বিদ্যালয় ভবনের জরাজীর্ণতা কাম্য নহে
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
সংস্কারের অভাবে মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলায় ৮৩টি ও বরগুনার আমতলী উপজেলায় ৩৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হইয়া উঠিয়াছে। ছাদ ও দেওয়াল হইতে খসিয়া পড়িতেছে পলেস্তারা। সামান্য বৃষ্টিতেই ভবনগুলির ছাদ চুয়াইয়া পানি পড়ে। শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখিতে কোনো কোনো বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিরুপায় হইয়া ভবনগুলির ছাদের নিচে পলিথিন টাঙাইয়া কিংবা পাশের বাড়িতে পাঠদান করিতেছেন। সমপ্রতি প্রকাশিত ইত্তেফাকের একটি প্রতিবেদন হইতে জানা যায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক হইয়া পড়িয়াছে। যেই কোনো মুহূর্তে ধসিয়া পড়িতে পারে—এই আশঙ্কায় তিন বত্সর পূর্বে বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হইয়াছে। কিন্তু অদ্যাবধি নূতন করিয়া সেইখানে কোনো ভবন নির্মাণ কিংবা পুরাতন ভবনটির সংস্কার করা হয় নাই। এমতাবস্থায় ভগ্নদশা ভবনের বারান্দা কিংবা খোলা আকাশের নিচেই বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চলিতেছে।

মানিকগঞ্জ, আমতলী কিংবা হাটহাজারী কেবল উদাহরণ মাত্র। জানা যায়, দেশে এই ধরনের জরাজীর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। ২০০৩ সালে পরিচালিত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক সমীক্ষা অনুযায়ী দেশের ৩৭ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০ হাজার প্রতিষ্ঠান ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। ইহার মধ্যে কিছু ভবন সংস্কার হইয়াছে। আবার নূতন করিয়াও অনেক ভবন জরাজীর্ণ হইয়া পড়িয়াছে। তাহা ছাড়াও সাম্প্রতিককালে নূতন করিয়া সরকারিকরণ হইয়াছে ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়। এইসব বিদ্যালয়েরও অনেক ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ। অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এইসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরাইয়া আনিতে ২০১২ সালে একটি প্রকল্প গৃহীত হয়। কিন্তু প্রকল্পটির আওতাভুক্ত বিদ্যালয়ের অর্ধেক ভবনই নির্মাণ করা হয় নাই বলিয়া জানা যায়। উপরন্তু মেয়াদ ও ব্যয় বাড়িলেও অদ্যাবধি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত গতি লক্ষ করা যায় নাই। অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনগুলি নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ করে এলজিইডি, কিন্তু তাহাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অভিযোগের অন্ত নাই। কেননা, নিম্নমানের কাজের ফলে অল্প সময়ের মধ্যে এইসব ভবন জরাজীর্ণ হইয়া পড়িবার দৃষ্টান্ত ভূরি ভূরি।

আমরা জানি, শিক্ষার প্রতি বর্তমান সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়া থাকে। ফলে প্রাথমিকে বর্তমানে শিক্ষার্থী ভর্তির হার বৃদ্ধি পাইয়া প্রায় ৯৮ শতাংশে পৌঁছাইয়াছে। কিন্তু অনুকূল পরিবেশে পাঠদানের নিমিত্তে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা না হইলে, স্বভাবতই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরিয়া রাখিবার অনিশ্চয়তা বহুলাংশে বাড়িয়া যায়। এমনকি জরাজীর্ণ এইসব ভবন ধসিয়া পড়িয়া প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনার আশঙ্কাও উড়াইয়া দেওয়া যায় না। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এইসব বিদ্যালয় ভবন সংস্কার অথবা নূতন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। এই ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রহিয়াছে। প্রাথমিক পর্যায়েই ভবনগুলিকে সংস্কার করা হইলে কোনো ভবনই নির্মাণের কয়েক বত্সরের মধ্যে এতটা জরাজীর্ণ হইয়া উঠিত না। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টিকে গুরুত্বের সহিত গ্রহণ করিবেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন