নিরাপদ পানি সংকটে সাত কোটি মানুষ
১৭ জুলাই, ২০১৭ ইং
গত শুক্রবার প্রকাশিত ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, বাংলাদেশের ৭ কোটি ১০ লাখ মানুষ সুরক্ষিত সুপেয় পানি পায় না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) নূতন একটি সূচক হইতেছে, সুরক্ষিত সুপেয় পানি। সুরক্ষিত বলিতে বোঝানো হইয়াছে যে কেবল পানির উত্স নিরাপদ হইলেই চলিবে না, খাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পানিটিকে নিরাপদ রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করিতে হইবে। এই মাপকাঠিতে দেশে বর্তমানে ৫৬ শতাংশ মানুষ সুরক্ষিত সুপেয় পানি পায়। ইহার অর্থ হইল, ৭ কোটির বেশি মানুষ এখনো নিরাপদ পানি হইতে বঞ্চিত। এই বঞ্চনার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা দুইটি দায়ী করিয়াছে প্রধানত আর্সেনিক ও জীবাণুদূষণকে। সেই সাথে এই সতর্কবার্তাও উচ্চারণ করিয়াছে যে এই কারণে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ নূতন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়িয়াছে।

ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা না বলিলেও দীর্ঘদিন যাবত্ দেশের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়িয়া নিরাপদ পানির জন্য যে হাহাকার চলিতেছে তাহা কাহারও অজানা নহে। প্রায় দুই কোটি মানুষ আর্সেনিকের মারাত্মক ঝুঁকির মুখে আছেন বত্সরের পর বত্সর ধরিয়া। ইহার সহিত যুক্ত হইয়াছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার সমস্যা নূতন নহে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন এবং উপর্যুপরি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লবণাক্ততার আগ্রাসন ক্রমেই বিস্তৃত হইতেছে। ইহার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়িতেছে সমুদ্রতীরবর্তী বিপুলসংখ্যক মানুষের সামগ্রিক জীবনধারায়। ব্যাহত হইতেছে চাষাবাদ। বিপন্ন হইতেছে কৃষিনির্ভর লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা। সর্বোপরি, ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি বহু মানুষকে ঠেলিয়া দিতেছে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে। কিন্তু অপ্রিয় হইলেও সত্য যে, কয়েক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার সহিত ওতপ্রোতভাবে জড়িত দীর্ঘস্থায়ী এই সমস্যাটি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় সেইভাবে স্থান পায় নাই অদ্যাবধি। কেন পায় নাই সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকগণই তাহা ভালো বলিতে পারিবেন।

অথচ দেশে কিন্তু রীতিমতো উন্নয়নযজ্ঞ চলিতেছে। বাস্তবায়িত হইতেছে বিশালাকার সব প্রকল্প। এক দশক আগের রাজধানী ঢাকার চিত্রও এখন ঢাকা পড়িয়া যাইতেছে একের পর এক ফ্লাইওভারের নিচে। চলমান আছে মেট্রোরেলের কাজও। আমরা এই সকল প্রকল্পের বিপক্ষে নহি। কিন্তু যে-প্রশ্নটি এড়াইয়া যাওয়া কঠিন তাহা হইল, অগ্রাধিকার যাহারা নির্ধারণ করেন তাহাদের মনোযোগ কেবল রাজধানীতেই নিবদ্ধ কেন? যাহারা ইতোমধ্যেই সারা দেশের তুলনায় অধিক সুবিধাপ্রাপ্ত তাহাদের আর কত সুবিধা দেওয়া হইবে? সুবিধাভোগী শ্রেণির পৃষ্ঠপোষকতা করাই সরকারের একমাত্র কাজ হইতে পারে না। অগ্রাধিকার নির্ধারণকালে ঢাকার বাহিরে যে বাংলাদেশ রহিয়াছে এবং সেখানে যে কোটি কোটি মানুষের বসবাস তাহাদের সুখ-সুবিধার দিকেও তাকাইতে হইবে। সেখানে কাজ হইতেছে না আমরা তাহা বলি না। তবে তাহা যে চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল, দুইটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনই তাহার অকাট্য উদাহরণ হইতে পারে। বলা প্রয়োজন যে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হইয়াছে ইতিমধ্যে। পাশাপাশি, ভারতের অর্থসহায়তায় কয়েকটি উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহের কাজও চলমান আছে। তবে সংকটের ব্যাপ্তি ও ভয়াবহতার তুলনায় গৃহীত উদ্যোগসমূহ মোটেও পর্যাপ্ত নহে। আমরা আশা করি, বিষয়টি নীতিনির্ধারক মহল যথাযথ গুরুত্বের সহিত গ্রহণ করিবেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৭ জুলাই, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৫৫
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৩
সূর্যোদয় - ৫:২১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন