সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিত্সা
২৭ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাইতেছে। বিশেষত প্রতি বত্সর দুই ঈদের অবকাশকালে ইহা যেন মহামারি আকার ধারণ করে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ঈদুল ফিতরে ঈদের আগে ও পরে মোট ১৩ দিনে ২০৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত ও ৮৪৮ জন আহত হইয়াছেন।  আর গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৮৯ দিনে মোট নিহত হইয়াছেন ১৮১০ জন। এই হিসাবে অতি সমপ্রতি প্রতিদিন প্রায় ১০ জন করিয়া লোক মারা গিয়াছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। এই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আমাদের বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হইবে নিঃসন্দেহে। তবে দুর্ঘটনাস্থলে তত্ক্ষণাত্ প্রাথমিক চিকিত্সা প্রদান করিতে পারিলে কিংবা আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে পারিলে অনেক সময় নিহতের সংখ্যা কমানো অসম্ভব নহে। কেননা সড়ক দুর্ঘটনার পর অনেকে অবহেলায় ও দীর্ঘক্ষণ পড়িয়া থাকিয়া রক্তক্ষরণেই মৃত্যুমুখে পতিত হন। তাই সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিত্সার ব্যাপারে আমাদের এখন ভাবিবার সময় আসিয়াছে।

আশার কথা হইল, সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিত্সা সেবা নিশ্চিত করিতে বেসরকারি উদ্যোগ পরিলক্ষিত হইতেছে। ট্রমালিংক নামের একটি সংস্থা ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের সুবিধার্থে মানিকগঞ্জে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ২০ কিলোমিটার এলাকায় দুর্ঘটনাপ্রবণ স্পটগুলিতে নিজেদের টিম মোতায়েন করিয়াছে। সেখানে তাহাদের স্বেচ্ছাসেবীরা ফাস্ট এইড বক্সসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়া প্রস্তুত রহিয়াছেন এবং দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তাহারা ছুটিয়া যাইতেছেন ঘটনাস্থলে। ইহার আগেও তাহারা কুমিল্লার দাউদকান্দি ও চান্দিনা এলাকায় কয়েকশত আহত ব্যক্তিকে বিনামূল্যে চিকিত্সাসেবা প্রদান করিয়াছেন। ইহাতে অনেককে বাঁচানো সম্ভব হইয়াছে। রক্ষা করা হইয়াছে পঙ্গুত্বের হাত হইতে। আমাদের দেশে এই ধরনের উদ্যোগ বলিতে গেলে নূতন। বেসরকারি খাতে এই ধরনের আরো উদ্যোগকে উত্সাহিত করা প্রয়োজন। সরকার ঈদসহ পূজা-পার্বণের ছুটির সময়ে সড়ক-মহাসড়কে যানজটের ভোগান্তি হইতে রক্ষায় যেভাবে বিশেষ টিম মোতায়েন করিয়া থাকে, সেইভাবে ও তত্সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের সেবায় বিশেষ ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিমও মোতায়েন করিতে পারে।

সরকারি তথ্যানুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে প্রতি বত্সর চার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ইহাতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ পাঁচ হাজার কোটি টাকা। তবে ইহাতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক যে ক্ষতি সাধিত হয় তাহা এককথায় অপূরণীয়। ইহার কারণে একটি পরিবারে হঠাত্ করিয়া নামিয়া আসে বিপর্যয়। সেই শোক গোটা পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের বুকে শেলের মতো বিঁধিয়া থাকে সারাজীবন। কেহ কেহ চিরদিনের জন্য পঙ্গু হইয়া যান যাহা তাহার পরবর্তী জীবনকে করিয়া তোলে দুর্বিষহ। যদি সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিত্সার ব্যবস্থা করা যায়, তাহা হইলে এই দুঃখ-কষ্ট কিছুটা হইলেও লাঘব হইতে পারে। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী শতকরা ৩৮ ভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে ন্যাশনাল হাইওয়েগুলোতে এবং ১২ ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে আঞ্চলিক সড়কসমূহে। অতএব, সড়ক-মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলিতে আসন্ন ঈদের ছুটির সময়ে ২৪ ঘণ্টা বিশেষ ও জরুরি মেডিক্যাল টিম মোতায়েন করা হউক। একই সঙ্গে আশেপাশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলিকেও জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন