বৃক্ষ রোপণের এই উত্সব স্থায়ী হউক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
চুয়াডাঙ্গা জেলায় গত শনিবার এক ঘণ্টায় সাড়ে ৭ লক্ষ বৃক্ষ রোপণ করা হইয়াছে। জেলা প্রশাসকের আহ্বানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বৃক্ষ রোপণ উত্সবে যোগ দেন। জেলার চারটি উপজেলার সর্বত্র শনিবার দুপুর ১২টা হইতে ১টা পর্যন্ত বৃক্ষ রোপণের আহ্বান ইতিপূর্বেই জানানো হইয়াছিল; এবং তিন-চারদিন ধরিয়া জেলার সার্কিট হাউস, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলি হইতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে বিনামূল্যে গাছের চারা প্রদান করাও হইয়াছিল। চুয়াডাঙ্গার আবহাওয়া চরমভাবাপন্ন। এখানে শীতের সময় শীত বেশি ও গরমের সময় গরম। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখিবে নিঃসন্দেহে। মাত্র এক ঘণ্টায় সাড়ে ৭ লক্ষ বৃক্ষ রোপণের ঘটনা দেশ ও দেশের বাহিরে এই প্রথম বলিয়া দাবি করিয়াছেন জেলা প্রশাসক। যদিও উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায়, গ্রিন ফেস্টিভ্যাল, করিয়া সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ১ ঘণ্টায় সাড়ে ৪ লক্ষ ফলদ গাছের চারা রোপণ করিয়াছিলেন চট্টগ্রামের রাউজানবাসী। স্পষ্টতই এক ঘণ্টায় এতগুলি বৃক্ষরোপণের মধ্যে চটকদারিত্ব ও অভিনবত্ব থাকিলেও আমাদের বলিতেই হইবে, বৃক্ষরোপণ বিষয়ে সার্বিকভাবেই মানুষের সচেতনতা বাড়িয়াছে। বিভিন্ন অঞ্চলে সামাজিক প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ আজকাল নিয়মিতই নেওয়া হয়। একদিকে যেমন জনসংখ্যার চাপে প্রাকৃতিক বনভূমি উজাড় হইতেছে, কিন্তু অন্যদিকে তেমনই গত দুইযুগ ধরিয়া সামাজিক বনায়ন বাড়িতেছে। সড়ক-মহাসড়কের পাশে, পতিত জমিতে, বাড়ির আঙিনায়, এমনকি শহুরে মানুষের ঘরের ছাদে নানা প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হইতেছে। উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ, মধ্যাঞ্চল যেইদিকেই আমরা তাকাই না কেন এই চিত্র চোখে পড়িবে। বিশ্ব জুড়িয়া মরুকরণ ও উষ্ণায়নের এই কালে মানুষের এইরূপ সচেতনতা আমাদের আশ্বস্ত করে— আমাদের জীবন ও প্রতিবেশের জন্য বিভিন্ন বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তার কথা মানুষ বুঝিতে শিখিয়াছে। ইহা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের।

যদিও চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জানাইয়াছেন যে, রোপিত বৃক্ষগুলির যথাযথ দেখভালের দিকেও উপযুক্ত মনোযোগ প্রদান করা হইবে, কিন্তু এই ব্যাপারে আশঙ্কা থাকিয়াই যায়। বাস্তব অভিজ্ঞতা আমাদের ভিন্নরূপ। কারণ রেকর্ড সৃষ্টি করিবার বাসনা, রোপিত বৃক্ষগুলির যত্নআত্তির দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তিকর প্রক্রিয়াকে ছাপাইয়া যাইতে পারে। বিভিন্ন নদী ও বিলে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, বা এই ধরনের চমকপ্রদ উদ্যোগগুলির পরিণতি সচরাচর খুব একটা আশাব্যঞ্জক হয় না। তবু আমরা এই সকল উত্সাহব্যঞ্জক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাইব। কারণ, প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য বিনাশী উন্নয়ন ও স্বার্থান্বেষী তত্পরতাগুলির বিপরীতে এই সকল উদ্যোগ মানুষের মনে আশা সঞ্চার করে। প্রাণ ও প্রকৃতির মেলবন্ধন ঘটাইতে তাহাদের উত্সাহিত করে। তাই, একই সঙ্গে আশা করিব, রোপিত বৃক্ষচারাগুলি সাময়িক উচ্ছ্বাস ও প্রচারণার বলি না হইয়া বরং উপযুক্ত যত্ন ও পরিচর্যা পাইয়া মহীরুহে রূপান্তরিত হইবে। আমরা আশা করিব, ক্রমাগত মরুকরণের বিরুদ্ধে সবুজায়নের এই প্রচেষ্টাগুলি আরও বিস্তৃত ও বেগবান হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন