দূষণ ও দারিদ্র্য
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
কুমিল্লার মুরাদনগরে তিন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি অস্বস্তিকর সমস্যার মধ্যে পড়িয়াছে। তাহাদের স্কুল-সংলগ্ন ময়লার ভাগাড় হইতে সৃষ্টি হইতেছে উত্কট দুর্গন্ধ। আর তাহাতে ওই তিন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করাটাই এখন এক ধরনের বিভীষিকায় পরিণত হইয়াছে। ইত্তেফাকে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন হইতে জানা যায়, মুরাদনগরে ডিআর সরকারি উচ্চ রোড নামে পরিচিত গোমতি নদীর বেড়িবাঁধ সড়কটির দক্ষিণ পার্শ্বে একটি ডোবাসহ পতিত জায়গা ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হইয়াছে। আর ইহার পার্শ্বেই রহিয়াছে মুরাদনগর ডিআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডিআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস, নূরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং মুরাদনগর থানা। ময়লার ভাগাড় হইতে সৃষ্ট দুর্গন্ধের মাত্রা কখনো-সখনো অতি তীব্র হইলে ক্লাসরুমেই শিক্ষার্থীদের বমি করিবার মতো ঘটনা ঘটিয়া থাকে। স্কুল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমস্যার কথা জানাইবার পরও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয় নাই।

মুরাদনগরের এই সমস্যার দিকে দৃষ্টি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশ্ন জাগিতে পারে—এই ধরনের সমস্যা কোথায় নাই? বাস্তবিক অর্থে, এই বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গিয়াছে—মুরাদনগর কেবল একটি দৃষ্টান্ত মাত্র। যেমন—চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের পার্শ্ববর্তী ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আর্তি জানাইয়াছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে ডাস্টবিন না থাকিলেই কি নয়? মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পার্শ্বেই রহিয়াছে ময়লা ফেলিবার ডাস্টবিন। স্কুলের দরজা জানালা বন্ধ করিয়াও দুর্গন্ধ হইতে রেহাই পাইতেছে না শিক্ষার্থীরা। বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর বাজার জামে মসজিদ ও আমিনা ময়েন আলিম মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষের জানালার পার্শ্বেই গড়িয়া উঠিয়াছে আবর্জনার স্তূপ।

বিদ্যালয় ছাড়াও ময়লা-আবর্জনার ব্যাপারে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরের চিত্র খুব উজ্জ্বল নহে। ঢাকা মহানগরীর ময়লা-আবর্জনার কথা সর্বজনবিদিত। ইহার বাহিরে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার শিরোনামই বলিয়া দেয় দেশের প্রকৃত অবস্থা। যেমন—দেড়শ বছরের দিনাজপুর পৌরসভা এখন ময়লার ভাগাড়। আবর্জনার শহর রাজশাহী! নোংরা ও দুর্গন্ধে ময়মনসিংহ শহরে টেকা দায়। গাইবান্ধা পৌরসভার খোলা জায়গায় ফেলা হয় ময়লা আবর্জনা। টাঙ্গাইলের প্রবেশপথে ময়লার ভাগাড়। জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে ময়লা-আবর্জনা ফেলিতেছে পৌর কর্তৃপক্ষ ইত্যাদি। এমন উদাহরণের শেষ নাই। শেষ নাই আমাদের অসচেতনতা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতারও। সমাজবিজ্ঞানীরা বলিয়া থাকেন, দরিদ্রতা এক ধরনের দূষণ তৈরি করে। দারিদ্র্যের কারণে মানুষের ভিতরে সচেতনতা তৈরি হয় না, দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতারও বালাই থাকে না। এতদসঙ্গে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা তো আছেই, কিন্তু করিত্কর্মা কর্তৃপক্ষ থাকিলেও দরিদ্র মানুষ ঘুরিয়া ফিরিয়া পুনরায় দূষিত করিয়া তোলে পরিবেশ। সুতরাং এই ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সচেতনতার পাশাপাশি দূর করিতে হইবে দারিদ্র্য। দারিদ্র্য নির্মূলে সরকারের রহিয়াছে দীর্ঘমেয়াদী বহু ধরনের পদক্ষেপ। দারিদ্র্য নির্মূলের পাশাপাশি শিক্ষারও বিকল্প নাই। দেশবাসীর মধ্যে সিভিক সেন্স তথা সুনাগরিক বোধ তৈরি করিতে এইসকল বিষয় অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।     

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন