সড়কগুলির এই বেহাল দশা কেন?
১৭ জুলাই, ২০১৭ ইং
মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড হইতে শিয়া মসজিদ মোড় পর্যন্ত যাইবার মূল সড়কের নাম বাঁশবাড়ি সড়ক। দৈর্ঘ্যে বড়জোর এক কিলোমিটার। স্বল্প দৈর্ঘ্যের এই সড়কে আছে ছোট-বড় শতাধিক গর্ত। ফলে, ভোগান্তি পোহাইতে হইতেছে মোহাম্মদপুরবাসীকে। গত কয়েক বত্সর ধরিয়াই সড়কটির এই হাল। কিন্তু সড়ক সংস্কারে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ তাহাদের চোখে পড়ে নাই। সড়কটি শেষ কবে সংস্কার হইয়াছে, তাহাও জানেন না তাহারা। তবে একজন স্থানীয় কাউন্সিলর জানান, সর্বশেষ ২০০৯-১০ সালে সড়কটির সংস্কার হইয়াছে। খানাখন্দে ভরা সড়কটিতে একটু বৃষ্টি হইলেই পানি জমে। গর্তে পড়িয়া প্রায়শই যাত্রীসহ রিকশা উল্টাইয়া যায়। বৃষ্টি বেশি হইলে এই রাস্তা দিয়া লেগুনাসহ ছোট যানবাহন চলাচলও বন্ধ হইয়া যায়, গর্তের কারণে পুরা সড়ক ব্যবহারের অনুপযোগী হইয়া ওঠে। ফলে সারা দিনই যানজট লাগিয়া থাকে। ১০ মিনিটের পথ যাইতে ঘণ্টা পার হয়। রিকশার চালকেরাও সহজে এই পথ মাড়াইতে চাহেন না।

এই বাস্তবতা কেবল মোহাম্মদপুরের নহে, ঢাকা শহরের সর্বত্রই প্রায় একই চিত্র। যানজটের রাজধানীতে খানাখন্দে ভরা বেহাল সড়ক নাগরিকদের জন্য বড় বিড়ম্বনা হইয়া দেখা দিয়াছে। গুলবাগ ও মালিবাগ এলাকার বাসিন্দারা ভাঙা রাস্তার কারণে চরম ভোগান্তির শিকার। রাজধানীর সেবা সংস্থাগুলির মধ্যে কোনোকালেই কোনো সমন্বয় ছিল না। ফলে রাস্তাঘাট যখন-তখন কাটা পড়ে। মালিবাগ-মগবাজার ফ্লাইওভার ও মেট্রো রেলের কাজ শুরু হইবার পর ঢাকার সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়াছে। যাত্রাবাড়ীর চিত্র আরও করুণ। রামপুরাবাসীরও একই দশা। স্বস্তিতে নাই পার্শ্ববর্তী সিদ্ধেশ্বরী, শান্তিনগর এলাকার লোকজন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাগুলির এমন বেহাল অবস্থা। পিচ, ইট-সুরকি, খোয়া উঠিয়া গিয়াছে। ছোট-বড় গর্তে ভরা। কবে নাগাদ সংস্কার হইতে পারে তাহাও জানা নাই কাহারো। আর কেবল রাজধানীর কথাই-বা কেন বলিব। রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা ইত্যাদি নগরে যাহারা বাস করেন তাহারাও জানেন রাস্তার ভোগান্তি কাহাকে বলে!

বস্তুত ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৬৯০ কিলোমিটার সড়কের অর্ধেকই খানাখন্দে ভরা। মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় ঢাকার রাজপথ ও অলিগলির এই হাল হইয়াছে। আগাম ভারী বর্ষণে এইবার রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ দেশের বেশিরভাগ জেলায় যেন হঠাত্ দুর্যোগ নামিয়া আসিয়াছে। দুর্ভোগ বাড়িয়াছে। খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে ভরা সড়কে ভারী বৃষ্টিপাতে পানি জমিয়া যাওয়ায় দূর হইতে বুঝিবার উপায় থাকে না সেইটি সড়ক, নাকি জলাশয়। খানাখন্দময় সড়ক ও মহাসড়কে পানি জমিয়া বিটুমিন উঠিয়া যাইতেছে। গাড়ি চলিতে গিয়া কোথায়ও বিকল হইতেছে, কোথায়ও উল্টাইয়া পড়িতেছে। প্রাণ যাইতেছে মানুষের। সবচাইতে বড় কথা, একটু মেরামত করিলেই যে সড়কগুলি ব্যবহারোপযোগী থাকিত এবং জনদুর্ভোগ কমিত যথাসময়ে সেই কাজটি না করায়, সড়কগুলির ক্ষতির মাত্রা বাড়িতেছে। ফলে যখন টেন্ডার করিয়া মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হইবে, ততদিনে মানুষের নাভিশ্বাস তো উঠিবেই, সরকারি তহবিল হইতেও গুনিতে হইবে বহুগুণ বেশি অর্থ। আমরা এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাইতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু পদক্ষেপ প্রত্যাশা করি।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৭ জুলাই, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৫৫
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৩
সূর্যোদয় - ৫:২১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন