রধান পথ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের অবস্থাই বেশি শোচনীয়। এই সড়ক দিয়াই ঢাকা হইতে উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার যানবাহন চলাচল করে। মহাসড়কটিতে চন্দ্রা হইতে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনে উন্নীত করিবার কাজ চলিতেছে। ফলে যানজট একটি নিয়মিত বিষয় হইয়া দাঁড়াইয়াছে। মাওয়া-কাওড়াকান্দি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটেও নানা রকমের সমস্যা আছে। দৌলতদিয়া প্রান্তে সংযোগ সড়কের অভাবে পরিত্যক্ত ঘাট ব্যবহার করা হইতেছে জোড়াতালি দিয়া। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রংপুর, বগুড়া-নাটোর মহাসড়কেরও জায়গায় জায়গায় ভাঙাচোরা ও খানাখন্দের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হইতেছে। যানজট ও যাত্রী ভোগান্তি চরমে উঠিয়াছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও। চার লেনে উন্নীত করা হইলেও সড়কটিতে প্রায়শই যানজট লাগিয়া থাকে। গত বত্সরের দুই ঈদেও সড়কটিতে দীর্ঘ যানজটের তীব্র ভোগান্তি ছিল। সমপ্রতি গোমতী সেতুতে নতুন ওয়েস্কেল (পণ্যবাহী গাড়ির ওজন পরিমাপক যন্ত্র) ও ওয়েবভিত্তিক টোল পদ্ধতি চালু করা হইয়াছে। ইহাতে টোল পরিশোধ করিয়া সেতুটি পার হইতেই একটি গাড়ির অন্তত তিন হইতে চার ঘণ্টা সময় লাগিয়া যায়। তাই ঈদের ছুটিকালীন সময়ে টোল আদায় বন্ধ না রাখিলে পরিস্থিতি যে আরো ভয়াবহ হইবে—তাহা সহজেই অনুমেয়।

প্রতি বত্সরই ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নানা পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতি দেন। এইবারও দিয়াছেন। কিন্তু যথারীতি তাহার প্রতিফলন খুব কমই দেখা গিয়াছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিগুলির সঠিক বাস্তবায়ন হওয়া দরকার। বিশেষ করিয়া মানুষের দুর্ভোগ ন্যূনতম পর্যায়ে রাখিতে সড়ক পরিবহন ও নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয়তা প্রয়োজন। পাশাপাশি মহাসড়কের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আরো সুশৃঙ্খল করিবার নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অধিকতর কার্যকর ভূমিকা পালন করিতে হইবে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ জুন, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন