সদরঘাট-গাবতলী ভেড়িবাঁধ সড়কের বেহাল দশা
২১ জুন, ২০১৭ ইং
লালবাগের শ্মশানঘাট হইতে হাজারীবাগ রোড পর্যন্ত সদরঘাট-গাবতলী ভেড়িবাঁধ সড়কের উভয় পার্শ্বে অবৈধভাবে গড়িয়া উঠিয়াছে প্রায় পাঁচ শতাধিক দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ভেড়িবাঁধের একাংশ ও বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল ভরাট করিয়াই মূলত টিনশেডের এই স্থাপনাসমূহ নির্মাণ করা হইয়াছে। দিনে দিনে এই অবৈধ দখল ক্রমশই বৃদ্ধি পাইতেছে। ইহাতে সড়কটিতে তীব্র হইতেছে যানজট। উপরন্তু প্রায়শ সড়কটির বিভিন্ন অংশে ময়লা-আবর্জনা জমিয়া কাদায়-পানিতে সয়লাব হইয়া থাকে। এই পরিস্থিতিতে যাতায়াতকারীরা একরকম নিরুপায় হইয়াই এইসব কাদা-পানি মাড়াইয়া গন্তব্যে পৌঁছাইতে বাধ্য হন। উপরন্তু অবৈধভাবে নদী দখলের ক্রমবর্ধমান প্রবণতাও বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলটির অস্তিত্বকে টিকাইয়া রাখিবার ক্ষেত্রে হুমকি হইয়া উঠিয়াছে।

সদরঘাট-গাবতলী ভেড়িবাঁধ সড়কের এই অংশটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২২, ২৪, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। কিন্তু সড়কটির সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)। অথচ সড়কটিকে চলাচল উপযোগী কিংবা অবৈধ দখলমুক্ত করিবার ব্যাপারে পাউবোকে খুব কমই উদ্যোগী হইতে দেখা যায়। এমনকি তাহাদের বিরুদ্ধে বত্সরে একবারও ভেড়িবাঁধটি তদারক না করিবার অভিযোগ আছে। জানা যায়, পাঁচ বত্সর পূর্বেও ভেড়িবাঁধটি অবৈধ স্থাপনামুক্ত ছিল। কিন্তু বর্তমানে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ভেড়িবাঁধ সড়কটিকে তাহাদের অবৈধ আয়ের উেস পরিণত করিয়াছে। যথেচ্ছভাবে সেইখানে গড়িয়া তুলিতেছে দোকানপাট ও দলীয় কার্যালয়। পাশাপাশি এইসব দোকান হইতে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রহিয়াছে। ফলে সড়কটি ইতোমধ্যে চলাচলের অনুপযোগী হইয়া পড়িয়াছে। তথাপি বিষয়টি কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হইতেছে না তাহা আমরা বুঝিতে অক্ষম।

স্থানীয় পর্যায়ে বন্যা বা এই জাতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধের নিমিত্ত কিংবা যাতায়াতের উদ্দেশ্যে মূলত ভেড়িবাঁধ দেওয়া হয়। ইহাতে স্থানীয় জনগণের মাঝে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস পাইবার পাশাপাশি যাতায়াতের ক্ষেত্রে স্বস্তি আসে। কিন্তু ইহার ব্যত্যয় ঘটাইয়া জনদুর্ভোগ তৈরি করা নিঃসন্দেহে অপরাধের শামিল। আমরা জানি, সব সময়ই সরকারের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা বা উদাসীনতাকে পুঁজি করিয়া স্বার্থান্বেষী মহল সুবিধা আদায় করিয়া থাকেন। ইহাতে কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অদক্ষতা বা অযোগ্যতার পরিচয়ই ফুটিয়া ওঠে। বিদ্যমান সমস্যার সমাধান হয় না। উপরন্তু সমস্যাটি জটিল হইতে থাকে। ভেড়িবাঁধ সড়কটি লইয়া কোনো ধরনের অনিয়ম-উদাসীনতা প্রত্যাশিত নহে। সর্বোপরি, এই বত্সরের ৯ ফেব্রুয়ারি হইতে ভেড়িবাঁধ-সংশ্লিষ্ট সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ডিএনসিসি মেয়রেরও বিশেষ অভিযান পরিচালনার অঙ্গীকার রহিয়াছে। তাই  ভেড়িবাঁধটিকে অবৈধ দখলমুক্ত ও ব্যবহার উপযোগী করিবার নিমিত্ত আমরা এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করি।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন